মেইন ম্যেনু

জঙ্গিবিরোধী হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জামায়াত ছাড়ুন, খালেদাকে সেলিম

সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘খালেদা জিয়া যদি সত্যি জঙ্গিবাদের বিরোধী হন তাহলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জামায়াতের সাথে সম্পর্ক ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা দেবেন।’

বুধবার (২৭ জুলাই) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের হল রুমে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) ৫৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘খালেদা জিয়া যদি জামায়াতকে বাদ দিতে না পারেন তাহলে জাতীয় এক্যের ব্যাপারে তার বক্তব্যের রাজনৈতিকভাবে বিশেষত্ব থাকবে না।’

সাম্প্রদায়িক জঙ্গি আক্রমণ দেশকে পরাধীনতার দিকে ফেলে দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘গুলশান হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র বলেছিল, তারা সেনাবাহিনী পাঠাতে চায়। আসলে তারা সর্প হয়ে দংশন করে ওঝা হয়ে ঝাড়তে চায়।’

সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গিবাদের হাত থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে রক্ষা করতে হলে জনতার ঐক্য ছাড়া উপায় নেই মন্তব্য করে সেলিম বলেন, ‘আমরা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে একই সঙ্গে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে চাই। যেভাবে আমরা আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে সাথে নিয়ে স্বৈরাচারী এরশাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি একইভাবে জঙ্গিবাদের মোকাবিলা করতে চাই কিন্তু সেখানে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিএনপি।’

সিপিবির সভাপতি বলেন, ‘জাতীয় পার্টি বিরোধী দল হলেও জনগণ এখনও মনে করে দেশের প্রধান বিরোধী শক্তি বিএনপি। বিএনপি বিরোধী দলে না থাকলে আমরা বামরা যদি বিরোধী দলে জায়গা করে নিতে পারি তাহলে সরকার ও বিরোধীদল উভয়েই হবে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি।’

এ প্রসঙ্গে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম আরো বলেন, ‘পাকিস্থান আমলে দেশের বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদে বামরাই নির্বাচিত হয়েছিল। কিন্তু নিজেদের মধ্যে বিভাজনের কারণে সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো পুরো খেলা (ফুটবল) ভাল খেলেও আমরা গোল দিতে পারি নাই।’

সারাদেশের গ্রামেগঞ্জে এখনও লাখ লাখ বামপন্থি আছে। তাদের ঐক্যবদ্ধ করতে পারলে নির্বাচনের মাধ্যমে বিরোধী দলের আসনে বসা যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ন্যাপের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের এমপি মিসেস আমেনা আহমেদের সভাপতিত্বে এসময় আরো বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. নাসিম এমপি, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, ন্যাপ মোজাফফরের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এনামুল হক প্রমুখ।