মেইন ম্যেনু

ছারপোকা মারতে শরীরে আগুন

মশা মারতে কামান দাগানোর কথা আমরা শুনেছি বহুবার।এটি আর এখন নতুন নয়। কিন্তু ছারপোকা মারতে গায়ে আগুন দেয়ার কথা এর আগে কেউ শুনেছেন কি না তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে।সম্প্রতি এমনটাই ঘটেছে খোদ আমেরিকায়। তা-ও ডেট্রয়েটের মতো নাম্বর ওয়ান শহরে।

ফ্ল্যাটে এমনই ছারপোকার উত্‍‌পাত, বিছানায় শুয়ে অবধি শান্তি নেই। ছারপোকার কামড়ে অতিষ্ঠ সেই ব্যক্তি নিজেকে রক্ষায়, শেষেমেশ গায়ে অ্যালকোহল ঢেলে ফেলেন। পরে সিগারেট ধরাতে গিয়েই বিপত্তি। ছারপোকা মারতে গিয়ে, নিজেই মরছিলেন আর কী! সুখটান দেওয়ার আগেই গোটা গায়ে নিমেষে আগুন ধরে যায়। ছারপোকার জ্বলন থেকে রক্ষা পেতে গিয়ে, এখন হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে দহন জ্বালায় মরছেন।

না, এটা কোনও ব্যতিক্রম ঘটনা নয়। দ্রুততায় নাকি বাড়ছে এই ‘নরখাদক’-এর দল। আমেরিকার প্রধান শহরগুলো কব্জা করে, রসেবসেই আছে তারা। লোক মরছে, তার আছে দিব্য।

ছারপোকা মারার বিষ ঘরে রেখেও স্বস্তি নেই। বিশেষত ঘরে বাচ্চাকাচ্চা থাকলে। গত বছর ফ্রেব্রুয়ারিতে পশ্চিম কানাডায় তো একটা বাচ্চা মারাই গেল! না জেনে মুখে দিয়েছিল ছারপোকার বিষ। শিশুটির বাকি চার ভাইবোন যদিও যমে-মানুষে লড়াইয়ের পর হাসপাতাল থেকে বেঁচে ফেরে।

আগুন শুধু গায়ে নয়, ছারপোকার উস্কানিতে পুড়ছে গাড়িও। গত বছর এপ্রিলে স্কট কেমেরিও নামে এক ব্যক্তি তো ছারপোকা মারতে গিয়ে ভাড়ায় নেওয়া গাড়িতেই আগুন ধরিয়ে ফেলে।

নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা স্কট ছারপোকাকে নির্বংশ করতে গিয়ে গাড়িতে অ্যালকোহল ঢেলেছিলেন। পরে সিটে বসে সিগারেট জ্বালার মুহূর্তে একই ভাবে গোটা গাড়িতে আগুন ধরে যায়।

কেউ কেউ তো আবার ইলেকট্রিক হিটারে ঘরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে ছারপোকা মারার চেষ্টা করছে।কিন্তু, তাতেও দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন দমকলের কর্মীরা। কারণ, ১৩৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় ঘরের অন্য জিনিসেও আগুন ধরে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তাই, দমকলকর্মীদের আগাম জানিয়ে, অনুমতি নিয়ে, ঘর খালি করে, ছারপোকা মারতে হবে।

ছারপোকার উত্‍‌পাত রয়েছে আমেরিকার এমন ১৫টি শহরের একটি তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে মিডিয়ায়।



« (পূর্বের সংবাদ)