মেইন ম্যেনু

জনকণ্ঠ সম্পাদক, নির্বাহী সম্পাদকের জেল-জরিমানা

নিবন্ধ বা কলাম প্রকাশের মাধ্যমে আদালত অবমাননার দায়ে দৈনিক জনকণ্ঠের সম্পাদক ও প্রকাশক মোহাম্মদ আতিকউল্লাহ খান মাসুদ এবং নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়কে দোষী সাব্যস্ত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। শাস্তি হিসেবে তাদের দশ হাজার টাকা করে (মোট বিশ হাজার টাকা) জরিমানা, অনাদায়ে সাত দিনের জেল দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত।

একইসঙ্গে বৃহস্পতিবার (দুপুর ১টা) আপিল বিভাগের কার্যক্রম শেষ না হওয়া পযন্ত তাদেরকে আদালতের এজলাস কক্ষে দাঁড়িয়ে থাকার সাজাও (জেল) প্রদান করা হয়।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার (এসকে সিনহা)নেতৃত্বে ছয় সদস্যের বৃহত্তর আপিল বেঞ্চ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৫ মিনিটে এ রায় দেন। আদালত জরিমানার বিশ হাজার টাকা কোনো দাতব্য সংস্থাকে দিতে বলেছেন। রায় ঘোষণার সময় আতিকউল্লাহ খান মাসুদ ও স্বদেশ রায় আদালতে হাজির ছিলেন।

বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন,বিচারপতি আব্দুল ওয়াহাব মিয়া,বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা,বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন,বিচারপতি ইমান আলী ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

রায় ঘোষণার সময় জনকন্ঠের আইনজীবী সালাউদ্দিন দোলন এবং রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম উপস্থিত ছিলেন।

আদালতে বিপুল সংখ্যক আইনজীবী, দেশী-বিদেশী বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আদালত রায়ে বলেছেন, ১৯২৬ সালের প্রণীত আদালত অবমাননার আইন যুগোপযোগী করতে হবে। একই সঙ্গে বলা হয়, এই সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও টকশোতে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। এই বিষয়গুলোর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মনে করে যে, গঠনমূলক সমালোচনা করা যাবে। কিন্তু দেখতে হবে কোনো আইন যেন ভঙ্গ না হয়।

এর আগে গত ১০ আগস্ট প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে ছয় সদস্যের বেঞ্চ রায় ঘোষণার জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৬ জুলাই ‘সাকার পরিবারের তৎপরতা : পালাবার পথ কমে গেছে’ শিরোনামে একটি কলাম প্রকাশ করে দৈনিক জনকণ্ঠ। পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায় এ নিবন্ধটি লেখেন।

স্বদেশ রায়ের ওই নিবন্ধের একটি অংশে বলা হয়, ‘এখানেই কি শেষ ৭১-এর অন্যতম নৃশংস খুনি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। নিষ্পাপ বাঙালির রক্তে যে গাদ্দারগুলো সব থেকে বেশি হোলি খেলেছিল এই সাকা তাদের একজন। এই যুদ্ধাপরাধীর আপিল বিভাগের রায় ২৯ জুলাই। পিতা মুজিব! তোমার কন্যাকে এখানেও ক্রুশে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। তাই যদি না হয়, তাহলে কিভাবে যারা বিচার করছেন সেই বিচারকদের একজনের সঙ্গে গিয়ে দেখা করে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের লোকেরা? তারা কোন পথে বিচারকের কাছে ঢোকে, আইএসআই ও উলফা পথে না অন্য পথে? ভিকটিমের পরিবারের লোকদেরকে কি কখনও কোন বিচারপতি সাক্ষাৎ দেয়। বিচারকের এথিকসে পড়ে! কেন শেখ হাসিনার সরকারকে কোন কোন বিচারপতির এ মুহূর্তের বিদেশ সফর ঠেকাতে ব্যস্ত হতে হয়। যে সফরের উদ্যোক্তা জামায়াত-বিএনপির অর্গানাইজেশন।’

এ কলাম লেখায় আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে জনকণ্ঠের সম্পাদক মোহাম্মদ আতিকউল্লাহ খান মাসুদ ও নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়ের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না- তা জানতে চেয়ে গত ২৯ জুলাই সুয়োমোটো রুল জারি করেন আপিল বিভাগ।