মেইন ম্যেনু

ছেলে সন্তান জন্ম দিতে না পারায় স্ত্রীদের ফেলে ভারতে পালালো দুই ভাই

বগুড়ার পল্লীতে ছেলে সন্তান জন্ম দিতে না পারায় দুই গৃহবধুকে ফেলে সপরিবারে ভারতে পালিয়ে গেছেন রাজ্য কর্মকার ও বাবলু কর্মকার নামে দুই ভাই।

প্রতারণার শিকার দুই গৃহবধূ হচ্ছেন- দীপালী রাণী কর্মকার (৩২) ও তপতি রাণী কর্মকার (২৯)।

স্বামী, সন্তান ও সংসার হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে তারা বাপের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

রোববার দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ওই গৃহবধূরা তাদের স্বামী-সন্তান ও সংসার ফিরে পেতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

জানা গেছে, বগুড়া সদর উপজেলার ধাওয়াকোলা গ্রামের কালিপদ কর্মকারের চার ছেলে। বড় ছেলে রাজ্য কর্মকার ও মেজ ছেলে বাবলু কর্মকার পেশায় কর্মকার এবং সেজ ছেলে কৃষ্ণ কর্মকার ও ছোট ছেলে রতন কর্মকার পেশায় স্বর্ণকার।

রাজ্য কর্মকার প্রায় ১০ বছর আগে টাঙ্গাইলের সখিপুরের গিরিস চন্দ্র কর্মকারের মেয়ে দীপালী রাণীকে এবং বাবলু কর্মকার প্রায় আট বছর আগে সিরাজগঞ্জের চান্দাইকোনার তাপস কর্মকারের মেয়ে তপতি রাণীকে বিয়ে করেন।

রাজ্য কর্মকারের দুই মেয়ে রিংকি (৮) ও টুসুকে (৪) এবং বাবলু কর্মকারের এক মেয়ে পিংকি (৫)।

সেজ ছেলে কৃষ্ণ কর্মকার বিয়ে করলেও তার কোনো সন্তান নেই।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে দীপালী রাণী কর্মকার অভিযোগ করেন, ছেলে সন্তান না হওয়ায় তাদের শ্বশুর বাড়ির লোকজন গালমন্দ করতেন। যৌতুকের জন্যও তাদের উপর শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। কিন্তু তারা মেয়েদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সবকিছু সহ্য করতেন।

কিছুদিন আগে তার স্বামী ও দেবররা সব সম্পত্তি বিক্রি করে ভারতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তারা উন্নত ভবিষ্যতের কথা ভেবে সম্মতি দেন। প্রায় দু’মাস আগে তারা সাত লাখ টাকায় বাড়ি ও ভিটা বিক্রি করেন। সকলে গ্রামের একটি বাড়িতে উঠেন।

দেবর কৃষ্ণ কর্মকার ও তার স্ত্রী চিকিৎসার নামে এবং অপর দেবর রতন কর্মকার কিছুদিন আগে ভারতে চলে যান। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি অষ্টপ্রহর অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা বলে শ্বশুড় কালিপদ কর্মকার ও শাশুড়ি কাঞ্চি কর্মকার তিন নাতনি রিংকি, টুসু ও পিংকিকে সাথে নিয়ে কৌশলে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যান।

পরদিন ২৬ ফেব্রুয়ারি তার (দীপালী) স্বামী রাজ্য কর্মকার ও দেবর বাবলু কর্মকার মহাস্থানে জরুরি কাজে যাবার নামে তাদের ফেলে চলে গেছেন।

দীপালী রাণী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, বিভিন্নভাবে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তার স্বামীসহ সকলে ভারতের শিলিগুড়িতে চলে গেছেন। সেখানে জায়গা কিনে বসবাস করছেন। ছেলে সন্তানের জন্য তারা আবারও নাকি বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

দুই গৃহবধূ তাদের স্বামী-সংসার ফিরে পেতে সাংবাদিকদের মাধ্যমে সরকারের সাহায্য কামনা করেছেন।

বগুড়া সদরের গোকুল ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য নুর আলম মাস্টারের সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ধাওয়াকোলা গ্রামে না থাকায় তার এমন ঘটনা জানা নেই। এছাড়া কেউ তার কাছে নালিশও করেনি।