মেইন ম্যেনু

ছোট স্কার্ট নাকচ, ‘ভদ্র’ পোশাকের বিধি ব্রিটিশ স্কুলে

পড়াশোনায় আরও বেশি মনোযোগী হতে হবে। এমনই যুক্তি দেখিয়ে উঁচু ক্লাসের ছাত্রীদের ‘ভদ্র’ পোশাক পরে আসার নিদান দিল ব্রিটেনের একটি স্কুল।

বেশ কিছু দিন ধরে ব্রিটেনের অনেক স্কুলেই উঁচু ক্লাসের ছাত্র-ছাত্রীদের নির্দিষ্ট পোশাক-বিধি তুলে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বুশে শহরের সেন্ট মার্গারেটস বোর্ডিং স্কুল কর্তৃপক্ষ ‘এ গ্রেড’ (দশম শ্রেণি) পাশ করা ছাত্রীদের পোশাক নিয়ে নতুন নির্দেশিকা জারি করলেন। ছোট স্কার্ট, অতিরিক্ত প্রসাধন সামগ্রী— এ সবই পড়াশোনায় মনোনিবেশে ব্যাঘাত তৈরি করে। এমনটাই মনে করেন স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা রোজ হার্ডি। তিনি বলেছেন, ‘‘পোশাক আশাকের মধ্যে একটা পেশাদারিত্বের মনোভাব থাকা উচিত।’’ আর এই মন্তব্য করেই বিতর্ক বাড়ালেন তিনি।

শুধু ছোট স্কার্টই নয়, অতিরিক্ত প্রসাধন সামগ্রী, চুলের কায়দা, নখের মাপ— এ সব কিছু নিয়েও ফতোয়া জারি করেছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। ফর্ম্যাল শ্যু বা পাম্প শ্যু ছাড়া অন্য কোনও জুতো পরে আসা যাবে না বলেও জানানো হয়েছে নয়া নির্দেশিকায়।

এতে অবশ্য মোটেও খুশি নন ছাত্রীরা বা তাঁদের অভিভাবকেরা। অনেকের মতেই স্কুলের বলে দেওয়া এই নতুন পোশাক নাকি শ্মশান যাত্রীদের মতো। এটা যুগোপযোগী নয় বলেও মনে করছেন অনেকেই। পেশাদারিত্বের অজুহাত দিয়ে এ রকম পোশাক-বিধির সত্যিই কোনও প্রয়োজন ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ। বলছেন, ‘‘কিছুতেই বুঝতে পারছি না পোশাকের রঙ কেন হাল্কা হতে হবে? কেনই বা জামার সঙ্গে জ্যাকেটের মিল থাকতে হবে? আজকাল তো কাজের জায়গায় অনেক মেয়েই উজ্জ্বল রঙের পোশাক পরেন, সাজগোজ করেন, কিন্তু তা বলে কি তাঁদের পেশাদারিত্ব নষ্ট হয়ে যায়?’’ ছাত্রীরা জানিয়েছেন, এতে তাঁদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে।

রোজ কিন্তু নিজের সিদ্ধান্তে অনড়। তাঁর কথায়, প্রতিদিন কি পরে আসবেন, তা নিয়ে ভাবতে বেশ কিছুটা সময় নষ্ট হয় ছাত্রীদের। কিন্তু এ বার থেকে পোশাক বাছার পিছনে সময় নষ্ট হবে না। স্কুলের তরফে আরও এক মুখপাত্র রোজির সপক্ষে যুক্তি দেখিয়ে বলেছেন, ‘‘আমাদের প্রধান শিক্ষিকা তিন মেয়ের মা। তাঁর শিক্ষক জীবনের বেশির ভাগ সময়েই কেটেছে মেয়েদের স্কুলে পড়িয়ে। তাই ছাত্রীদের জন্য কোনটা ভাল, কোনটা ঠিক, তা তাঁর থেকে ভাল আর কেউ জানেন না।’’