মেইন ম্যেনু

‘জঙ্গিবাদ দমনে সরকারের সততার অভাব রয়েছে’

জঙ্গিবাদ দমনে সরকারের সততার অভাব রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ।

শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি। ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ (বিএসপিপি)।

মওদুদ আহমেদ বলেন, ‘মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত, খ্রিস্টান ধর্মযাজকসহ এরইমধ্যে ২৭টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এই সরকার এখন পর্যন্ত একটি ঘটনারও বিচার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেনি। অথচ সরকার নাকি জঙ্গিবাদের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স। কিন্তু তাদের কাজ-কর্মে সেটা দেখা যাচ্ছে না। জঙ্গিবাদ দমনে সরকারের সততার অভাব রয়েছে।’

দেশে গণতন্ত্র না থাকার কারণেই জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের উত্থান হচ্ছে বলে মনে করেন বিএনপির এই নেতা।

তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ দমন করতে হলে সরকারকে দু’টি কাজ করতে হবে। একটি হলো, জনপ্রতিনিধিত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করা, দ্বিতীয়টি হলো, জাতীয় ঐক্যের প্লাটফর্ম তৈরি করা। এটি করতে পারলে বিএনপিও সরকারকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।

সরকারের একার পক্ষে পুলিশ ও র‌্যাব দিয়ে জঙ্গিবাদ-উগ্রবাদ দমন করা সম্ভব নয় মন্তব্য করে বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ‘র‌্যাব-পুলিশের জনবল সীমিত। এটা কেবল গণতান্ত্রিক অংশিদারিত্বমূলক সরকারের পক্ষেই সম্ভব। কিন্তু বর্তমান সরকার অংশিদারিত্বমূলক নয়।’

মওদুদ আহমদ বলেন, ‘বিগত সংসদ নির্বাচনে ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে। এই সরকার জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করে মারাত্মক রাজনৈতিক অপরাধ করেছে। এর চেয়ে বড় রাজনৈতিক অপরাধ আর হতে পারে না। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরেও দেশে আজ গণতন্ত্র ও রাজনীতি নেই। এর চেয়ে বড় বিষাদময় ঘটনা আর কী হতে পারে?’

তিনি বলেন, ‘৭৫ সালে সংবিধান থেকে গণতন্ত্র পুরোপুরি তুলে নিয়ে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। বর্তমানে সংবিধানে গণতন্ত্র আছে, কিন্তু বাস্তবে নেই। আগে গণতন্ত্র তুলে নিয়ে একদলীয় শাসন, আর এখন গণতন্ত্রের কথা সংবিধানে রেখে দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা হয়েছে।’

শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, বিএসপিপির সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) নেতা ডা. মোস্তাক রহিম স্বপন, ডা. রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।