মেইন ম্যেনু

হাইকোর্টের দেওয়া সেই আদেশ ১২ ঘণ্টাও টেকেনি

জাতীয় প্রেস ক্লাবের নতুন কমিটির কার্যক্রমে বাধা নেই

জাতীয় প্রেস ক্লাবে ভোট ছাড়া গঠিত কমিটির কাজ আটকাতে হাই কোর্টে গিয়ে পক্ষে একটি আদেশ এনেছিলেন মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ। তবে নতুন কমিটির কার্যক্রমের উপর ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়ে হাই কোর্টের দেওয়া সেই আদেশ টেকেনি ১২ ঘণ্টাও।

বৃহস্পতিবার সকালে বিচারপতি শরীফ উদ্দিন চাকলাদারের একক বেঞ্চের ওই আদেশের পর নতুন কমিটির নেতাদের তৎপরতায় সন্ধ্যায়ই আসে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির স্থগিতাদেশ।

স্থগিতাদেশের আবেদন শুনানির জন্য চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর বাড়িতে গিয়েছিলেন আবেদনকারীরা। শুনানি করে হাই কোর্টের ওই আদেশ আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে চেম্বার বিচারপতির আদালত ।

“ফলে এখন তাদের (নতুন কমিটি) কার্যক্রম পরিচালনায় আইনগত বাধা নেই,” বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম ব্যক্তিগতভাবে আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন। তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড সাধন কুমার বণিক।

কমিটির মেয়াদ ফুরিয়ে গেলেও নির্বাচন নিয়ে জটিলতার মধ্যে তিন মাস আগে এক সাধারণ সভা ডেকে আওয়ামী লীগ সমর্থক সাংবাদিকরা ও বিএনপি সমর্থক সাংবাদিকদের একাংশ মিলে একটি ‘সমঝোতার’ কমিটি করেন।

গত ২৮ মে গঠিত কমিটিতে আওয়ামী লীগ সমর্থক মুহাম্মদ শফিকুর রহমানকে সভাপতি এবং বিএনপি সমর্থক কামরুল ইসলাম চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। ১৭ সদস্যের কমিটিতে দুই পক্ষের সাংবাদিকদেরই স্থান হয়।

তবে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ ওই কমিটির বিরুদ্ধে যান আদালতে, যাতে সমর্থন ছিল বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত বিএফইউজের একাংশের।

কমিটির সাত সদস্যের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে নিম্ন আদালতে করা ওই আবেদনে গত ২২ জুলাই নিষ্পত্তি না করে নথিভুক্ত করা হলে তার বিরুদ্ধে বুধবার হাই কোর্টে (সিভিল রিভিশান) আবেদন করেন আবদাল।

হাই কোর্টে ওই আবেদনের শুনানি করেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী, তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ সালেহউদ্দিন। একদিন বাদে শুনানি করে বিচারপতি শরীফ উদ্দিন চাকলাদারের একক বেঞ্চ নতুন কমিটির কাজের উপর ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞা দেয়।

অ্যাডভোকেট সালেহউদ্দিন বলেন, “কমিটির (নতুন) কার্যক্রম পরিচালনায় ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা ও রুল দিয়েছেন আদালত।”

রুলে নির্বাচন ছাড়া গঠিত ওই কমিটির কার্যক্রম পরিচালনায় কেন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। প্রতিপক্ষদের বলা হয়, চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে। বিচারপতি শরীফ উদ্দিন চাকলাদারের দেওয়া এই আদেশই পরে চেম্বার বিচারপতি আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেন।

শওকত মাহমুদ নেতৃত্বাধীন বিএনপি-জামায়াত সমর্থক সাংবাদিক নেতাদের দাবি, কামাল উদ্দিন সবুজ ও সৈয়দ আবদাল নেতৃত্বাধীন কমিটি এখনও বৈধ, নতুন কমিটি অবৈধভাবে গঠিত হয়েছে।

অন্যদিকে মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়া ওই কমিটি বৈধতা হারিয়েছে দাবি করে নিজেদের পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দেখাচ্ছেন ‘সমঝোতার’ কমিটি গঠনের উদ্যোক্তারা। তারা বলছেন, শওকত মাহমুদের নেতৃত্বে প্রেস ক্লাবকে ‘রাজনৈতিক কার্যালয়ের’ মতো ব্যবহার করা হচ্ছিল।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত বিএনপি সমর্থিত বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন। ‘সমঝোতার’ কমিটি গঠনের উদ্যোক্তাদের মধ্যে রয়েছেন বিএফইউজের আওয়ামী লীগ সমর্থক অংশের সাবেক সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী, যিনি বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টার দায়িত্বে রয়েছেন।



« (পূর্বের সংবাদ)