মেইন ম্যেনু

জঙ্গি হামলায় সেনাদের ভেতর থেকে সাহায্যের সন্দেহ

ভারতের উরিতে সেনা ক্যাম্পে হামলার আগে নিয়ন্ত্রণরেখায় বৈদ্যুতিক কাঁটাতার পার হয়েই জঙ্গিরা প্রবেশ করেছিল। আর এক্ষেত্রে তারা কাঠের মই কাজে লাগিয়েছিল বলে জানিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর তদন্ত রিপোর্ট।

সোমবার এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা।

১৮ সেপ্টেম্বরের ওই হামলার জন্য জঙ্গি সংগঠন জইশ -ই-মহম্মদকে দায়ী করা হয়।

উরি হামলা নিয়ে সেনা বাহিনীর তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়, নিয়ন্ত্রণরেখায় সালামাবাদ নালার কাছে কাঁটাতার টপকে কাশ্মীরে ঢুকেছিল চার জন জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি। কাঠের মই দিয়ে বৈদ্যুতিক কাঁটাতারের উপরে কার্যত ফুটব্রিজ বানিয়ে ফেলেছিল তারা। আর এই ফুটব্রিজ ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র, বিস্ফোরক, গ্রেনেড লঞ্চার ও খাবারদাবার নিয়ে ঢুকে পড়ে তারা।

এই তদন্ত থেকেই সেনার অন্দরমহলের গাফিলতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যেভাবে মই বানিয়ে জঙ্গিরা কাঁটাতার টপকেছিল তাতে যথেষ্ট সময় লাগার কথা। সেনার নিয়মিত সময়ের ব্যবধানে ওই সব এলাকায় টহল দেয়ার কথা। তা সত্ত্বেও জঙ্গিদের কার্যকলাপ কী করে নজর এড়াল, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

দেশটির সাবেক সেনা কর্তারা বলছেন, এর দু’টি ব্যাখ্যা। এক, নিয়ন্ত্রণরেখায় নজরদারিতে গাফিলতি ছিল। দুই, সেনার মধ্যেই জঙ্গিদের কোনও চর ছিল। যে টহলদারি বাহিনীর অবস্থান সম্পর্কে জঙ্গিদের সতর্ক করে।

সেনা সূত্রের বক্তব্য, সালামাবাদ নালার কাছে কাঁটাতারে একটি অংশে ফাঁক ছিল। চার জঙ্গির মধ্যে একজন সেই ফাঁক দিয়ে পাক-অধিকৃত কাশ্মীর থেকে ভারতের এলাকায় ঢুকে পড়ে। বাকিদের পিঠে অস্ত্রশস্ত্র-বিস্ফোরক-খাবারদাবার ভর্তি বড়সড় র‌্যাকস্যাক থাকায়, তাদের পক্ষে সেই ফাঁক দিয়ে ঢোকা সম্ভব ছিল না।

তাই প্রথম জন জোড়াতালি দিয়ে একটি মই বানিয়ে ফেলে। কাঁটাতারের উল্টো দিকে থাকা তিন জনের কাছেও একটা মই ছিল। দু’টো মই জুড়ে কাঁটাতারের উপর দিয়ে কার্যত ফুটব্রিজ বানিয়ে ফেলে তারা।

চার জঙ্গির সঙ্গে তাদের পথ দেখানোর জন্য দু’জন গাইডও নিয়ন্ত্রণরেখা পর্যন্ত এসেছিল। মহম্মদ কবির আওয়ান ও বশরত নামের দুই গাইড উল্টো দিক থেকে মই টেনে নেয়। যাতে জঙ্গিদের অনুপ্রবেশের কোনও চিহ্ন না থাকে।