মেইন ম্যেনু

ছেলে অয়নকে মৃত্যুর মুখ থেকে ছিনিয়ে আনলেন বাবা ইমরান

‘‌হ্যালো, কে?’‌ ‘‌আমি ব্যাটম্যান। তুমি কি অয়ন?‌’‌.‌.‌.‌ আড়াই ‌বছর আগে‌ এভাবেই শুরু হয়েছিল একটি কথোপকথন। ৪ বছরের অয়নকে ফোন করেছিলেন স্বয়ং ব্যাটম্যান। আর ফাঁস করেছিলেন ‘‌সুপারহিরো’‌ হয়ে ওঠার রহস্য। এরপর ছ’‌মাস ধরে ব্যাটম্যানের পরামর্শ মতো সমস্ত ধাপ সফলভাবে পার করে অয়ন। হাসপাতাল, তেতো ওষুধ, ইঞ্জেকশন, সার্জারি, কেমোথেরাপি.‌.‌.‌ বড়রা সামলাতে হোঁচট খায়, এমন সবকিছুই হাসিমুখে পেরিয়ে আসে অয়ন হাশমি। হবে নাই বা কেন?‌ সে যে বলিউডের ‘‌সুপার ড্যাড’‌ ইমরান হাশমির ছেলে। ২০১৩ সালের শেষদিকে ছোট্ট অয়নের কিডনিতে ক্যান্সার বাসা বাঁধার খবর আসে। প্রাথমিক ধাক্কায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন হাশমি পরিবারের সদস্যরা। তবে মৃত্যুর মুখ থেকে ছেলেকে ছিনিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর হন ইমরান। কিন্তু ওইটুকু শিশুকে কীভাবে বোঝাবেন!‌ একদিন অয়নকে ‘‌গুডনাইট’ বলতে এসে ইমরান দেখেন, তার টেবিলে ব্যাটম্যানের‌ স্টিকার। মনে পড়ে যায়, অয়নের সবথেকে পছন্দের সুপারহিরো ব্যাটম্যান। ঘরে ফিরে সাজাতে থাকেন একটি পরিকল্পনা। এরপরই ফোন যায় অয়নের কাছে। ব্যাটম্যানের ফোন। বলা বাহুল্য, এই ব্যাটম্যান আর কেউ নন, ইমরান নিজেই। একটি ফোনেই তিনি ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করার যাবতীয় শক্তি জুগিয়ে দেন ৪ বছরের অয়নকে। এরপর ছ’‌মাসের লড়াইয়ের পর সুস্থ হয়ে ঘরে ফেরে সে। এখন সে আর পাঁচটা বাচ্চার মতোই স্বাভাবিক। বাবা-‌ছেলের এই কাহিনী প্রকাশ পাওয়ার পর বলি টাউনের সুপারহিরো হয়ে ওঠেন ইমরান। বন্ধু বিলাল সিদ্দিকির সাহায্যে অয়ন আর তার সুপারহিরোর গল্প নিয়ে বই লিখতে শুরু করেন তিনি। অবশেষে আগামী ৭ এপ্রিল প্রকাশিত হবে বইটি। নাম- ‘দ্য ‌কিস অফ লাইফ :‌ হাউ আ সুপারহিরো অ্যান্ড মাই সন ডিফিটেড ক্যান্সার’‌। বইটির প্রোমোশন করেছিলেন শাহরুখ খান এবং সালমান খান। বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও সংস্কৃতি মন্ত্রী কপিল শর্মা।

সূত্র: আজকাল