মেইন ম্যেনু

ছাত্রীর কান কেটে এবার না.গঞ্জে শিক্ষক রোষানলে

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জে প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত গণধোলাই ও সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে কান ধরে উঠ-বসের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বেতের আঘাতে ছাত্রীর কান কেটে রোষানলে পড়েছেন বন্দর উপজেলার মিরকুন্ডি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আলমগীর হোসেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘটনার পর পলাতক রয়েছেন ওই শিক্ষক। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী স্কুলে জড়ো হলেও খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুরে বন্দর উপজেলার মিরকুন্ডি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস নেয়ার সময় পড়া না পারার অপরাধে ছাত্রী মারুফা আক্তারকে (১১) এলোপাতাড়িভাবে বেত্রাঘাত করেন সহকারী শিক্ষক আলমগীর হোসেন। এসময় বেত্রাঘাতে ওই ছাত্রীর কান কেটে রক্তক্ষরণ হতে থাকে। পরে ওই ছাত্রীর আর্তচিৎকারে অন্যান্য শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়।

এদিকে, শিক্ষকের বেতের আঘাতে ছাত্রীর কান কেটে গেছে- এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে স্কুলে জড়ো হতে থাকে এলাকাবাসী। পরে উত্তেজিত জনতা স্কুলে আসছে শুনে আগেই পালিয়ে যান ওই শিক্ষক। অভিযুক্ত শিক্ষক আলমগীর সাবদী এলাকার মুসলে উদ্দিনের ছেলে।

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম জানান, মিরকুন্ডি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক শিক্ষকের বেত্রাঘাতে ছাত্রীর কান কেটে যায়। এমন খবরে উত্তেজিত জনতা স্কুলে অবস্থান নেয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক রয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ১৩ মে প্রথমে শিক্ষার্থীকে মারধর করার অভিযোগ পরে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটুক্তির অভিযোগ এনে নারায়ণগঞ্জের কলাগাছিয়া ইউনিয়নের কল্যান্দির পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে গণপিটুনি দেয়ার পর কান ধরে উঠবস করানো হয়। আর এ কাজে নারায়ণগঞ্জ-৪ (শহর ও বন্দর) আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান সরাসরি মদদ দেন বলে অভিযোগ ওঠে।