মেইন ম্যেনু

জমটুপি পড়ানোর সময় শেষ কথায় যা বলে গেলেন সাকা-মুজাহিদ

সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ পাশাপাশি কনডেম সেলে ছিলেন। রাত ১২টা ৪০ মিনিটে দুজন ম্যাজিস্ট্রেট কনডেম সেলে যান। কারা সূত্র জানায়, আশরাফ হোসেন ও তানভীর মাহামুদ নামের দুজন ম্যাজিস্ট্রেট তাদের দুজনকে বের করে আনেন।

কারা সূত্রে আরো জানা গেছে, ফাঁসি কার্যকর করার সময় বেশ কয়েকজন কারা কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। শাহজাহান ও রাজু জল্লাদের নেতৃত্বে ছয়জন জল্লাদ প্রস্তুত ছিলেন। ফাঁসির আগে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, আমি কোনো অন্যায় করিনি।

ঈর্ষান্বিত হয়ে শেখ হাসিনা আমাকে ফাঁসিতে ঝোলাচ্ছে। তার বিচার আল্লাহ করবে। জানা গেছে, রাত ১২টা ৪০ মিনিট থেকে ৪৫ মিনিটের দিকে তাদের দুজনকে কনডেম সেল থেকে বের করা হয়।

মুজাহিদ বলেন, ‘আমি কোনো অন্যায় করিনি। এর বিচার আল্লাহ করবে।’ ১২টা ৫০ থেকে ৫১ মিনিটে তাঁদের দুজনকে ফাঁসির মঞ্চে নেওয়া হয়। ফাঁসির মঞ্চের লিভারের দায়িত্বে ছিলেন জল্লাদ শাহজাহান। মুজাহিদ প্রথমে জমটুপি পরতে চাননি।

তিনি বলেছেন, ‘আমার কোনো অসুবিধা হবে না। জমটুপি পরাতে হবে না।’ কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ তাকে বলে, রীতি অনুযায়ী তাঁকে জমটুপি পরতেই হবে। পরে তিনি জমটুপি পরেন। ফাঁসির কাষ্ঠে ওঠার আগে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও মুজাহিদ দুজনই কোরআন তেলাওয়াত, কলেমাসহ বিভিন্ন দোয়া-দরুদ পড়তে থাকেন।

মঞ্চে ওঠার আগে তারা দুজনে অজু করেন। দুই রাকাত নফল নামাজ পড়েন। রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে তাদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

ডিবির উপপরিদর্শক নাজমুল আলম জানান, তাদের দুজনকে একই মঞ্চে একই লিভারে ফাঁসি দেওয়া হয়। এ সময় তারা দুজনই স্বাভাবিক ছিলেন। ফাঁসি কার্যকরের সময় তারা দুজনই চিৎকার করে ওঠেন।

১৫ মিনিটের মতো তাদের ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এরপর নামিয়ে এনে পায়ের রগ কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।

রাত ২টা ৫৫ মিনিটে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর কফিনবাহী একটি অ্যাম্বুলেন্স বের হয়ে আসে এবং র‌্যাব-পুলিশের পাহারায় তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজানের উদ্দেশে রওনা হয়ে যায়।

এর পরপরই মুজাহিদের কফিনবাহী অ্যাম্বুলেন্স বের হয়ে আসে এবং তার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের উদ্দেশে রওনা হয়।