মেইন ম্যেনু

ছুটি পেয়েও বাড়ি ফিরছেন না বিএসএফ জওয়ানরা! কেন জানেন?

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শত্রুর সঙ্গে যতন তখন লড়াই করা। মাসের পরে মাস প্রিয়জনের মুখ দেখতে পান ওঁরা। তাই অপেক্ষায় থাকেন, কখন ছুটি পেয়ে বাড়ি ছুটি ফিরবেন। সেনাদের জীবনটা তো এমনই। কিন্তু উরিতে জঙ্গি হামলা যেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রকৃত চরিত্রটা আরও একবার দেশবাসীর সামনে নিয়ে এল।

তাঁরা বোঝাচ্ছেন, তাঁদের উপর ভরসা করতে পারে গোটা। পরিবারের থেকেও ভারতীয় সেনাদের কাছে তাঁদের দেশের নিরাপত্তা অনেক আগে। উরির ঘটনার পরে তাই ছুটি পেয়েও পরিবারের কাছে না ফিরে দায়িত্ব পালন করার কথা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিএসএফ-এর একাধিক পুরুষ এবং মহিলা জওয়ানরা। তাঁদের সাফ কথা— আগে উরির হামলার বদলা নিয়ে পাকিস্তানকে উচিত শিক্ষা দেবেন, তার পরে বাড়ি ফিরবেন। বিএসএফ জওয়ানদের এই মনোভাব যেন সিনেমার গল্পকেও হার মানায়।

একটি সর্বভারতীয় হিন্দি দৈনিকে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, জম্মু-কাশ্মীর সীমান্ত পাহারার দায়িত্বে থাকা অধিকাংশ সেনা জওয়ানেরই এখন এই মনোভাব। যেমন বিএসএফ-এর কনস্টেবল এস ভোরা। বেশ কয়েকমাস পরে বিএসএফ হেডকোয়ার্টার থেকে এই কনস্টেবলের ছুটি মঞ্জুর হয়েছিল। বাড়ি ফেরার ট্রেনের টিকিটও কনফার্ম হয়ে গিয়েছিল। এরই মধ্যে উরি কাণ্ড ঘটে। জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারান ১৮ সেনা জওয়ান।

এর পরেই বাড়ি না ফেরার সিদ্ধান্ত নেন ওই কনস্টেবল। উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ছুটি না নেওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করলে এস ভোরা স্পষ্ট জানান, পাকিস্তানকে উচিত শিক্ষা দিয়ে তবেই ছুটি উপভোগ করতে বাড়ি ফিরবেন তিনি। শুধু এই কনস্টেবল একা নন, জম্মু-কাশ্মীরের ফিরোজপুর এলাকায় পাক সীমান্তে দায়িত্বে থাকা একাধিক বিএসএফ জওয়ানের বক্তব্য উল্লেখ করে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অধিকাংশ জওয়ানই এই পরিস্থিতিতে ছুটি পেলেও বাড়ি না ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তাঁদের এখন একটাই লক্ষ্য, পাকিস্তানকে উচিত শিক্ষা দেওয়া। নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর তৈরি হওয়া উত্তেজনার মধ্যে যে কোনও পরিস্থিতিতে দেশের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে চান তাঁরা। তার জন্য প্রিয়জনদের ভুলে থাকতেও মানসিকভাবে প্রস্তুত জওয়ানরা।

শুধু বিএসএফ-এর পুরুষ সদস্যরাই নন, বিএসএফ-এ কর্মরত মহিলা জওয়ানরাও একই ধরনের মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছেন। রাজস্থানের ববিতা খাদের, অনিতা মীনা, মধ্যপ্রদেশের সীমা অঙ্গল-রা গত চার বছর ধরে বিএসএফ চাকরি করছেন। তাঁদের কর্মজীবনে এই প্রথমবার ভারত-পাক সীমান্তে এমন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই এই মহিলা জওয়ানদের পরিবারের সদস্যরা ফোন করে তাঁদের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

কারও বাড়ির লোক ছুটির আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছেন, কারও ক্ষেত্রে পরিবারের লোক সীমান্তে পাহারার বদলে অফিসের কোনও কাজ করার জন্য এই মহিলা কর্মীদের অনুরোধ করছেন। কিন্তু বিএসএফ-এর এই মহিলা জওয়ানরা নিজেদের পরিবারের সেই সব পরামর্শ বা অনুরোধ কানে তুলতে নারাজ। প্রতিদিন অস্ত্র হাতে ভারত-পাক সীমান্তে পাহারা দিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। নিজেদের জীবনের ঝুঁকি সত্ত্বেও দেশেরে নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করতে নারাজ তাঁরা।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন অংশে ভারত-পাক সীমান্তে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সেনা জওয়ানদের মধ্যে এখন একই ধরনের আবেগ কাজ করছে। রাজনীতিবিদরা কূটনৈতিক রণকৌশল ঠিক করতে ব্যস্ত, সেনাবাহিনীর জওয়ানরা আপাতত একটা লক্ষ্যেই অনড়— পাকিস্তানকে উচিত শিক্ষা দিতে হবেই!