মেইন ম্যেনু

জবির শিক্ষক রাজীব মীর সাময়িক বরখাস্ত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মীর মোশারেফ হোসেনকে (রাজীব মীর) সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিভাগের মাস্টার্সের এক ছাত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে গঠিত ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭১তম সিন্ডিকেট সভায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ সিদ্ধান্ত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মীর মোশারেফ হোসেন-এর বিরুদ্ধে বিভাগীয় এক শিক্ষার্থীর আনীত অভিযোগের ভিত্তিতে গঠিত ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মীর মোশারেফ হোসেনকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭১তম সিন্ডিকেট সভায় সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের ভিত্তিতে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

রাজীব মীরের বিরুদ্ধে এছাড়াও যৌন হয়রানির একাধিক অভিযোগ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি প্রতিরোধ সেলে তদন্তধীন। এসব অভিযোগের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে রাজীব মীরের বিভিন্ন সময়ের যৌন নিপীড়নের ঘটনা নিয়ে চলছে ব্যাপক সমালোচনা।

এর আগে গত ৫ এপ্রিল সাংবাদিকতা বিভাগের ওই ছাত্রী রাজীব মীরের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে হুমকি প্রদানসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগ করেন। এসময় অভিযোগের স্বপক্ষে তিনি একটি মুঠোফোন রেকর্ডও প্রশাসনের কাছে প্রদান করেন। পাশাপাশি রাজীব মীরের বিরুদ্ধে ‘উদ্দেশ্যমূলকভাবে’ নম্বর কম প্রদান করার অভিযোগ এনে স্নাতক পরীক্ষার নম্বরও তুলে ধরেন তিনি। এসব অভিযোগের পাশাপাশি প্রশাসনের কাছে ওই ছাত্রী তার একাডেমিক নিরাপত্তাও চেয়েছিলেন।

ওই ছাত্রীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ট্রেজারার সেলিম ভূঁইয়াকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই কমিটি প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে গত ১১ এপ্রিল রাজীব মীরসহ ৩ শিক্ষককে মাস্টার্সের ক্লাস থেকে সাময়িক অব্যাহতি প্রদান করে।

পরবর্তীতে স্নাতক চতুর্থ বর্ষের একাধিক শিক্ষার্থীও রাজীব মীরের বিরুদ্ধে একাডেমিক ফলাফলের নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করে। এছাড়া রাজীব মীরের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে ক্যাম্পাসে দুটি প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনও একাধিক দিন কর্মসূচি পালন করে।

এর আগে ২০০৪ সালে পূর্বের কর্মস্থল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের অনৈতিক প্রস্তাব দেয়ায় ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলে রাজীব মীরকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল ছাত্রীরা। এছাড়াও ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজীব মীরের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন করার গুঞ্জন রয়েছে।

২০১৪ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজীব মীরের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদের মদদ দেয়া, ছাত্রীদের অনৈতিক প্রস্তাব দেয়াসহ নানা অভিযোগ এনে তার অপসারণ দাবি করে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করেছিল কয়েকশ শিক্ষার্থী। তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে স্মারকলিপিও দিয়েছিল।