মেইন ম্যেনু

জঙ্গিবাদ নিয়ে জাতীয় ঐক্যের ডাকে সাভার আ.লীগে মতানৈক্য

টিপু সুলতান (রবিন), সাভার প্রতিনিধি : দেশে জঙ্গিবাদ নিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজমান থাকায় সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় ঐক্যের ডাক দেওয়া হয়েছে। আর সেই ডাকে সারা দিয়ে দেশের সর্বত্রই আওয়ামী লীগ ও সাধারন মানুষ স্থানীয়ভাবে কমিটি গঠনের মাধ্যমে জঙ্গি নির্মূলে স্ব-স্ব ভূমিকা পালন করার প্রস্তুতি নিয়েছে তখনি সাভার উপজেলায় বিগত ইউপি নির্বাচনের মধ্যে আওয়ামীলীগের যে দ্বীধা আর মতানৈক্য ছিলো সেই দ্বিধা-মতানৈক্যও বর্হিপ্রকাশ পেয়েছে জঙ্গিবাদ নির্মূল কমিটি গঠনেও।

জঙ্গিবাদ নির্মূল কমিটি গঠন নিয়ে জাতীয় ঐক্যে হলেও সাভার আ.লীগে তৈরি হয়েছে মতানৈক্য। ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূলে এনেছে দ্বিধা-বিভক্তি। এরই কারণে সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনাদৌলা ও সাধারন সম্পাদক আলী হায়দার দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছিলো বলে জানায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। আওয়ামী দলীয় সিনিয়র নেতারা যখন দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে প্রচার প্রচারণায় মুখর তখনি ঠিক উল্টো দিক পরিলক্ষিত হয়েছে রাজধানীর উপকণ্ঠ সাভার উপজেলায়।

গত ২৭ জুলাই ঢাকা-১৯ এর সাংসদ ডা. এনামুর রহমানের উপস্থিতিতে ১১১ সদস্য বিশিষ্ট সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশ জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস নির্মূল কমিটি গঠন করে। কমিটির সভাপতি করা হয় সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ঢাকা জেলা পরিষদ প্রশাসক হাসিনা দৌলাকে। সদস্য সচিব হন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জরুল আলম রাজীব।

এর পনেরো দিন যেতে না যেতেই সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের অপর অংশ জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস নির্মূলে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট অপর একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। উক্ত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ফিরোজ কবির ও সাধারন সম্পাদক হিসেবে সাভার থানার সাধারন সম্পাদক আলী হায়দারের নাম ঘোষনা করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে আশুলিয়ার জুগীজঙ্গল এলাকায় সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগ জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশ থেকে এই ঘোষনা দেন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা বেনজির আহম্মেদ। এতে করে স্পষ্ট হয়ে ওঠে সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের দ্বিধা-বিভক্তি ও অন্তকোন্দল। তবে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস নির্মূলে সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগ এর আগে একটি কমিটি গঠন করলেও কেন আবারো নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ফিরোজ কবির জানান, তৃণমূলে কোন দ্বিধা-বিভক্তি নেই। তবে দলীয় নেতৃীর নির্দেশে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৩০ অক্টোবর সাংসদ এনামুর রহমানের বাড়িতে সাভার থানার আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আলী হায়দার ও যুগ্ম সম্পাদক মঞ্জুরুল আলমের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ২০ জন আহত হয়। এসময় মারধর করা হয় সাধারন সম্পাদক আলী হায়দারকে। আর সমর্থকদের মধ্যে চেয়ার ছুড়োছুড়ির এক পর্যায়ে চেয়ারের নিচে পড়ে আহত হন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ঢাকা জেলা পরিষদ প্রশাসক হাসিনা দৌলা। এরপর থেকে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূলে যেন দ্বিধা-বিভক্তি ও অন্তকোন্দল বেড়েইে চলেছে। সৃষ্টি হয়েছে মতানৈক্য।