মেইন ম্যেনু

ছেলের সঙ্গেই উচ্চ মাধ্যমিক পরিক্ষায় বসলেন মা-বাবা!

বিগত মাস দু’য়েক টানা দশ ঘণ্টা করে পড়েছেন তাঁরা৷ ইংরেজিতে কাঁচা৷ তাই সংসারের খরচ বাঁচিয়ে টিউশন নিয়েছেন আলাদা করে৷

ছেলের সঙ্গেই উচ্চ মাধ্যমিক পরিক্ষায় বসলেন এই মা-বাবা! ছেলের চেয়েও বেশি পেতে চান তারা।

দিন কাটিয়েছেন বন্ধুর মতো৷ কিন্তু প্রতিযোগিতাও আছে টানটান৷ আছে পরীক্ষায় এক অপরকে টেক্কা দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা৷ আর এসবের মধ্যে দিয়েই লেখা হয়ে গেল এক নতুন ইতিহাস৷ যখন ছেলের সঙ্গেই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসলেন মা-বাবা৷

নজিরবিহীন এই ঘটনা বাংলার নদিয়া জেলার৷ এ বছর পরীক্ষায় বসল বছর আঠেরোর বিপ্লব মণ্ডল৷ তার সঙ্গেই এবার পরীক্ষার্থী তাঁর বাবা বলরাম মণ্ডল ও মা কল্যাণী মণ্ডলও৷ একজনের বয়স ৪২, অন্যজনের ৩২৷ কিন্তু পড়াশোনার ক্ষেত্রে বয়স যে নেহাত সংখ্যামাত্র তা তাঁরা যেন প্রমাণ করে দিলেন নতুন করে৷

ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়েছিলেন বলরামবাবু৷ সংসারের রুটিরুজির জন্য ক্লাস নাইনেই পড়াশোনার পাট শিকেয় তুলতে হয়েছিল৷ কিন্তু পড়ার ইচ্ছেটা থেকেই গিয়েছিল৷ একই অবস্থা কল্যাণীরও৷ বলরামের সঙ্গে যখন তাঁর বিয়ে ঠিক হয়, তখন তিনি অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী৷

বিয়ের পর সংসার-সন্তান সামলে আর পড়াশোনা করা হয়নি৷ কিন্তু পরিণত বয়সে যখন সুযোগ হল, তখন আর তা হাতছাড়া করেননি কেউ৷ রবীন্দ্র মুক্ত বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাশ করেন দু’জনে৷ তারপর দু’জনেই ভর্তি হন হাজরাপুর হাই স্কুলে৷

সেই স্কুলেই পড়ে তাঁদের ছেলেও৷ স্কুলের প্রধান শিক্ষক এই দুই বয়স্ক ছাত্রের অধ্যাবসায়-আগ্রহ দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন৷ তারপর থেকেই তিনজন একসঙ্গে পড়াশোনা করেন৷

যদিও এর জন্য বাড়তি খাটতে হয়েছে বলরাম ও কল্যাণীকে৷ বলরামের চাষের জমি আছে৷ চাষবাস করেই পড়ার জন্য সময় বের করে নিতেন তিনি৷

কিছু পোষ্য আছে কল্যাণীর৷ তাদের লালন পালন আর সংসারের কাজ করেই পড়াশোনা করেছেন তিনি৷ তিনজনে মিলেই আজ গিয়েছেন পরীক্ষা কেন্দ্রে৷

মা-বাবার সঙ্গে পরীক্ষা দেওয়ার অনুভূতি কেমন৷ বিপ্লব জানাচ্ছে, এরকম সৌভাগ্য কজনের হয়? মা-বাবাকে সহপাঠী হিসেবে পেয়ে সে গর্বিত৷

তা বলে টক্কর থাকবে না নাকি! বিপ্লব জানাচ্ছে, ওঁদের দু’জনকে নম্বরে ছাপিয়ে সে যাবেই৷ ইংরাজিতে কাঁচা তো বটেই, ইতিহাস নিয়ে মনটা খুঁতখুঁত করছে বলরামের৷ তবে নিষ্ঠার জোরে পরীক্ষার ফলাফলের অনেক আগেই যেন তাঁরা পাশ করে গিয়েছেন৷ কে না জানে সব সাফল্য নম্বরের বিচারে হয় না!-সংবাদ প্রতিদিন