মেইন ম্যেনু

জঙ্গি হামলার শঙ্কা বিবেচনায় রেখে ঈদে কঠোর নিরাপত্তা

ঈদ উল ফিতরের মতো আসন্ন ঈদ উল আজহাতেও জঙ্গি হামলার আশঙ্কা বিবেচনায় রেখেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ানের (র‌্যাব) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, জঙ্গি হামলার ব্যাপারে তাদের কাছে আগাম কোনো গোয়েন্দা তথ্য না থাকলেও আশঙ্কার কথা বিবেচনায় রেখেই ঈদে তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছেন।

তবে তারা মনে করেন সাম্প্রতিককালে বিশেষ করে গত দুই মাসে নব্য জেএমবির প্রধানসহ উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক শীর্ষস্থানীয় জঙ্গি নিহত হওয়ার পর তাদের তৎপরতা ও সক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে।

এরপরও দেশের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ও নির্ভয়ে ঈদোৎসব পালন করতে পারে তা নিশ্চিত করতেই হামলার আশঙ্কা বিবেচনায় রেখেই ঈদে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে।

পুলিশ ও র‌্যাবের কর্মকর্তারা জানান, গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করার পাশাপাশি নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা প্রতিটি লঞ্চ, বাস ও রেলওয়ে স্টেশন এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ মার্কেট, শপিংশল ও প্রতিটি ঈদগাহ এলাকায় অধিকসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করছেন।

এ ব্যাপারে র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার প্রধান কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ‘গত ঈদের মতো এই ঈদেও জঙ্গি হামলার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো গোয়েন্দা তথ্য আমাদের কাছে নেই। তবে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।’

‘তবে হামলার কোনো তথ্য না থাকলেও, যেকোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনার আশঙ্কা বিবেচনায় রেখেই প্রতিটি লঞ্চ, বাস ও রেলওয়ে স্টেশন এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ মার্কেট, শপিংমল ও প্রতিটি ঈদগাহ এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার আয়োজন করা হয়েছে’, বলেন মুফতি মাহমুদ খান।

এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে তৎপর জঙ্গি সংগঠনের জনবল বিবেচনায় এই গোষ্ঠীর সদস্য সংখ্যা একেবারেই নগণ্য।

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অভিযানে শীর্ষস্থানীয় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জঙ্গি নেতা হওয়ার পর তাদের বর্তমান সক্ষমতা নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি সরাসরি মতামত ব্যক্ত না করে বলেন, ‘তাদের সক্ষমতা বা জনবল যা-ই থাক না কেন, তাদের গতিবিধি ও তৎপরতা সম্পর্কে র‌্যাবের সম্যক ধারণা রয়েছে। তাই তাদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় নেই র‌্যাব।’

ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদুর রহমানও বলেন ঈদকে কেন্দ্র করে হামলার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে সম্ভাব্য হামলার কথা বিবেচনায় রেখেই ঈদোৎসব উপলক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করেছে পুলিশ।

উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদুর রহমান মনে করেন সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অভিযানে জঙ্গিদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা নিহত এবং গ্রেফতার হওয়ার পর তাদের সক্ষমতা ও তৎপরতা অনেকটা স্থিমিত হয়ে আসছে।

ডিসি মাসুদুর রহমান বলেন, ‘গত ঈদে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে জঙ্গিরা হামলার পরিকল্পনা করেছিল। কোরবানির ঈদে তারা হামলা করতে পারে কিনা এ ধরনের সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর উপর নজরদারি চলছে।’

‘যেকোন সময় যেকোনো গোষ্ঠী অপতৎপতা চালাতে পারে, সে বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখেই প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে এ ধরনের অপতৎপরতা সফল না হয়’, বলেন উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদুর রহমান।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত ঈদের পর বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে নারী জঙ্গিসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা-কর্মী নিহত ও গ্রেফতার হয়েছে।

জঙ্গিদের জনবলের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য না দিলেও তিনি বলেন ‘জঙ্গি তৎপরতায় যুক্তদের সংখ্যা আপেক্ষিক বিবেচনায় বেশি নয়। তবে বিভিন্ন ঘটনায় নিহত ও গ্রেফতার হলেও সেখানে আবার নতুন সদস্য যুক্ত করা হয়।’

উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসের ৭ তারিখে ঈদ জামাতের প্রাক্কালে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের পাশে একটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলা চালায় জঙ্গিরা। তখন পুলিশের দুই সদস্য ও এক গৃহবধূ নিহত হয়। আর পুলিশের গুলিতে তাৎক্ষনিকভাবে এক হামলাকারি জঙ্গি নিহত হয়। গুলিবিদ্ধ অপর এক জঙ্গি র‌্যাবের হাতে আটক হয়। র‌্যাব সদস্যরা ওই জঙ্গিকে পুলিশের হাছে হস্তান্তর করতে যাওয়ার পথে, টাঙ্গাইলের নান্দাইল এলাকায় তাকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালায় অপর জঙ্গিরা। তখন ওই জঙ্গিসহ আরো এক জঙ্গি নিহত হয়।

এর আগে, গত ১লা জুলাই গুলশানের হলি আর্টিসান রেস্টুরেন্টে জঙ্গি হামলার পর যৌথ বাহিনীর অভিযানে নিহত হয় ছয় জঙ্গি। সন্ত্রাসীদের হামলায় তখন ১৭ বিদেশি ও দুই পুলিশ সদস্যসহ ২২ জন নিহত হয়।

রাজধানীর কল্যাণপুরে একটি বাড়িতে গত ২৬ জুলাই পুলিশের অভিযানে নিহত হয় ৯ জঙ্গি। এছাড়া গত আগস্ট ২৭ নারায়ণগঞ্জে পুলিশের অপর এক অভিযানে নব্য জেএমবির প্রধান বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত কানাডার নাগরিক তামিম চৌধুরীসহ তিন জঙ্গি নিহত হয়। সর্বশেষ গত ৩ সেপ্টেম্বর জেএমবির সামরিক শাখার প্রধান ও তামিম চৌধুরীর ডান হাত বলে কথিত অবসরপ্রাপ্ত মেজর জাহিদুল ওরফে মেজর মুরাদ রূপনগর এলাকায় পুলিশের অপর এক অভিযানে নিহত হয়।

এছাড়াও র‌্যাব ও পুলিশের অভিযানে ১৩ নারী জঙ্গিসহ অন্তত ৫০ জঙ্গি গ্রেফতার হয়েছে।