মেইন ম্যেনু

জলবায়ু পরিবর্তন : ঝুঁকিতে ঢাকা

অনিয়ন্ত্রিত কার্বন নিঃসরণের ফলে ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বে নতুন করে ১০ কোটি মানুষ চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাবে। সেই সঙ্গে পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বাস্তুচ্যুত হবে ৭৬ কোটি মানুষ । এ ছাড়া বিশ্বের সবচেয়ে হুমকির মুখে থাকা ১০টি শহরের মধ্যে রয়েছে রাজধানী ঢাকা।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় রোববার বিশ্বব্যাংক ও ক্লাইমেট সেন্ট্রাল নামে একটি অলাভজনক সংস্থা পৃথক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে। ফ্রান্সের লা বরগেটে আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ২১তম বিশ্ব সম্মেলনকে সামনে রেখে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

বিশ্বব্যাংকের ‘শক ওয়েভস : ম্যানেজিং দি ইমপ্যাক্টস অব ক্লাইমেট চেঞ্জ অন প্রোভার্টি’ শীর্ষক প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি আগামী ১৫ বছরের মধ্যে বিশ্বের ১০ কোটিরও বেশি মানুষকে চরম দারিদ্রসীমার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এ দিক থেকে সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে আফ্রিকার সাব সাহারা অঞ্চল ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো।

জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা ইতিমধ্যে এসব দেশগুলোর দারিদ্র্য হ্রাস চেষ্টায় প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে শস্য উৎপাদন হ্রাস, খাদ্যমূল্য বৃদ্ধি এবং অধিকাংশ দরিদ্রের জীবনধারণের প্রধান উৎস কৃষি খাতে এর প্রভাব পড়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পানিবাহিত রোগ ও ম্যালেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে। ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি অতিরিক্ত ১৫ কোটি লোককে ম্যালেরিয়া ঝুঁকিতে ফেলছে।

বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ও প্রতিবেদনের সহলেখক স্টেফান হেলগেট বলেন, ‘প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে দারিদ্র্য হ্রাস ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই পৃথকভাবে করা যাবে না। দুটি ক্ষেত্রে সাফল্য সম্ভব, যদি তাদের নিয়ে একসঙ্গে কাজ করা যায়।’

হেলগেট বলেন, ‘আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, আজকের নিরাপত্তার জন্য যেমন আমরা অবকাঠামো নির্মাণ করি, একই সঙ্গে যেখানে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে এবং বৃষ্টিপাতের পরিবর্তন হবে, সে ক্ষেত্রেও যেন সেই জায়গা নিরাপদ থাকে।’

এদিকে ক্লাইমেট সেন্ট্রাল তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কার্বন নিঃসরণের কারণে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের যে উচ্চতা বাড়বে, তাতে ৭৬ কোটি মানুষের বাড়ি তলিয়ে যেতে পারে। কার্বন নিঃসরণ যদি কমানো যায়, তাহলে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি ঠেকানো যাবে। এতে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ১৩ কোটি কমবে ।

জলবায়ু পরিবর্তনে বিশ্বের যে ১০টি শহরে সবচেয়ে বেশি মানুষ হুমকির মুখে, তার সব কটিই এশিয়ায়। এর মধ্যে আছে সাংহাই, হংকং, কলকাতা, মুম্বাই, ঢাকা, জাকার্তা ও হ্যানয়। এসব দেশের বিস্তীর্ণ অংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণকারী দেশ চীনের ১৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষের ঘরবাড়ি তলিয়ে যাবে। ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা হলে এ সংখ্যা কমে ৬ কোটি ৪০ লাখ হবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বৃহত্তম কার্বন নিঃসরণকারী দেশ। কার্বন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করা হলে এসব দেশ তাদের যে বিস্তীর্ণ অঞ্চল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তা অর্ধেকে নামিয়ে আনতে পারবে।