মেইন ম্যেনু

জমেছে বিক্রি, দেশি গরুর দখলে বাজার

পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র দুই দিন বাকি। ইতিমধ্যে জমে উঠেছে রাজধানীর পুরান ঢাকার পশুর হাটগুলো। সরেজমিনে দিয়ে দেখা গেছে, এ বছর দেশি গরু দখল করে নিয়েছে পুরান ঢাকার নয়াবাজার, মিটফোর্ড, ইসলামপুর বাজার রোড, ডিসিসি রোড, লালবাগ, হাজারীবাগের অবস্থিত কোরবানির পশুর হাটগুলো।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিদেশি গরুও বাজারে রয়েছে। তবে এ সংখ্যা এখনো কম। শেষ মুহূর্তে ভারতের গরু বাজারে ঢুকে গেলে তাদের পানির দরে গরু বিক্রি করতে হবে। ব্যবসায়ীদের দাবি, ভারতের গরু যেন কোনো অবস্থাতেই বাজারে না আসে।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকেই ক্রেতা সমাগম কিছুটা কম দেখা গেলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বাড়তে থাকে। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ায় শঙ্কিত ব্যবসায়ীরা। গতকালও প্রায় দিনভর থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী থাকা বৃষ্টিতে অনেক হাটে পানি জেমে গেছে। ফলে কয়েকটি হাটে দেখা গেছে, পশু রাখা বিপজ্জনক হয়ে পড়ছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করছেন ব্যবসায়ীরা। ঈদের আগের দুদিন হাট আরো সরগরম হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা বিক্রেতাদের।

এদিকে ক্রেতারা জানান, হাটে কোরবানির পশু পর্যাপ্ত বলে মনে হচ্ছে না। তবে দাম নিয়ে রয়েছে ভিন্ন মত। ঈদের বাকি আর মাত্র দুদিন। এখনো দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কোরবানির পশু নিয়ে রাজধানীর হাটগুলোতে আসছেন বিক্রেতারা। গত দুই দিন বৃষ্টির কারণে ক্রেতা কম থাকলেও আজ (বুধবার) সকাল থেকে জমে উঠতে শুরু করে রাজধানীর হাটগুলো।

বিক্রেতারা আশা করছেন, আজ ও আগামীকাল কোরবানির হাটের পশু বিক্রি আরো বাড়বে। ঈদের আগের দুই দিন ক্রেতা উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি হবে বলে আশাবাদ বিক্রেতাদের। এদিকে ক্রেতারাও চাইছেন, শেষ সময়ে এসে সাধ্যের মধ্যে ভালো পশুটা কিনতে।

হাট ঘুরে দেখা গেছে, দাম কম-বেশি নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে অভিযোগ-অনুযোগ থাকলেও দাম একেবারে খুব বেশি এমনটা এখনো অভিযোগ পাওয়া যাইনি। ক্রেতার উপস্থিতি কম, তবে যারাই আসছেন তার মধ্যে অনেকেই গরু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

ধূপখোলা হাটে গতকাল বৃষ্টির পানির কারণে কর্দমাক্ত অবস্থা। গরুর পা অর্ধেক জমে থাকা বৃষ্টির পানির কারণে সৃষ্ট কাদার মধ্যে ঢুকে রয়েছে। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীরা নিজেরাই হাটের পানি নিষ্কাশন করছেন। এর একটু পরই আবার প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বৃষ্টি হয়।

ব্যবসায়ীরা ক্ষোভের সঙ্গে বললেন, এভাবে চলতে থাকলে হাটে গরু রাখতেই কষ্ট হয়ে যাবে। যে আশায় গরু নিয়ে এসেছিলেন তা হয়তো ভেস্তে যাবে।

কবির হোসেন নামের এক বিক্রেতার দাবি, তার লাখ টাকার গরুগুলো কখনো পানিতে এ অবস্থায় থাকতে অভ্যস্ত নয়। এতে গরু অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এ ব্যাপারে ইজারাদার প্রতিনিধি মো. রানা জানালেন, বালির মাঠ হওয়ার কারণে পানি এমনিতেই সরে যাওয়ার কথা। কিন্তু গতকাল বারবার বৃষ্টি ও আজও আবহাওয়া খারাপ থাকায় পশুর খুরে গর্ত হয়ে পানি জমে রয়েছে।

তিনি বলেন, এ হাটের মেডিক্যাল বুথে দুই শিফটে ১২ জন পশু চিকিৎসক কাজ করছেন, তাই পশু অসুস্থ হলেও চিন্তার কিছু নেই।

তিনি আরো বলেন, হাটে পশুর চাপ এতটাই বেশি যে, নির্ধারিত স্থানের বাইরে গরুও রাখতে হয়েছে অনেককে।

রহমতগঞ্জ খেলার মাঠে স্থাপিত বাজারে জামালপুর থেকে পনেরটি গরু নিয়ে এসেছেন তাছের নামের এক ব্যাপারী। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত তিনটি গরু বিক্রি করেছেন তিনি। তার দাবি, ক্রেতারা যে দাম হাকাঁচ্ছেন তাতে কেনা দামও আসছে না। এমনটি হলে লোকসান গুণতে হতে পারে।

সোহানুর রহমান নামের এক ক্রেতা বলেন, সাড়ে চার মণ ওজনের একটি গরুর জন্য এক লাখ দশ হাজার টাকা চাইছেন এক বিক্রেতা। এটা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি।

হাটের অন্যান্য ইজারাদাররা জানান, পশু রাখার জায়গা না থাকার কারণে বৃষ্টির ভয়ে অনেকে গরু কিনছেন না। তবে ঈদ ঘনিয়ে আসায় আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) শেষ দিন থেকে বেচা-বিক্রির ধুম পড়বে।

তারা জানান, দাম স্বাভাবিক আছে। বাজারে চার মণ ওজনের একটি গরু ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে পেশাদার গরু ব্যবসায়ী শফিউদ্দিনের মতে, শেষ দুই দিনে গরুর সংখ্যাই দাম নির্ধারণ করে দেয়। যত স্বাভাবিক থাকুক না কেন-কোনো কারণে গরুর ঘাটতি হলে দাম লাফিয়ে বাড়বে। আর বেশি গরু থাকলে লোকসান গুণতে হবে বিক্রেতাদের।