মেইন ম্যেনু

ছুটির দিনে কমলাপুরে উপচে পড়া ভিড়

ঈদে প্রিয়জনের স্বান্নিধ্য পেতে কমলাপুর স্টেশনে অগ্রিম ট্রেনের টিকিটের আশায় ভিড় জমিয়েছে শত শত মানুষ। কাক্সিক্ষত টিকিট পেতে অনেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকেই স্টেশনে লাইন দিয়েছে।

যদি কাক্সিক্ষত টিকিটটি হাতে না পায় তাহলে হয়তো প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দটাই ভাগাভাগি হবে না। তাই কেউ কেউ রাত কাটিয়েছে তাস খেলার আড্ডায়, কেউ আবার পত্রিকা পড়ে, কেউ আবার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে।

শুক্রবার সকালে দেখা যায়, কমলাপুর রেল স্টেশনের কাউন্টারগুলোর সামনে একের পেছনে এক মানুষ পিঁপড়ের মতো লাইনে দাঁড়িয়েছেন। লাইন বেঁকে প্লাটফর্মের বাইরে চলে গেছে। আজ দেওয়া হচ্ছে ২৩ সেপ্টেম্বরের টিকিট। আর মাত্র একদিন ট্রেনের অগ্রিম টিকিট পাওয়া যাবে। ১৯ সেপ্টেম্বর দেওয়া হবে ২৪ সেপ্টেম্বরের অগ্রিম টিকিট। তাই গত কয়েকদিনের চেয়ে আজ অগ্রিম টিকিটের জন্য লাইনের সারিটাও হয়েছে বেশ বড়।

অগ্রিম টিকিটের জন্য বাড্ডা থেকে এসেছেন রাহাত মল্লিক। তিনি পরিবার নিয়ে দিনাজপুর যাবেন ঈদ করতে। চারটা টিকিট প্রয়োজন। তাই তিনি গতকাল রাত ১২টার পর থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর দ্রুতযান এক্সপ্রেস কাউন্টারের সামনে লাইন দিয়েছেন। সারারাত টিকিটের আশায় না ঘুমিয়ে পার করেছেন। কারণ তার টিকিট লাগবেই।

তিনি বলেন, আজকে ২৩ সেপ্টেম্বরের ট্রেনের টিকিট কিনতে লাইনে দাঁড়িয়েছি। শত কষ্ট হলেও আমার টিকিটগুলোর অনেক প্রয়োজন তা না হলে পরিবার নিয়ে গ্রামে যাওয়া হবে না।
শাহজাহানপুরের আরেক যাত্রী হাবিবুর রহমান ভোর সাড়ে ৫টায় অগ্রিম টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছেন। তবে টিকিট পাবেন কিনা এমন শংকাও কাজ করছে তার মধ্যে।

তিনি বলেন, লাইনে দাঁড়িয়েছি; কাক্সিক্ষত টিকিটটি হাতে পেলে সব ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে।

এমনই আরো অনেকে সারারাত না ঘুমিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন, অবশেষে হাতে টিকিট পাওয়ার পর সারারাতের কষ্ট ভুলে মুখে হাসি দেখা গেছে তাদের।

তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পর টিকিট হাতে পেয়ে সব ক্লান্তি যেনো দূর হয়ে গেছে অপেক্ষমান এসব যাত্রীদের।

রংপুর এক্সপ্রেসের সামনে দাঁড়িয়েছেন মাহবুব। তিনি থাকেন কেরানীগঞ্জে। যাবেন রংপুরে। সারারাত না ঘুমিয়ে কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘রাত ১ টায় এসে লাইন দিয়েছি। এখন টিকিট হাতে পাওয়ার পর অনেক ভালো লাগছে। সব ক্লান্তি যেনো দূর হয়ে গেছে।’