মেইন ম্যেনু

ছেলের খোঁজে গুলশানে হলি আর্টিজানের সামনে মা-বাবা

রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে জঙ্গি হামলার ঘটনায় রক্তাক্ত এক তরুণকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়ে যাচ্ছে। সাংবাদিকদের কাছে এমন ছবি দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন মাহমুদা বেগম ও আবদুস সাত্তার।

জানা যায়, রক্তাক্ত ওই ছেলেটির নাম জাকির হোসেন শাওন। তিনি হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে বাবুর্চির সহকারী হিসেবে কাজ করতেন।

মাহমুদা ও সাত্তার জাকিরের মা-বাবা। হামলার পর থেকে ছেলের কোনো খবর পাচ্ছেন না তারা। তাই আজ সোমবার দুপুরে জাকিরের একটি পাসপোর্ট সাইজের ছবি নিয়ে হলি আর্টিজানের সামনে হাজির হন তার মা-বাবা।

তাদের সঙ্গে ছিলেন আরো কয়েকজন স্বজন। পরিবারটিকে ছবি হাতে কাঁদতে দেখে সেখানে উপস্থিত কয়েকজন ফটোসাংবাদিক তাদের তোলা ছবিগুলো বের করেন।

পুলিশ নিয়ে যাচ্ছে এমন একটি রক্তাক্ত ছেলের ছবিকে জাকির বলে চিহ্নিত করেন তার মা-বাবা। তাদের কাছে পাসপোর্ট সাইজের ছবির সঙ্গেও এর মিল পাওয়া যায়।

মা মাহমুদা বলেন, ছেলে সেখানে বাবুর্চির সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। হামলার পর থেকেই তাকে খুঁজে পাচ্ছেন না। শাওনের খোঁজে কয়েকবার গুলশান থানা পুলিশের কাছে গেছেন।

পুলিশ ইউনাইটেড হাসপাতালে জাকিরকে খোঁজার কথা বলে। সেখানে গিয়ে তারা ছেলেকে পাননি। গতকাল রোববারও রাত দেড়টা পর্যন্ত তারা গুলশান থানায় বসে ছিলেন। কিন্তু পুলিশ ছেলে জাকিরের কোনো খোঁজ দিতে পারেনি।

মা-বাবার কাছে থাকা জাকিরের ছবি দেখে ঘটনাস্থলে থাকা সাংবাদিকরা রক্তাক্ত অবস্থায় এক তরুণকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ে যাওয়ার ছবিটি দেখান।

এ সময় ছেলেকে ফিরে পেতে আকুতি জানান মা-বাবা। তারা জানান, ছেলে ওই রেস্টুরেন্টে দেড় বছর ধরে বাবুর্চির সহকারী হিসেবে কাজ করতো।

মা মাহমুদা জানান, তাদের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের নয়াপাড়ার গুদনাইল এলাকায়। গত বৃহস্পতিবার ইফতারের পরে ছেলে জাকির ফোন করেছিল। জানিয়েছিল, ঈদের বোনাস পেয়েছে। রোববার বাড়ি আসবে।

বাবা আবদুস সাত্তার বলেন, তিনি নারায়ণগঞ্জে মেঘনা ডিপোতে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করেন। গত শনিবার টিভিতে জঙ্গি হামলার ঘটনা দেখেন। এরপর থেকেই ছেলের খোঁজ পাচ্ছেন না।

হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টের হিসাবরক্ষণ বিভাগের ব্যবস্থাপক সাজেদুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, জাকিরকে তারা হাসপাতালে শনাক্ত করেছেন। তাকে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হবে।

হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে জঙ্গিরা গত শুক্রবার রাতের বিভিন্ন সময় তিন বাংলাদেশিসহ ২০ জিম্মিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে।

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১৭ জন বিদেশি নাগরিক। এর মধ্যে সাতজন জাপানি, ইতালির নাগরিক নয়জন। একজন ভারতীয় নাগরিক।

শুক্রবার রাতে অভিযান চালাতে গিয়ে মারা গেছেন পুলিশের দুই কর্মকর্তা। শনিবার সকালে অভিযানে মারা গেছে ছয় সন্ত্রাসী। গ্রেপ্তার হয়েছে একজন। অভিযানে একজন জাপানি, দুজন শ্রীলঙ্কান ও ১০ বাংলাদেশিসহ ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।