মেইন ম্যেনু

ছোটার অপেক্ষায় লাল সবুজের রেল বগি

বাংলাদেশ রেলওয়েতে সম্প্রতি যুক্ত হতে যাচ্ছে জাতীয় পতাকার আদলে লাল-সবুজে রঙিন রেল বগি। আগামী ঈদের আগেই এসব বগি বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে যুক্ত হয়ে যাত্রী পরিবহন শুরু করবে। ইতোমধ্যে ইন্দোনেশিয়া থেকে কেনা ১৫০ বগির প্রথম চালানের ১৫টি বগি রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পাহাড়তলী কারখানায় পৌঁছেছে।

শনিবার চট্টগ্রাম বন্দরে খালাস হওয়ার পর রোববার সকালে বগিগুলো পাহাড়তলীতে আনা হয়।

সূত্র জানায়, প্রায় পৌঁনে চারশ কোটি টাকা ব্যয়ে ইন্দোনেশিয়া থেকে এসব বগি সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব নতুন রেল বগি আন্তনগর ট্রেন সুবর্ণা এক্সপ্রেস, মহানগর গোধূলি ও তূর্ণানিশীথাসহ বেশ কয়েকটি ট্রেনে যুক্ত করা হবে। এতে যাত্রীরা যেমন আরামদায়ক নতুন ট্রেনের সুফল পাবেন, তেমন বগি সংকটও কমে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। নতুন বগি সংযুক্ত করার পর অন্য বগি দিয়ে চালু হতে পারে সুবর্ণার আদলে আরেকটি ট্রেন। ১৫০টি বগির মধ্যে একশ’টি ঢাকা-চট্টগ্রামসহ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে এবং বাকি পঞ্চাশটি পাকশী ডিভিশনের খুলনা অঞ্চলে চলাচল করবে।

জানা গেছে, সর্বশেষ ২০০৭ সালে চীন থেকে ব্রডগেজ বগি যুক্ত হলেও মিটারগেজ বগি শেষ যুক্ত হয়েছিল ১৯৯৬ সালে। সে সময় চীন থেকে ২০টি বগি যুক্ত হয়েছিল। ২০ বছর পর বর্তমান সরকারের আমলে বাংলাদেশ রেলওয়েতে নতুন বগি যুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়।

এরই অংশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়া থেকে কেনা হয় ১৫০টি বগির মধ্যে ১০০টি মিটার-গেজের ও ৫০টি ব্রড-গেজের। মিটার-গেজের ১০০টি বগি পাহাড়তলী রেলওয়ে কারখানায় কমিশনিং করা হলেও ব্রড-গেজের বগিগুলোকে পাঠিয়ে দেওয়া হবে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায়। ইতিমধ্যে ভারত থেকে দর্শনা হয়ে দুই চালানে আসা ব্রড-গেজের ৪০টি বগি সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে ভারত থেকে আসা ১২০টি বগির সবই ব্রড-গেজের। এসব বগি রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে চলাচলের কোনো সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান যান্ত্রিক কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ বলেন, ‘বগিগুলো পরীক্ষামূলক কাজ সম্পন্ন করে চালু করতে এক মাস লাগবে। এ সময় আমরা বগির নিরাপত্তা, মান, কমফোর্ট লেবেল, ওভারলোড ইত্যাদি যাচাই করব। একই সঙ্গে বালুর বস্তা দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন চালিয়ে দেখব।’