মেইন ম্যেনু

কয়েকটি বাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ

জমি দখলকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগ নেতা খুন : গ্রেফতার আতংকে পুরুষ শূন্য গ্রাম

নওগাঁর রাণীনগরে জমি দখলকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগ নেতা আমজাদ হোসেন (৩৫) খুনের ঘটনা ঘটেছে।এঘটনায় প্রতিপক্ষের শফির আলী (৭৫) নামের একবৃদ্ধ গুরুত্বর অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। ঊত্তেজিত জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুরসহ অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে। গ্রেফতার আতংকে গ্রামটি পুরুষ শুন্য হয়ে পড়েছে। নিহতের স্ত্রী ফাইমা বিবি বাদি হয়ে রাণীনগর থানায় ৩৭ জনের নাম ঊল্লেখসহ আরো ৮-১০ অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছে। এ ঘটনায় থানা পুলিশ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে রোববার উপজেলার বোহার গ্রামে।

জানা গেছে, উপজেলার বোহার গ্রামের কবেজ হোসেনের ছেলে নিহত আমজাদ হোসেনের সঙ্গে একই গ্রামের দাখিল মাদ্রাসার সুপার জামায়াত নেতা মোজাফ্ফর হোসেনের সাথে র্দীঘদিন ধরে ২৫ শতক ফসলী জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। রোববার সকাল ৭ টার দিকে আমজাদ হোসেন জমিতে -চাষ করার সময় মোজাফ্ফর হোসেন ও তার লোকজন বাধা দেয়। এসময় উভয়ের মধ্যে মারপিট শুরু হলে মোজাফ্ফরের বাবা শফির উদ্দীনকে ছুরিকাঘাতে গুরুত্বর আহত করে। এখবর দূত ছড়িয়ে পরলে শফির উদ্দীনের লোকজন পাল্টা হামলা চালায় আমজাদ হোসেনের উপর। এতে হামলা কারীরা রামদা দিয়ে কুপিয়ে আমজাদের ডান পায়ের গোড়ালী থেকে পা বিচ্ছিন্ন করে ফেলে এবং বামপায়ের রগ কেটে দেয় এবং এলোপাথারিভাবে মারপিট করে। এসময় আমজাদের দেহ থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হলে তাকে প্রথমে আদমদিঘী পরে নওগাঁ হাসপাতালে নেয়া হয় । সেখান থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে তিনি মারা যান। মারপিটের সময় উভয় পক্ষের নারী পুরুষ সহ কমপক্ষে ১১ জন আহত হয়। আমজাদ হোসেনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা মোজাফ্ফরের বাড়িসহ প্রতিপক্ষের বেশ কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুরসহ অগ্নি সংযোগ করে।

হত্যার ঘটনার খবর পেয়ে রাণীনগর থানা পুলিশ ও সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার কে.এল সরকার প্রয়োজনীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। একই সাথে স্থানীয় সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম এমপি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি গ্রামবাসীদের শান্ত করেন। এদিকে গতকাল সোমবার নওগাঁ পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক পি.পি.এম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেণ। এই ঘটনার পর থেকে মোজাফ্ফর ও তার অনুসারিরা গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায় এবং পুলিশ আতংকে গ্রামটি পুরুষ শূন্য হয়ে পরে।

রাণীনগর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল-মাসউদ চৌধুরী জানান, ওই গ্রামের ইদন সরদারের ছেলে হবিবুর রহমান (৫৫), আব্দুল রহমানের ছেলে বুলু (৩২), আব্দুল জব্বারের ছেলে ইনামুল (৪০), মোসলিম উদ্দিনের ছেলে শরিফুল ওরফে ঝুন্টু (২২), বেলতা গ্রামের হাছেন উদ্দিনের ছেলে মোকসেদ (৫০) কে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামীদেরকে গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।