মেইন ম্যেনু

জলেভাসা টেস্ট ড্রতেই শেষ

বাংলাদেশকে ফলোঅনে ফেলে ফতুল্লায় রোমাঞ্চ ছড়িয়ে দিয়েছিল ভারত। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে তামিম-ইমরুলের ধৈর্য্যশীল ব্যাটিং আর ভারতের আনকোড়া বোলিংয়ে নিষ্প্রাণ ‘ড্র’ হল ফতুল্লা টেস্ট। পঞ্চম দিনে শেষ সেশনে দুই ঘন্টা খেলাতে চেয়েছিল আম্পায়ররা। দুই ঘন্টা বললে ভুল, ৩০ ওভার। কিন্তু ১৫ ওভার পরই আলোক সল্পতা দেখা দেয়া দেয়। ফতুল্লার চারটি ফ্ল্যাড লাইট জ্বালিয়েও ম্যাচ পরিচালনা কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়ে আম্পায়ারদের জন্যে। শেষ পর্যন্ত ‘ড্র’ মেনে নেয় দুই দলের মাঠে থাকা ক্রিকেটাররা।

টেস্টের শেষ দিনের রোমাঞ্চ দেখে মনে হতে পারে পাঁচটি দিন হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেছে দুই দল। কিন্তু স্কোরশিট না দেখলে ভুল হবে তাদের। পাঁচদিনে খেলা হওয়ার কথা মোট ৪৫০ ওভার। কিন্তু খেলা হয়েছে মাত্র ১৮৪.২ ওভার! পুরো ম্যাচের রোমাঞ্চ নষ্ট করে দেয় বেরসিক বৃষ্টি।

ভারতের করা ৪৬২ রানের জবাবে ফলোঅন এড়াতে ২৬৩ রান করতে হত বাংলাদেশকে। কিন্তু সবকটি উইকেট হারিয়ে প্রথম ইনিংসে ২৫৬ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা।

২০৬ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে বাংলাদেশ। ১৫ ওভারে খেলায় ২৩ রান তুলে নেয় তারা। তামিম ১৬ ও ইমরুল ৭ রানে অপরাজিত থাকেন।

টেস্টের শেষ দিনে প্রথম সেশনের খেলা হয়নি। বৃষ্টির কারণে ভেস্তে যায় পুরো সেশন। মধ্যাহ্ন বিরতির পর দুপুর পৌনে একটায় মাঠে নামে দুই দল। ৩ উইকেটে ১১১ রান নিয়ে মধ্যাহ্ন বিরতির পর পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। ইমরুল কায়েস (৫৯) ও সাকিব আল হাসান (০) ব্যাটিং শুরু করেন।

শুরুতেই সাকিব আল হাসান ইশান্তের বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে রানের খাতা খুলেন। পরের ওভারে অশ্বিনের ফুললেন্থ ডেলিভারিতে কভার দিয়ে আরেকটি বাউন্ডারি হাঁকান বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। কিন্তু দুই বল পরই স্বাগতিক দর্শকদের হতাশ করেন সাকিব। অশ্বিনের শর্ট বলে কাট করতে গিয়ে ঋদ্ধিমান সাহার তালুবন্দি হন সাকিব। ৯ রানেই শেষ সাকিবের ইনিংস।

এরপর সৌম্য সরকার ও ইমরুল কায়েস ভারতীয় বোলারদেরকে বেশ দাপটের সঙ্গে খেলতে থাকেন। দ্রুত রান তোলায় ব্যস্ত ছিলেন এই দুই বাহাতি। সৌম্য ছিলেন তুলনামূলক বেশি আক্রমণাত্মক। দ্রুত ৫১ রান যোগ করেন তারা। এরপরই বিপত্তি টেনে আনেন ইমরুল। হারভাজন সিংয়ের বলে স্ট্যাম্পড হয়ে ৭২ রানে ফিরে যান ইমরুল।

চার বলের ব্যবধানে বরুণ অ্যারনের পরের ওভারের প্রথম বলে বোল্ড হন সৌম্য (৩৭)। উইকেটের অনেক বাইরে বল ড্রাইভ করতে গিয়ে ব্যাটের কানায় বল লেগে সোজা সৌম্যর স্ট্যাম্পে আঘাত করে। ৫৪ বলে ৭ বাউন্ডারিতে ৩৭ রান আসে সৌম্যর ব্যাট থেকে।

দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন অভিষিক্ত লিটন কুমার দাস ও শুভাগত হোম। ৪৩ রান যোগ করেন এই দুই ব্যাটসম্যান। যাতে শুভাগত হোম যোগ করেন মাত্র ৯ রান। কেন তাকে টেস্ট দলে নেওয়া হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে নির্বাচকদের। কিন্তু ভারতের বিপক্ষে নিজেকে প্রমাণের সেই সুযোগটিও নষ্ট করেছেন শুভাগত। বোলিংয়ে ১৪ ওভারে উইকেট শূন্য থাকার পর ব্যাটিংয়ে তার ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৯! অশ্বিনের বলে লেগস্লিপে রোহিত শর্মার হাতে ধরা পড়েন তিনি।

শুভাগতের বিদায়ের পরও লড়ে যান লিটন। কিন্তু নিজের ধৈর্য্য ধরে রাখতে পারেননি উইকেট রক্ষক এই ব্যাটসম্যান। ৪৫ বলে ৪৪ রান করে অশ্বিনের পঞ্চম শিকারে পরিণত হন লিটন। অনেকটা শুভাগতের মতই আউট হন তিনি। অশ্বিনের বলে লেগস্লিপে রোহিতের হাতে ধরা পড়েন তিনি।

এরপর আর পেরে উঠেনি বাংলাদেশ। শহীদ, তাইজুলরা একে একে নিজেদের উইকেট বিলিয়ে এসেছেন। শহীদ ৬ ও জুবায়ের শূন্য রানে আউট হন। ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন তাইজুল।

বল হাতে অশ্বিন একাই নেন ৫ উইকেট। ৮৮ আন্তর্জাতিক ম্যাচ পর জাতীয় দলে ফিরে আসা হারভজন সিং নেন ৩ উইকেট। ১টি উইকেট নেন বরুণ অ্যারন।

এর আগে শুক্রবার তৃতীয় দিন শেষে ৬ উইকেটে ৪৬২ রান করেছিল সফরকারীরা। শনিবার চতুর্থ দিনের শুরুতেই ইনিংস ঘোষণা করে তারা।

ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ ১৭৩ রান করেন শিখর ধাওয়ান। ১৯৫ বলে ২৩ বাউন্ডারিতে ইনিংস সাজান এই বাঁহাতি ওপেনার।

আরেক ওপেনার মুরালি বিজয় করেছেন ১৫০ রান। এটি ছিল তার ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ টেস্ট সেঞ্চুরি। ২৭২ বলে ১২ চার ও ১ ছক্কায় ১৫০ রানের ইনিংস গড়েন মুরালি। এ ছাড়া মাত্র ২ রানের জন্যে ক্যারিয়ারের চতুর্থ টেস্ট সেঞ্চুরি থেকে বঞ্চিত হন অজিঙ্কা রাহানে। ৯৮ রানে সাকিবের শিকার হন তিনি।

অধিনায়ক হিসেবে কোহলির শুরুটা ভালো হয়নি। মহেন্দ্র সিং ধোনি টেস্ট থেকে অবসর নেওয়ার পর এটি ছিল কোহলির অধীনে ভারতের প্রথম টেস্ট। কিন্তু প্রথম ইনিংসেই ফ্লপ কোহলি। মাত্র ১৪ রান করে তরুণ তুর্কি জুবায়েরের কাছে হার মানেন কোহলি।

বল হাতে বাংলাদেশের সেরা বোলার সাকিব আল হাসান। ৪ উইকেট নেন তিনি। এ ছাড়া লেগ স্পিনার জুবায়ের হোসেন লিখন নেন ২ উইকেট।