মেইন ম্যেনু

জঙ্গি দমনে সরকারের পাশে থাকতে চায় বিএনপি

একের পর এক জঙ্গি কায়দায় হত্যা-হামলার প্রেক্ষাপটে দেশজুড়ে ভয়ংকর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে সরকারের সঙ্গে এক সাথে কাজ করতে চায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শুক্রবার দলটির এক কেন্দ্রীয় নেতার বক্তব্যে সেই ইঙ্গিত দেখা যায়।

এদিকে বিএনপির এই মনোভাবকে সাধুবাদ জানিয়েছে সরকারি দলের অনেক নেতারা। তারাও মনে করছেন সবাই এক সঙ্গে কাজ করলে জঙ্গিবাদ নির্মূল করা সম্ভব হবে।

এবিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেছেন, সরকারের একার পক্ষে জঙ্গিবাদের উত্থান নির্মূল করা সম্ভব নয়, এজন্য একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা দরকার। তিনি বলেন,‘যদি সরকার জঙ্গিবাদ দমনে জাতীয় প্লাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নেন তাহলে আমরা (বিএনপি)সাড়া দেব।’

এদিকে এবিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পুলিশ,র‌্যাব দিয়ে উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদ দমন করা যাবে না। এতে অবস্থার আরও অবনতি ঘটবে। তাই দেশের বৃহত্তর স্বার্থে দুটি দলের এক সঙ্গে কাজ করা উচিত।

জঙ্গিবাদ দমনে একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম তৈরির প্রয়োজনিয়তার কথা উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, ‘জঙ্গিবাদের পেছনে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে। একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগনের সরকার প্রতিষ্ঠা হলে জঙ্গিবাদ থাকবে না। গণতন্ত্র ফিরে আসলে জঙ্গিবাদের অবসান ঘটবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে সাত দিনের সাঁড়াশি অভিযানে সন্দেহভাজন মোট ১৯৪ জঙ্গিকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা এ কে এম কামরুল আহছান জানিয়েছেন, এই ১৯৪ জনের মধ্যে একজনকে ধরেছে র্যা ব। বাকিরা দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছে।

এদের মধ্যে ১৫১ জন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি), ২১ জন হিজবুত তাহরীর, সাতজন জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ (জেএমজেবি), ছয়জন আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, তিনজন আনসাল আল ইসলাম, একজন হরকাতুল জিহাদ ও একজন ‘আফগান ফেরত জঙ্গি’ বলে পুলিশের ভাষ্য।

সন্দেহভাজন এই জঙ্গিদের মধ্যে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অভিযানের শেষ দিন, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে শুক্রবার ভোর ৬টার মধ্যে।

এদের মধ্যে নয়জন জেএমবি, সাত জন হিজবুত তাহরীর এবং একজন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য বলে কামরুল আহছান জানান।

তিনি বলেন, অভিযানের সপ্তম দিন একটি পাইপ গান, একটি শাটার গান, এক রাউন্ড গুলি, দুটি ককটেল, একটি রাম দা, একটি চাপাতি ও কিছু উগ্র মতাদর্শের বই জব্দ করেছে বিভিন্ন থানার পুলিশ।

“জঙ্গিবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান আজ শেষ হয়েছে। তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখবে,” বলেন পুলিশের জনসংযোগ কর্মকর্তা।

গত এক বছরে লেখক, প্রকাশক, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের হত্যার পাশাপাশি বিদেশি, হিন্দু পুরোহিত, খ্রিস্টান যাজক, বৌদ্ধ ভিক্ষু আক্রান্ত হওয়ার পর সম্প্রতি চট্টগ্রামে একই কায়দায় খুন হন এক পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতু।

এরপর ১০ জুন ভোর ৬টা থেকে শুরু হয় পুলিশের সপ্তাহব্যাপী এই ‘সাঁড়াশি অভিযান’।

বিএনপি শুরু থেকেই এই অভিযানকে ‘সরকারবিরোধীদের ওপর দমন-পীড়ান চালানোর কৌশল’ বলে অভিযোগ করে আসছে।

পুলিশ এই অভিযানের নামে গণগ্রেপ্তার করে ঈদের আগে ‘বাণিজ্য’ করছে বলেও দলটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।

অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, পুলিশের এই অভিযানে কোনো ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য’ নেই।

অভিযানের প্রথম চার দিন সন্দেহভাজন জঙ্গিসহ মোট ১১ হাজার ৩০৭ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য ১৪ জুন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

তাদের মধ্যে ১৪৫ জন বিভিন্ন নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত এবং বাকিরা বিভিন্ন মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি কিংবা মাদক ও অস্ত্র মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার বলে জানায় পুলিশ।

ওইদিনই সাঁড়াশি অভিযানে গ্রেপ্তারের ‘তথ্য নিতে’ সচিবালয়ে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় যুক্তরোষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট।

এরপর অভিযানের বাকি তিন দিনে পুলিশ গ্রেপ্তার জঙ্গিদের সংখ্যা বললেও আর কতজনকে কী কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সে তথ্য প্রকাশ করেনি।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে পুলিশ সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা কামরুল বলেন, ৬ থেকে ১৩ জুন অস্ত্র, মাদক, পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের আরেকটি ‘বিশেষ অভিযান’ চলে।

‘ওই চারদিন দুই অভিযানের তথ্য একসঙ্গে প্রকাশ করা হয়েছিল। ১৪ তারিখের পর শুধু জঙ্গি গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়েছে।’

হয়রানির অভিযোগ অস্বীকা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, কোনো নির্দোষ ব্যক্তি, নিরপরাধ ব্যক্তি কিংবা কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হয়রানি করার জন্য এই অভিযান হয়নি। অভিযান হয়েছে জঙ্গি দমনের জন্য।

‘ক্রমিনাল যারা ছিল- তাদেরকে ধরার একটা প্রক্রিয়া আমরা নিয়েছিলাম। এ ব্যাপারে আমরা সাকসেসফুল হয়েছি।’



« (পূর্বের সংবাদ)