মেইন ম্যেনু

জঙ্গি অর্থায়ন: ৪ দিনের রিমান্ডে ৩ আইনজীবী

জঙ্গি সংগঠন শহীদ হামজা ব্রিগেডকে অস্ত্র কেনার জন্য এক কোটি ৮ লাখ টাকার যোগান দেয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার সুপ্রিম কোর্টের তিন আইনজীবীর রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাব সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছে।পরে শুনানি শেষে আদালত তাদের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।

বুধবার বিকালে তাদেরকে নগরীর বাঁশখালী সহকারী জেলা জজ আদালতে হাজির করা হয়। পরে রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি হয়।শুনানি শেষে আদালত তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিকে অস্ত্র কেনাবেচায় আইনজীবীদের জড়িত থাকার বিষয়টিকে গোটা আইনজীবী সমাজ তথা রাষ্ট্রের জন্য অশনি সংকেত বেলে উল্লেখ করেছেন অ্যাটর্নী জেনারেল মাহবুবে আলম।

মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে ঢাকার ধানমন্ডি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর পরই চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরে চট্টগ্রাম জোনের পরিচালক লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ বুধবার দুপুর দেড়টায় সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গ্রেপ্তারকৃত তিন আইনজীবী শহীদ হামজা ব্রিগেডকে অর্থায়ন করেন। তাদের বিরুদ্ধে অনেক তথ্য প্রমাণ আমরা পেয়েছি। এর ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি জানান, শহীদ হামজা ব্রিগেডের বিভিন্ন নেতাদের অ্যাকাউন্টে মোট ১ কোটি ৩৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা জমা হয়েছে। এর মধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া তিন আইনজীবী দিয়েছেন ১ কোটি ৮ লাখ টাকা। এছাড়া আল্লামা লিবাদি নামে দুবাইয়ের একজন নাগরিকও টাকা দিয়েছেন।

র‌্যাবের ওই পরিচালক বলেন, ‘আদালত ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিয়ে শহীদ হামজা ব্রিগেড নেতাদের অ্যাকাউন্ট পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা দিয়েছেন মোট ৫২ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রথম দফায় ২৫ লাখ ও দ্বিতীয় দফায় ২৭ লাখ টাকা দিয়েছেন তিনি। অ্যাডভোকেট লিটন ৩১ লাখ টাকা ও অ্যাডভোকেট বাপন দিয়েছেন ২৫ লাখ টাকা। তারা এ বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নগদে জমা দিয়েছেন। ’

তিন আইনজীবীকে বাঁশখালীর লটমনি পাহাড় থেকে অস্ত্র উদ্ধারের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাদের বাঁশখালী আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে বলে জানান লে. কর্ণেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ। ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

এলিট ফোর্স র‌্যাব জানিয়েছিল, শহীদ হামজা ব্রিগেডের তিনটি সামরিক উইং আছে। এগুলো হচ্ছে, গ্রিণ, বল্টু এবং হোয়াইট। প্রত্যেক উইংয়ে সাতজন করে সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্য আছেন। ২০১৩ সালের নভেম্বরে চট্টগ্রাম নগরীর ফয়’সলেকে একটি রেস্টুরেন্টে সভা করে এই জঙ্গি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটান সংগঠকরা।

১২ এপ্রিল রবিবার রাতে নগরীর কোতয়ালি থানার মিডটাউন আবাসিক হোটেলে অস্ত্র কেনাবেচার সময় বিক্রেতা মোজাহের হোসেন মিঞা (৩৫) ও বাঁশখালীতে জঙ্গি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সাব্বির আহমেদ ওরফে মুহিবকে (২৩) গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এদের মধ্যে মোজাহেরের বাড়ি সাতকানিয়া উপজেলার উত্তর কাঞ্চনা এলাকায়। সাব্বির হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার গুলগাঁও গ্রামের আবুল কালাম ফটিকের ছেলে। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওইদিন রাতে আকবর শাহ থানার একে খান মোড়ে শ্যামলী বাস কাউন্টার থেকে মো.কামাল উদ্দিন ওরফে মোস্তফা (২৪) এবং আশরাফ আলীম ওরফে আদনানকে (২৫) আটক করা হয়। তারা চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পালিয়ে যাচ্ছিল।

পরে আরও তথ্যের ভিত্তিতে পাঁচলাইশ থানার কসমোপলিটন আবাসিক এলাকার গ্রীণ বাংলা জাহানারা অ্যাপার্টমেন্টের সপ্তম তলায় একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে বিপুল অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়। অস্ত্রশস্ত্রের মধ্যে আছে, ৫টি একে ২২, ১টি বিদেশি পিস্তল, ১টি একনলা বন্দুক, ১টি এলজি, একে ২২ এর ১০টি ম্যাগজিন, ১টি পিস্তলের ম্যাগজিন, ২ হাজার ১৫৫ রাউন্ড পয়েন্ট টুটু বোরের গুলি, ৫০১ রাউন্ড শটগানের গুলি উদ্ধার করে র‌্যাব।

এর আগে ১৯ ফেব্রুয়ারি হাটহাজারি উপজেলার আল মাদরাসাতুল আবু বকর থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ১২ জন, ২১ ফেব্রুয়ারি বাঁশখালীর লটমণি পাহাড় থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ৫ জন, ২৮ ফেব্রুয়ারি নগরীর হালিশহর থানার একটি আবাসিক এলাকা থেকে তিনজনসহ মোট ২৪ জন ‘শহীদ হামজা ব্রিগেডের’ সদস্য গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, বাঁশখালীর লটমণি পাহাড় ছিল শহীদ হামজা ব্রিগেডের সামরিক প্রশিক্ষণ ঘাঁটি। সেখানে প্রত্যেক সদস্য ১০ রাউন্ড করে গুলি ছুঁড়ে প্রশিক্ষণ নিত। এর মধ্যে ৬ রাউন্ড গুলি ছোঁড়া হত একে ২২ থেকে আর ৪ রাউন্ড ছোঁড়া হত অন্যান্য অস্ত্র থেকে। ২০১৪ সালের শেষদিকে তারা লটমণি পাহাড়ে সামরিক প্রশিক্ষণ শুরু করে।

নতুন জঙ্গি সংগঠনের পাঁচটি ব্যাংক অ্যাকাউণ্টের সন্ধান পাবার কথাও জানিয়েছিল সংস্থাটি।