মেইন ম্যেনু

ছেলেকে সেমাই-রুটি খাওয়ানো হলো না ঝর্ণার

দেশে সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত হয় কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহে। যথারীতি ভোর থেকেই মুসল্লিরা ঈদগাহে নামাজ পড়তে আসছিল। এদিকে খতিব ফরিদউদ্দিন মাসুদ ঢাকা থেকে সকাল সোয়া ৯টায় হেলিকপ্টার করে আজিমুদ্দীন স্কুল মাঠে নামে। এর সঙ্গে সঙ্গেই একদল সন্ত্রাসীরা ককটেল হামলা চালায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিনত হয়ে যায়। এঘটনায় ২ পুলিশ সদস্য ও ১ নারীসহ ৪ জন নিহত হয়েছে।

নিহত ওই নরীর নাম ঝর্ণা রানী ভৌমিক। তার মৃত্যুর পর তারই এক প্রতিবেশী জানাচ্ছিলেন, ‘ভৌমিক বাড়ির কর্ত্রী ঝর্ণা রানী ভৌমিকও সেমাই রেঁধেছেন। রুটি বানানোর জন্য ময়দা মাখাচ্ছিলেন। এমন সময় চারদিকে গোলাগুলি। তখনই একটা প্রয়োজনে রান্নাঘর থেকে শোয়ার ঘরে যান ঝর্ণা। এ সময়ই জানালা দিয়ে একটা গুলি এসে ঠিক মাথায় লাগে তাঁর। ঘরের ভেতরেই পড়ে যান তিনি। মেঝে ভেসে যায় রক্তে। পরিবারের সদস্যদের তাকিয়ে তাকিয়ে তাঁর চলে যাওয়া দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না।’

ঝর্ণার বড় ছেলে বাসুদেব ভৌমিক ঢাকার একটি কলেজে শিক্ষকতা করেন। ছুটিতে বাড়ি এসেছেন। রান্নাঘরে মায়ের রান্না করা সেমাই আর ময়দার গোলা দেখিয়ে বাসুদেব বলছিলেন, ‘কেমন করে বিশ্বাস করব মা নেই। মায়ের ঘরটা ভেসে গেল মায়েরই রক্তে।’

বাসুদেব চোখ মোছেন আর একে-ওকে মায়ের হাতে গড়া শেষ খাবারটা দেখান।

ঝর্ণার স্বামীর নাম গৌরাঙ্গ ভৌমিক। গৌরাঙ্গর ভাই উপেন্দ্র ভৌমিক কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘রুটি বেলবে বলে আটা মাখছে। পোলায় লুঙ্গি চাইছিল। ঝর্ণা রান্নাঘর থেকে সেটা দিতে ঘরে যাওয়া মাত্রই জানালা দিয়া গুলি আইলো। আমরা সবাই তখন মেঝেতে শুইয়া আছিলাম। ক্যামনে কী হইয়া গেল।’

ঝর্ণার ছেলে বাসুদেব বলেন, ‘আমরা তো কারে সাতে-পাঁচে ছিলাম না। তবুও আমার মাকে এভাবে মরতে হলো।’