মেইন ম্যেনু

ছড়া সমসাময়িক হয়েও ঐতিহাসিক

সাহিত্যের বহুমুখী ও বৈচিত্র্যময় শাখাগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য শাখা হচ্ছে ছড়া। ছড়াসাহিত্যের ইতিহাস সুপ্রাচীন। বাংলা ছড়ার সুদীর্ঘ ইতিহাসের পথ ধরেই বাংলাদেশের ছড়াসাহিত্যের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশ। বর্তমানে বাংলাদেশের সাহিত্যের ধারায় ছড়াসাহিত্য গুরুত্বপূর্ণ শিল্পশাখা হিসেবে স্বীকৃত। অতীতে ছড়া রচিত ও বিকশিত হয়েছে মানুষের মুখে মুখে- কালের গ্রাস থেকে এগুলো রক্ষিত হয়েছে মানুষের স্মৃতিকোঠায়। প্রাচীন ও মধ্যযুগের লোকসাহিত্য হিসেবে আদিছড়ার বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, সে-কালের ছড়া ছিল কেবলই শিশু-মনোরঞ্জনের বিষয়। ফলে সাহিত্যের শাখা হিসেবে ছড়া তখন সে-অর্থে স্বীকৃতি পায়নি। তবে বর্তমানে ছড়া বাংলা সাহিত্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বহন করছে।

সম্প্রতি দেশের একজন গুণি লেখক আমিনুল ইসলাম (মামুন)-এর সাথে সাক্ষাতকার মূলক একান্ত আলাপচারিতায় বসেন আওয়ার নিউজ বিডি’র বার্তা সম্পাদক আবু রায়হান মিকাইল। দীর্ঘ আলাচারিতায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ কিছু কথামালা। তবে আলাপচারিতার পুরোটা সময়ই ছিল ছন্দময়। শুরুতে আমরা এই লেখকের সংক্ষিত পরিচয় জেনে নিই।

আমিনুল ইসলাম মামুন ১৯৭৭ সালের ৮ সেপ্টেম্বর লক্ষ্মীপুর জেলাধীন রামগঞ্জ থানার পূর্ব বিঘা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মরহুম আলহাজ মাওলানা এ কে এম সিরাজুল ইসলাম সাবেক সরকারী কর্মকর্তা। মাতা আলহাজ শামসুন নাহার একজন গৃহিনী। চার ভাই এক বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়।

আমিনুল ইসলাম মামুন ১৯৯৪ সালে কুমিল্লা বোর্ডের অধীনে নোয়াগাঁও জনকল্যান উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে এস এস সি, ১৯৯৬ সালে ঢাকা বোর্ডের অধীনে ঢাকা সিটি কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে এইচ এস সি, ১৯৯৯ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ঢাকা কলেজ থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অনার্স ও ২০০০ সালে দ্বিতীয় শ্রেণিতে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৫ সালে অর্জন করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে মহানগর ল’ কলেজ থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি।

২০০৬ সালে ইনষ্টিটিউট অব চার্টার্ড একাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের-এর অধীনে জে ইউ আহমেদ এন্ড কোং থেকে শেষ করেন তিন বছর মেয়াদী কোর্স (সি এ – সি সি)। ২০১৩ সালে আয়কর আইনজীবী হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তালিকাভূক্ত হন। একই বছর বাংলাদেশ ইসলামী ইউনিভার্সিটি (বি আই ইউ) থেকে এ গ্রেডে (প্রথম শ্রেণি সমমান) এম বি এ ডিগ্রি অর্জ করেন।

অধিকতর সুন্দর, সৃষ্টিশীল ও প্রগতিশীল সমাজ বিনির্মানের উদ্দেশ্যে তার লেখালেখি। প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় ১৯৯৮ সালে সাপ্তাহিক ‘জনতার ডাক’ পত্রিকায়। পেশাগত জীবনে তিনি একটি গ্রুপ অব কোম্পানীর সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। এ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে তার ১১টি গ্রন্থ। গ্রন্থগুলো হচ্ছে দুষ্টু ছেলের দল (ছড়া-২০০৪), কানামাছি (ছড়া-২০০৭), মন ছুঁয়েছে মন (উপন্যাস-২০০৯), শিকল ভাঙার ছড়া (ছড়া-২০১০), এক জীবনের গল্প (উপন্যাস-২০১২), তারা জ্বলে কথা বলে (ছড়া-২০১৪), পরীর নাম লজ্জাবতী (শিশুতোষ গল্প-২০১৫), ভূত দেখেছি কয়েকবার (শিশুতোষ গল্প-২০১৫), ছড়ায় ছড়ায় বর্ণমালা (ছড়া-২০১৬), ঘুড়ির মাঠে আয় রে সবে (ছড়া-২০১৬) এবং ঝুমঝুম রেলগাড়ি (ছড়া-২০১৬)। ভ্রমণ তার শখের মধ্যে অন্যতম। তিনি ছড়া, কবিতা, ছোটগল্প, উপন্যাস, অনুবাদ, প্রবন্ধ, ফিচার, গান, গ্রন্থালোচনা প্রভৃতি বিষয়েই লিখছেন।

তিনি সাহিত্য শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ক ম্যাগাজিন তুষারধারা’র সম্পাদক, দেশের প্রথম সাহিত্য বিষয়ক অনলাইন নিউজ পোর্টাল তুষারধারা ডট কম-এর (www.tushardhara.com) সম্পাদক, টুপটাপ-এর (শিশুতোষ ম্যাগাজিন) সাবেক সহ-সম্পাদক এবং ত্রিশাল প্রতিদিন ডট কম (www.trishalprotidin.com)- উপদেষ্টা সম্পাদক। আমিনুল ইসলাম মামুন তুষারধারা নামক গ্রন্থ প্রকাশনা সংস্থাটিরও স্বত্ত্বাধিকারী। তিনি বাংলা একাডেমির সদস্য, জাতীয় শিশু কিশোর সংগঠন আবাবীলের সাবেক সাহিত্য সম্পাদক, প্রতিষ্ঠাতা- সন্তান দিবস (১৫ নভেম্বর), প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক- তরুণ লেখক ফোরাম, প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি- বাংলা সাহিত্য কেন্দ্র, প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি- অনলাইন রাইটার্স ফোরাম, প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি- এইম স্পোর্টিং ক্লাব, প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি- ফমাসিক সাহিত্য সংসদ (ফতুল্লা-মাতুয়াইল-সিদ্ধিরগঞ্জ-কদমতলী এলাকার একটি সাহিত্য সংগঠন), প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি- রামগঞ্জ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক একাডেমি। তার স্ত্রীর নাম উম্মে ফারজানা ফেরদৌস (আইরিন) ও কন্যার নাম আমরিন মাহনূর (মানহা)।

সাহিত্যের স্বীকৃতিস্বরূপ অর্জন করেছেন আবাবীল সাহিত্য সম্মাননা-২০০৯, প্রতিভা প্রকাশ লেখক সংবর্ধনা ২০১১, দানবীর হাজী মোহাম্মদ মুহসিন সম্মাননা-২০১১, মধ্যমণি- ম্যাজিক লণ্ঠন (৪৫০তম আড্ডা), মানব কল্যাণ পরিষদ লেখক সম্মাননা-২০১৪, রায়পুর তরুণ ও যুব ফোরাম বিশেষ সম্মাননা, স্বপ্ন সিঁড়ি সাহিত্য সম্মাননা-২০১৫, মধ্যমণি- অনুশীলন সাহিত্য পরিষদ (৩৯তম আড্ডা), সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের জন্য আবাবীল সেরা কর্মী-২০১৫ পদক, দুর্জয় বাংলা সাহিত্য সম্মাননা-২০১৫, বাংলাদেশ লেখক পরিষদ অভিনন্দনপত্রসহ বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা। তার লেখা বিভিন্ন সময় বেতারে প্রচারিত হয়েছে। তিনি বাংলা ব্লগ আন্দোলন দশকের (২০১০ পর্যন্ত) অন্যতম ব্লগারদের একজন।

আওয়ার নিউজ বিডি:1002336_10201833936879594_1071586687_n

কেমন আছেন ভাইয়া
যাচ্ছে কেমন দিন,
আওয়ার নিউজ থেকে
শুভেচ্ছাটা নিন।

আমিনুল ইসলাম মামুন:TUKU (5)

সবার দোয়ায় ভালো আছি
সুস্থ্য আছি খুব,
স্বপ্ন ঝরাই দু’চোখ থেকে
টাপুর-টুপুর টুপ্।

আপনিও নিন শুভেচ্ছা এই
হৃদয় গভীর থেকে,
যাচ্ছে কেটে দিবসগুলো
স্বপ্ন বুকে মেখে।

আওয়ার নিউজ বিডি:

লেখালেখির এই জগতে
আপনি কেন এলেন?
বলেন দেখি বেশি বেশি
কার প্রেরণা পেলেন?

আমিনুল ইসলাম মামুন:

এই সমাজের জন্য কিছু
করার ইচ্ছা মনে,10460132_10204394616534985_6549224146415804339_n
তাই তো আমি লেখালেখি
যোগ করেছি পণে।

লেখালেখির প্রেরণা তো
বাবার কাছে পাই,
অনেক কিছু আছে এখন
কিন্তু বাবা নাই!

আওয়ার নিউজ বিডি:

লেখালেখি সম্পাদনা
এছাড়া কি করেন?
লেখালেখির হাতে খড়ি
কবে থেকে ধরেন?

আমিনুল ইসলাম মামুন:

চাকরি করি, সাথে আছে
সংগঠনের কাজ,
চেষ্টা করি থাকতে বেশি
সাহিত্যেরই মাঝ।

ছোট্টবেলা থেকেই ছিল
লেখা-আঁকার শখ
আঁকা এখন ভুলেই গেছি
আঁকি লেখার ছক।

আওয়ার নিউজ বিডি:1601528_10203604865671707_363165186_n

প্রথম লেখা ছাপলো কবে
কোন সে পত্রিকাতে,
আওয়ার নিউজ পাঠক যারা
বলেন সবার সাথে।

আমিনুল ইসলাম মামুন:DSC00580

প্রথম লেখা ঊনিশশত
আটানব্বই সালে-
যোগ হয়েছে সেদিন আমার
স্বপ্ন নায়ের পালে।

‘জনতার ডাক’ নামে সেইPHOTO-3
পত্রিকাটি ছিল,
না ছাপানোর কষ্টগুলো
সেটিই মুছে দিল।

আওয়ার নিউজ বিডি:

অনুভূতি ছিল কেমন
সেদিন নিজের মাঝে,
চাই জানতে সেই কথাটা
ছন্দ ছড়ার ভাঁজে।

আমিনুল ইসলাম মামুন:

পত্রিকা তো পাইনি হাতে
পেলাম যেন চাঁদ,
খুশির জোয়ার আসলো ছুটে
ভেঙে সকল বাঁধ।

সেটি যখন এনে দিলাম
আমার বাবার হাতে,
আমার চেয়ে বাবাই খুশি
হলেন বেশি তাতে।

আওয়ার নিউজ বিডি:

ভাইয়া এবার তবে দেখি
আসল কথায় আসেন,
গল্প না কি ছড়া লেখা
কোনটা ভালোবাসেন?

আমিনুল ইসলাম মামুন:

সব বিষয়ে লিখতে আমি
ভালোবাসি, তবে
ছড়ার দিকের পাল্লাখানা
একটু ভারী হবে।

আওয়ার নিউজ বিডি:

ছড়া না কি দিন বদলের
শ্রেষ্ঠ হাতিয়ার,
ভাবেন আপনি কতটুকু
বলেন তা সবার…।

আমিনুল ইসলাম মামুন:

মধুমাখা, তীরের ব্যথা
সবই আছে ছড়ায়,
ছড়ার বাণী তাই সহজে
বুকের ভেতর গড়ায়।

সেই হিসেবে বলছি ছড়া
শক্ত হাতিয়ার,
তাই তো ছড়াকারের মতো
নাই তো জাতি আর।

আওয়ার নিউজ বিডি:

ছড়ায় ছড়ায় এবার তবে
অন্য দিকে চলেন,
সবচেয়ে কি বড় আশা
একটু যদি বলেন।

আমিনুল ইসলাম মামুন:

সমাজটাকে বদলে দেবো
এটাই বড় আশা,
কারণ আমি চাই যে হতে
দিন বদলের চাষা।

আওয়ার নিউজ বিডি:

কে বা আপনার প্রিয় মানুষ
কে বা প্রিয় কবি,
ভবিষ্যতে সামনে চলার
জানান কিছু হবি।

আমিনুল ইসলাম মামুন:

প্রিয় ছিলেন বাবা আমার
এখন শুধুই মা,
তারাই আমার ভালোবাসার
শহর এবং গাঁ।

প্রিয় কবি বিদ্রোহী সে
ঝাঁকড়ানো তার চুল,
তার কবিতা গানে ফোটে
মনবাগানে ফুল।

কাজ করতে চাইছি অনেক
তরুণ সমাজ নিয়ে,
তারাই পারে আনতে নতুন
বুদ্ধি সাহস দিয়ে।

হবি আমার তাদের নিয়ে
তারাই হলো মূল,
তাদের নিয়ে চাই ফুটাতে
এই সমাজে ফুল।

ইচ্ছেমতো ভ্রমণ করা
এটা আরেক হবি,
এই হবিতে দু’চোখ জুড়ে
ভাসে নতুন ছবি।

আওয়ার নিউজ বিডি:

আওয়ার নিউজ পাঠকদের কি
বলার কিছু আছে?
বলতে পারেন খোলা মনে
আপনি সবার কাছে।

আমিনুল ইসলাম মামুন:

সবাই মিলে নিউজ পড়–ন
আওয়ার নিউজ ঘেঁটে,
জানার জগৎ হোক না বৃহৎ
আঁধার কেটে কেটে।

আওয়ার নিউজ বিডি:

মামুন ভাইয়া এবার তবে
বিদায় নেয়া যাক,
আবার পরে বলবো কথা
আজ এখানেই থাক।

আমিনুল ইসলাম মামুন:

ভালো থাকুন সুস্থ্য থাকুন
এই কামনা করি,
আওয়ার নিউজ দিয়ে সবার
ভাসান স্বপন তরি।