মেইন ম্যেনু

জন্মের পর মেরে ফেলতে চেয়েছিল পরিবার, আজ সেই জন্মান্ধ ৫০ কোটির মালিক!

অন্ধ হয়ে জন্মেছিলেন শ্রীকান্ত। দিন আনা দিন খাওয়া পরিবার। মা-বাবার আয় যৎসামান্য। “এই অন্ধ ছেলে নিয়ে কী হবে? ও কীভাবে পারবে বেঁচে থাকতে? এ তো এই পরিবারের জন্য একটি অভিশাপ। তার থেকে মেরে ফেলাই ভালো নয় কি?” সদ্যোজাত শ্রীকান্তকে সেদিন এভাবেই দেখেছিলেন পাড়া-প্রতিবেশীরা। শিশু শ্রীকান্তর শারীরিক প্রতিবন্ধকতাই ছিল আলোচনার বিষয়। তারপর সময় বয়েছে নিজের নিয়মে। শৈশব-কৈশোর পেরিয়ে শ্রীকান্ত এখন যুবক। কিন্তু, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেই গিয়েছেন তিনি। যে পাড়া প্রতিবেশীরা তাকে মেরে ফেলতে বলেছিলেন, সেই তারাই এখন শ্রীকান্তকে নিয়ে গর্ব অনুভব করেন।

জন্মান্ধ শ্রীকান্ত এখন আস্ত একটি কম্পানির মালিক। যে প্রতিষ্ঠানটির সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫০ কোটি রুপি। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে তাকে সারাজীবন অবহেলিতই হতে হয়েছে, তাই শ্রীকান্ত তার প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছেন প্রতিবন্ধীদের নিয়েই। যেখান থেকে আজ অন্নসংস্থান হয় ৪৫০ জনের।

শ্রীকান্ত বোল্লা। বাড়ি ভারতের হায়দরাবাদের প্রত্যন্ত গ্রামে। জন্মান্ধ হওয়ায় বঞ্চনা ছিল তার একমাত্র সঙ্গী। স্কুলে ভর্তি হতে গিয়ে একাধিকবার খালি হাতে ফেরত আসতে হয়েছে তাকে। সহজ ছিল না লড়াই করা। কিন্তু হার মানেননি। জানতেন সুসময় আসবেই। ভর্তি হয়েছিলেন স্পেশাল চিলড্রেনদের স্কুলে। তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। প্রতি ক্লাসে প্রথম স্থান অধিকার করতে শুরু করেন। মাধ্যমিকে পেয়েছিলেন ৯০ শতাংশ। তারপরও সায়েন্সে সুযোগ পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছিল ৬ মাস। সুযোগ পেয়েই নিজেকে প্রমাণ করেছিলেন তিনি। পেয়েছিলেন ৯৮ শতাংশ। অথচ তারপরও বঞ্চনার হাত থেকে রেহাই পাননি।

IIT তাকে ভর্তি নেয়নি। কিন্তু, মুখ ফেরায়নি মার্কিন যুক্তরাষ্টের MIT। সেখান থেকে প্রথম অন্ধ প্রতিবন্ধী হিসেবে স্নাতক অর্জন করেন তিনি। কাজ করেছেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি APJ আবদুল কালামের সঙ্গেও। চাকরির সুযোগ পেয়েছিলেন অ্যামেরিকায়। কিন্তু সেখানে তিনি চাকরি করেননি। বরং দেশে প্রতিষ্ঠা করেন বোলান্ট ইন্ডাস্ট্রি। তার ইন্ডাস্ট্রিতে পরিবেশবান্ধব পণ্য প্রস্তুত করা হয়। বোলান্টের কাজের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে সম্প্রতি টাটাগোষ্ঠী সেখানে বিনিয়োগ করেছে।

আর পাঁচজন প্রতিবন্ধীর মতো হারিয়ে যেতেই পারতেন শ্রীকান্ত বোল্লা। সেভাবে পাশে পাননি পরিবারকেও। কিন্তু তারপরও দমে যাননি। যে মা-বাবা তাকে নিয়ে চিন্তিত ছিলেন, হয়তো বা ভেবেছিলেন সত্যিই তো “এই ছেলে পাপ”, সেই মা-বাবাকে নিয়ে আজ গর্ব করেন শ্রীকান্তবাবু। তিনি বলেন, “আমার বাবা-মা পৃথিবীর সব থেকে ধনী বাবা-মা। আমি খুশি।”-ইন্দোইন্ডিয়া