মেইন ম্যেনু

জাকির নায়েক বাংলাদেশে খুবই জনপ্রিয়, তদন্ত ছাড়া সিদ্ধান্ত নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গুলশানে হামলার ঘটনায় ‘বিতর্কিত’ ইসলামি চিন্তাবিদ ড. জাকির নায়েকের উগ্রপন্থার সংযোগ খুঁজে দেখছে বাংলাদেশ। তার ‘উস্কানিমূলক’ বক্তব্য তদন্তের মাধ্যমে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও চিন্তা করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু এই দাবি করেছে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘জাকির নায়েক বাংলাদেশে খুবই জনপ্রিয়। তদন্ত ছাড়া এমন একজন জনপ্রিয় ব্যক্তির ক্ষেত্রে হঠাৎ করেই কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।’ খবর বাংলা ট্রিবিউনের।

উল্লেখ্য, গুলশান হামলাকারীদের মধ্যে অন্তত দুইজন জাকির নায়েককে অনুসরণ করত বলে অভিযোগ ওঠার পর এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। ভারত এরইমধ্যে এ ঘ্টনার তদন্ত শুরু করেছে। পিস টিভি বন্ধে ক্যাবল অপারেটরদের নির্দেশ দেওয়ার কথাও জানিয়েছে তারা। পাশাপাশি জাকির নায়েকের বক্তব্য এবং অর্থের উৎসও তদন্তের আওতায় নিয়েছে তারা। তার বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে ভারত।

এদিকে শনিবার ‘দ্য হিন্দু’-র অনলাইন ভার্সনের খবরে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশও জাকির নায়েকের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের জানিয়েছেন। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘দ্য হিন্দু’-র পক্ষ থেকে আমাকে জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে তদন্তের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। যে কোনও বিষয়ে অভিযোগ উঠলে আমরা স্বাভাবিকভাবেই তদন্ত করি। এ ক্ষেত্রেও একই কাজই হবে।। আমি সেটাই তাদের বলেছি।’

দ্য হিন্দুর ওই খবরে দাবি করা হয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল তাদের বলেছেন, বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জাকির নায়েকের বক্তব্য, আর্থিক সংযোগ খতিয়ে দেখেছে। জাকির নায়েকের পিস টিভি বাংলাদেশে দেখানো বন্ধের ব্যাপারেও চিন্তাভাবনা করছেন তারা।

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এখনও পর্যন্ত আমরা গুলশান হামলায় জাকির নায়েকের কোনও সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাইনি। তবুও ঘটনার তদন্ত চলছে।

পিস টিভির ওপর নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটা সময়সাপেক্ষ ও তদন্তের ব্যাপার। জাকির নায়েক বাংলাদেশে খুবই জনপ্রিয় ব্যক্তি। এরকম ব্যক্তির ক্ষেত্রে হঠাৎ করেই কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।

তবে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে উদ্ধৃত করে ‘দ্য হিন্দু’ দাবি করেছে, জাকির নায়েকের বক্তব্য পর্যালোচনা করে পিস টিভি নিষিদ্ধের ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করছে বাংলাদেশ।

উল্লেখ্য, পিস টিভির লাইসেন্স দুবাইভিত্তিক। বাংলাদেশে তার লাইসেন্স বাতিলের কোনও সুযোগ নেই। তবে সরকারের নির্দেশনা পেলে ক্যাবল অপারেটররা পিস টিভি দেখানো বন্ধ করে দিতে পারে।

বাংলাদেশের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে ক্যাবল অপারেটরস্ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)-এর সভাপতি মীর হোসেন আক্তারকে উদ্ধৃত করে ‘দ্য হিন্দু’র খবরে বলা হয়, ‘আমি নিজেও পিস টিভি দেখতাম, তবে গুলশান হামলার পর মনে হলো আমার মতো অনেক মানুষই এই টেলিভিশন দেখে। আমরা দেশব্যাপী এই টিভির সম্প্রচার বন্ধ করে দিতে চাই। তবে সরকারের কোনও নির্দেশনা ছাড়া তা সম্ভব নয়।’

উল্লেখ্য, জাকিরের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন থাকায় অনেক আগেই পিস টিভির সম্প্রচার বন্ধ করেছে ব্রিটেন, কানাডার মতো দেশ।