মেইন ম্যেনু

জলবায়ু পরিবর্তন : দাতাদের ব্যয় ২৪০০ কোটি ডলার

বিশ্বের ছয়টি বৃহৎ বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংকের জোট (এমডিবি’এস) ২০১৪ সালে জলবায়ুর ঝুঁকি নিরসনে মোট ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এই অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) মঙ্গলবার এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

এর মধ্যে ৯১ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছে ব্যাংকগুলোর নিজস্ব ফান্ড থেকে। বাকী ৯ শতাংশ এসেছে দ্বিপাক্ষিক বা বহুপাক্ষিক দাতাদের গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট সুবিধা এবং জলবায়ু বিনিয়োগ তহবিলসহ বহিরাগত সম্পদ থেকে। যার পরিমাণ প্রায় ২৬০ কোটি ডলার।

মোট সহায়তার মধ্যে অঞ্চল ভেদে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সবচেয়ে বেশি অর্থ এসেছে। এ অঞ্চলে মোট অর্থায়নের ২১ ভাগ বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে ১৭ শতাংশ, নন-ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ায় ১৬ শতাংশ, সাব সাহারান আফ্রিকা অঞ্চলে ১৫ শতাংশ এবং পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিতরণ করা হয়েছে ১০ শতাংশ।

ব্যাংকগুলো হচ্ছে, আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ইউরোপীয়ান রিকনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক, আন্তঃ-আমেরিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এবং বিশ্ব ব্যাংক গ্রুপ।

এছাড়া এমডিবি জলবায়ু অর্থায়ন শীর্ষক চতুর্থ যুগ্ম রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালে ৬টি ব্যাংক মিলে মাইগ্রেশন খাতে (প্রশমনের প্রচেষ্টায়) ২৩০০ কোটি ডলার এবং অভিযোজন কাজের জন্য ৫০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে।

সংস্থার বাংলাদেশ মিশনের মুখপাত্র গোবিন্দ বার জানিয়েছেন, দাতা সংস্থা তথা বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংকগুলোর অনুদান বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

এ বিষয়ে এডিবি’র জ্ঞান ব্যবস্থাপনা ও টেকসই উন্নয়নের সহ-সভাপতি বিন্দু এন লোহানী বলেন, জলবায়ুর ঝুঁকি নিরসনে ২০২০ সাল পর্যন্ত উন্নয়নশীল দেশগুলোর এক হাজার কোটি ডলারের প্রয়োজন। এ জন্য ফ্রান্সের প্যারিসে অনুষ্ঠিতব্য সভায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর একাত্ম হতে হবে। একই সঙ্গে বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংকগুলোকেও আরো বেশি তৎপর হতে হবে।

আগামী বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় এডিবি তাদের অর্থ সহায়তা আরো ৫০ শতাংশ বাড়ানোরও ঘোষণা দিয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

এর আগে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট পরিবেশের ক্ষতি কমাতে বৃহৎ কার্যক্রম হাতে নেয় এডিবি। এ ক্ষেত্রে এশিয়া ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের দিকে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে এডিবি তার উন্নয়নশীল সদস্য দেশগুলোর মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমন ও অভিযান উন্নতির জন্য স্বীকৃত প্রথমবারের মত ‘গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড’ চালু করেছে। সংস্থাটির ব্যবস্থাপনায় এটি মূলত বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক হিসেবে কাজ করবে। এর বাইরে ৩০০ কোটি ডলারের অর্থিক সহয়তার লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি। চলতি বছরের নভেম্বরের আগে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও গোবিন্দ বার জানিয়েছেন।

এছাড়া জলবায়ু ফান্ডে বিভিন্ন দাতা প্রতিষ্ঠানের সহয়তা ও অর্থায়ন নিশ্চিত করতে চলতি বছরের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব জলবায়ু সম্মলনে প্রত্যাশিত জলবায়ু চুক্তি সম্পন্ন করারও লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এডিবির বাংলাদেশ মিশনের মুখপাত্র গোবিন্দ বার বলেন, এ বিষয়ে গত ২৭ মার্চ এডিবির উচ্চ পর্যায়ের সভায় এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

এডিবি সূত্র মতে, ২০১০ সালে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের অধিবেশেনের অধিনে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (ইউএনএফসিসিসি) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি গঠন করা হয়েছে মূলত কেন্দ্রিয়ভাবে সব ধরণের জলবায়ু বিষয়ক ফান্ড রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার জন্য।

ফ্রেমওয়ার্কের লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে ধরা হয়েছে- উন্নয়নশীল দেশগুলোর গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমন কমানো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করা। ৭টি উন্নয়নশীল দেশসহ মোট ৩২টি উন্নত দেশ এ ফান্ডে ১০২ কোটি ডলার অর্থ সহায়তা দেয়ার অঙ্গীকার করেছে। এর মধ্যে বেশি সাহায্য দেয়ার প্রতিশ্রুতি করা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি।

এডিবি মনে করে বেশকিছু কারণে এশিয়ার দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। এ জন্য নীচু ভূমি, কৃষি নির্ভরতা এবং দ্রুত নগরায়ন উল্লেখযোগ্যভাবে দায়ী।

এডিবি কৌশলগতভাবে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের মানুষদের জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করার বিষয়টি। ২০১৪ সালে এডিবি ঠিক ৩০০ কোটি ডলার জলবায়ু অর্থায়ন অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমন জন্য প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং অভিযোজন জন্য বাকী ২৫ শতাংশ বরাদ্দ ব্যয় হয়েছে।

এছাড়া, এডিবি নিজস্ব খাত থেকে এবং দ্বিপাক্ষিকভাবে জ্বালানী, দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, প্রত্যন্ত অঞ্চলে জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতাসহ প্রভৃতি খাতে অতিরিক্ত ২৬০ কোটি ডলার আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।