মেইন ম্যেনু

জঙ্গিদের ‘নতুন কৌশলে’ চিন্তিত ক্ষমতাসীনরা

পুলিশ বাহিনীর চৌকশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের পরিবারের ওপর হামলা জঙ্গিদের ‘নতুন কৌশলের’ অংশ বলে মনে করছে ক্ষমতাসীনরা। অনাকাঙ্খিত বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত শাসক দলের নেতারা।

ক্ষমতাসীন দলের অনেকের মতে, জঙ্গি দমনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ প্রদর্শন করে আসছে। পাশাপাশি জঙ্গি নির্মূলে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যখন কোনওভাবেই সরকারকে কাবু করা যাচ্ছে না, ঠিক তখন কৌশল পাল্টাচ্ছে জঙ্গি-সন্ত্রাসীরা। পুলিশ বাহিনীর একজন চৌকশ কর্মতর্কার পরিবারের ওপর হামলা তাদের কৌশল পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে। কৌশল পরিবর্তনের অংশ হিসেবে তাদের ‘টেস্ট কেইসের’ স্বীকার হন এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতু। তাদের মতে, একজন মানুষের স্পর্শকাতর জায়গা হলো তার স্ত্রী, পরিবার, পরিজন। জঙ্গিরা বাবুল আক্তারের সেই স্পর্শকাতর জায়গায় আঘাত করে তার এবং পুরো পুলিশ বাহিনীর মনোবল ভাঙতে চেয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘জঙ্গিরা ক্ষণে ক্ষণে তাদের স্থান, কৌশল পরিবর্তন করছে। যে কোনও মূল্যে জঙ্গি-সন্ত্রাসী নির্মূল করবে সরকার। এর জন্যে যা যা করা দরকার তার সবই করা হবে। এটা সরকারের চ্যালেঞ্জ।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘শিগগিরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে। তবে সবাইকে একটু ধৈর্য ধারণ করতে হবে। দলমত নির্বিশেষে সন্ত্রাসী সংগঠনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’

চট্টগ্রামসহ ঢাকার বাইরের হত্যাকাণ্ডগুলো শাসক দলকে চিন্তিত করে তুলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কোনও কোনও নেতা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী হত্যা ও ঢাকার বাইরে জঙ্গি হামলা ছড়িয়ে দেওয়া এগুলো তাদের নতুন কৌশলের অংশ। ধারণা করা হচ্ছে, নতুন কৌশলের অংশ হিসেবে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠানের চৌকশ ও মেধাবী কর্মকর্তাদের স্ত্রী, পরিবার টার্গেট করা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা বাদ দিয়ে ঢাকার বাইরে চালানো হচ্ছে তাদের ‘কিলিং মিশন’। যাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে অস্থিরতা সৃষ্টি করা যায়। পাশাপাশি তাদের মনোবল ভেঙে দিয়ে রাষ্ট্রের ক্ষতি সাধন করা যায়। চট্টগ্রামে এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতুকে হত্যা নতুন কৌশলেরই অংশ বলে মনে করেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নীতি-নিধারণী মহল।

তারা এও বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে করা আগের ষড়যন্ত্র যেমন সফল হয়নি, তেমনি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের ওপর হামলা করে তাদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না জঙ্গিরা। কারণ অতীতের যে কোনও সময়ের চেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারের অন্য কর্মকর্তারা শতভাগ দায়িত্বশীল।

ক্ষমতাসীন দলের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজন বলেন, সম্প্রতি জঙ্গি হামলার ধরন থেকে আরও মনে হচ্ছে তাদের টার্গেট এখন ঢাকা নয়। ঢাকার বাইরে জেলা শহর, মফস্বল শহরগুলোতে আতঙ্ক সৃষ্টি করা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘সরকারকে অস্থিতিশীল করে তুলতে নানা চক্রান্ত অব্যাহত আছে। জঙ্গি-সন্ত্রাসীরা প্রতিনিয়ত তাদের কৌশল পাল্টাচ্ছে।’

নাসিম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর যখনই মানবতাবিরোধী অরাধীদের বিচার কাজ শুরু করেছে, তখন থেকেই সরকারের বিরুদ্ধে চক্রান্ত-ষযড়ন্ত্র শুরু হয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার সফলতার সঙ্গে তা মোকাবেলা করে আসছে।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ‘জামায়াতই এসব ষড়যন্ত্র চক্রান্তের সঙ্গে জড়িত। তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে কখনও তারা জঙ্গি, কখনও তারা সন্ত্রাসী। তারা যেমন ক্ষণে ক্ষণে মুখোশ পরিবর্তন করে তেমনি চক্রান্ত বাস্তবায়ন করতে কৌশলও পরিবর্তন করে।’

তিনি বলেন, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার শুরু হওয়ার পর থেকে এবং যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের ফাঁসি কার্যকর করা হচ্ছে একে একে ঠিক তখনই তারা এসব টার্গেট করে কিলিং শুরু করেছে।’

হানিফ বলেন, ‘সব ষড়যন্ত্রে ব্যর্থ হয়ে এখন তারা রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দক্ষ-মেধাবী কর্মকর্তাদের স্ত্রী, পরিবার, পরিজনের ওপর হামলা করে তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার চক্রান্ত করছে। তবে শেখ হাসিনা ও তার সরকার কোনও অন্যায়ের কাছে, ষড়যন্ত্রের কাছে মাথা নত করবে না। সব অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হবে।’বাংলা ট্রিবিউন