মেইন ম্যেনু

জলাতঙ্ক হওয়ায় খালেদা ভোটারদের কুকুর হিসেবে দেখেন

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জলাতঙ্ক রোগ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর সে কারণেই তিনি (খালেদা জিয়া) নির্বাচনে উপস্থিত ভোটারদের কুকুর হিসেবে দেখেছেন বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী আজ শনিবার সন্ধ্যায় তার সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভার সভাপতিত্বকালে এমন মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা। দশম সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া গত ৫ জানুয়ারি বিএনপি অফিসের সামনে আয়োজিত সমাবেশে গত সাধারণ নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রেগুলোতে কুকুর ও পুলিশ ছাড়া আর কেউ উপস্থিত ছিল না বলে যে জঘন্য মন্তব্য করেছেন এ জন্য তাকে তওবা করে জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। সেই সঙ্গে ধ্বংসাত্মক রাজনীতির নামে দেশবাসীকে পুড়িয়ে মারার জন্য তাকে অবশ্যই জবাবদিহী করতে হবে।’

খালেদার প্রতি প্রশ্ন রেখে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাহলে ওইদিন ভোটাররা যারা ভোট দিলো, তারা কি সবাই কুকুর? এটা কোন ধরনের কথা, উনি ভোটারকে কুকুর বলবেন? কত বড় হীনমন্যতায় ভুগলে মানুষকে উনি কুকুর দেখে? কোনো রাজনৈতিক নেতা এভাবে মানুষকে গালি দিতে পারে?’

তিনি বলেন, ‘জলাতঙ্ক রোগ হলে নাকি মানুষ চোখে কুকুর দেখে। ওনাকে (খালেদা জিয়া) আবার কোন কুকুর কামড় দিল?’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পচাত্তরের পর জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর কমপক্ষে ৫৬৫ মুক্তিযোদ্ধাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে। দেশের বিভিন্ন কারাগারে প্রতি রাতে সেনা কর্মকর্তাদের ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে তখন। দেশে শুরু হয় ক্যু-পাল্টা ক্যু’র রাজনীতি। তিনি (জিয়া) যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমতায় বসান, রাষ্ট্রপতি-মন্ত্রী-এমপি করেন। খালেদা জিয়াও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন। ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় এসে বিএনপি দুর্নীতি-অনিয়ম, অত্যাচার-নির্যাতন চালায়। এর ফলে ১৯৯৬ সালে জনরোষে তারা ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে বাধ্য হন। ১৫ ফেব্রুয়ারির প্রহসনের নির্বাচন করেও তারা টিকে থাকতে পারেনি।’

‘২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মতোই দেশে অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছিল’ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ’বাবা-মা নৌকায় ভোট দেয়ার অপরাধে নয় বছরের শিশুকে পর্যন্ত সে সময় ধর্ষণ করা হয়। আওয়ামী লীগ অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে। তাই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন হয়, দেশের মানুষ কিছু পায়।’ এসময় তিনি ১৯৯৬ সালে একবার ও ২০০৮ সালের পর থেকে দু’বার ক্ষমতায় আসার প্রেক্ষাপট ও তিনবারের সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন।

দেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘২০০৮ সালে নির্বাচনী ইশতেহার ছিল ভিশন-২০২১। আমরা ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে কিভাবে গড়ে তুলতে চাই, সেটাই ভিশন। শুধু তাই নয়- এখনই আমাদের মাথাপিছু আয় বেড়েছে, বৈদেশিক রিজার্ভ বেড়েছে। বিশ্ব স্বীকৃতি পেয়েছি। আমরা দক্ষতার সঙ্গে দেশ চালিয়েছি বলেই এমনটা পেরেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা জয়, ভারতের সঙ্গে স্থল সীমানা চুক্তি- সব আমাদের সময়ই হয়েছে। এছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে ছিটমহল নিয়ে যুদ্ধ হয়, ঝামেলা হয়। কিন্তু বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে তা হয়নি।’