মেইন ম্যেনু

ছাত্রী উত্ত্যক্তের ঘটনায় ডাকা বৈঠকে ছাত্রলীগের হামলা

লক্ষ্মীপুরের মান্দারীতে জিল্লুর রহিম কলেজে এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্তের ঘটনায় ডাকা বৈঠকে ছাত্রলীগ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় কলেজে ভাঙচুরও চালানো হয়। লাঞ্ছিত হন কয়েকজন শিক্ষক।

আজ রোববার সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে দিয়ে কলেজের ফটকের কলাপসিবল গেটে তালা লাগিয়ে দেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে চন্দ্রগঞ্জ থানার পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কলেজের শ্রেণিকক্ষে একা বসে ছিলেন প্রথম বর্ষের এক ছাত্রী। (তিনি এক সেনা সদস্যের স্ত্রী)। এ সময় নাইমুল ইসলাম হিমেল নামের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্র একা পেয়ে ওই ছাত্রীকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত ও টানা-হেঁচড়া করে।

এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর দেবর কলেজে এসে ঘটনার প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হিমেল, তাঁর সহপাঠী মান্দারী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি রাসেল, চন্দ্রগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক তালেবসহ কয়েকজন ওই ছাত্রীর দেবরকে কলেজ মাঠে বেদম মারধর করে।

এ ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষ আজ রোববার সকালে উভয়ের অভিভাবক ও পরিচালনা পরিষদের সদস্যদের নিয়ে বৈঠকে বসে। এ সময় বৈঠকের সিদ্ধান্তে ক্ষিপ্ত হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু তালেবের নেতৃত্বে হিমেল, রাসেলসহ ১০-১২ জন বহিরাগত ছাত্রলীগকর্মী কলেজে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে শ্রেণিকক্ষ থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বের করে দিয়ে কয়েকটি জানালা ভাঙচুর করে।

কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মিজানুর রহিম বলেন, কলেজে এসে বহিরাগতদের হামলা-ভাঙচুর ও ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। এতে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানাই।

কলেজের অধ্যক্ষ কমল কৃষ্ণ সাহা বলেন, ‘ছাত্রীকে উত্ত্যক্তের ঘটনা নিয়ে সকালে উভয়পক্ষের অভিভাবকরা আমার কক্ষে বৈঠকে বসেন। এ সময় ছাত্রলীগের কয়েকজন বহিরাগত নেতাকর্মী ইভ টিজিংয়ের সঙ্গে জড়িত ছাত্র ও তার অভিভাবককে বৈঠক থেকে ডেকে নিয়ে যায়।

‘একপর্যায়ে তারা জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে কলেজের দ্বিতল ভবনের শ্রেণিকক্ষের কয়েকটি জানালা ভাঙচুর করে ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এ সময় শিক্ষকদের সঙ্গেও অশোভন আচরণ করা হয়’, যোগ করেন অধ্যক্ষ।

এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি চৌধুরী মাহমুদুন্নবী সোহেল জানান, এ ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সত্যতা পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুর রহমান মিয়া জানান, ইভ টিজিং ও হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষ লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।