মেইন ম্যেনু

ছেলে কৃতকর্মের ফল ভোগ করেছে : মারজানের বাবা

গুলশান হামলার অন্যতম মাষ্টারমাইন্ড মারজান তার কৃতকর্মের ফল ভোগ করেছে বলে আক্ষেপ করেছেন তারা বাবা নিজাম উদ্দিন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারজানের মৃত্যুর খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। তবে মারজান দেশের বিরুদ্ধে কাজ করার ফল ভোগ করায় তারা স্বস্তি পেয়েছেন বলে জানান।

মারজানের বাবা বলেন, আমার ছেলে যে অন্যায় করেছে তার ফল সে ভোগ করেছে। কিন্তু আমার মেধাবী এ সন্তানকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। তাকে যারা জঙ্গি বানিয়েছে তাদের যেন শাস্তির ব্যবস্থা সরকার নেয়। আর ছেলের লাশ ঢাকা থেকে আনার সামর্থ্যও আমার নেই। সরকার যদি পৌঁছে দেয় তবে দাফনের জন্য লাশ গ্রহণ করব আমরা।

তিনি মারজানের এক মাস বয়সী শিশু কন্যা ও স্ত্রীকে ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ছেলে মৃত্যুর খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেও মারজান কৃতকর্মের ফল ভোগ করেছে এমন যুক্তিতে কোনো ক্ষোভ প্রকাশ করেননি তিনি। ছেলের কৃতকর্মের দায় না নিলেও মারজানকে যারা বিপথে নিয়ে গেছে তাদেরও কঠোর শাস্তির দাবি জানান তিনি।

মারজানের মা সালমা খাতুন কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমার ছেলে দেশের বিরুদ্ধে কাজ করেছে। তার কৃতকর্মের ফল সে পেয়েছে। কিন্তু তার স্ত্রী ও একমাস বয়সী শিশু সন্তানকে যেন সরকার আমাদের কাছে ফেরত দেয়।

প্রসঙ্গত, পাবনা সদর উপজেলার আফুরিয়া গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে মারজান গত বছরের জানুয়ারি মাসে সর্বশেষ বাড়িতে আসে। ওই সময় তার স্ত্রী প্রিয়তিকে সঙ্গে নিয়ে যাবার পর থেকে পরিবারের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ ছিল না তার। গুলশান হামলার পর গণমাধ্যমের সংবাদে মারজানের জঙ্গি পরিচয় জানতে পারেন তার পরিবার ও এলাকাবাসী। দরিদ্র পরিবারের মেধাবী ছাত্র মারজান গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া শেষ করে পাবনা শহরের বাশবাজারের আহলে হাদীস কওমী মাদরাসায় ভর্তি হন। পরে পাবনা আলীয়া মাদরাসা থেকে দাখিল ও আলিম পাশের পর চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগে শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় নব্য জেএমবিতে যোগ দেয় বলে জানান যায়।

উল্লেখ্য, পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত অপর জঙ্গি সাদ্দাম বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।