মেইন ম্যেনু

জানুয়ারিতে নেতাজীর গোপন নথি প্রকাশ করবে ভারত

ভারতে সরকারের কাছে থাকা নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর সকল গোপনীয় দলিল প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি । গবেষকদের ধারণা, এইসব গোপন নথি প্রকাশ করা হলেই সুভাষ চন্দ্র বসুর মৃত্যু রহস্যে জট খুলবে। তার পরিবারের দাবি, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ওই নেতা তাইহোকুর বিমান দুর্ঘটনায় মারা যাননি। এরপরও তিনি অনেকদিন ধরে বেঁচে ছিলেন।

নেতাজীর এইসব নথি প্রকাশের দাবি বহু দিনের পুরনো। এতদিন ধরে ভারতের বিভিন্ন সরকার ওই দাবি নাকচ করে আসছিল। কিন্তু বুধবার বসু পরিবারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করার পরে মোদি ওগুলো প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দেন। ওইদিন নেতাজীর পরিবারের ৩৫ সদস্যের একটি দল মোদির বাসভবনে যান।

তখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘নথিগুলো প্রকাশের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। এরই মধ্যে প্রথম দফায় যেসব ফাইল যাচাই-বাছাই করা হয়েছে, সেগুলো ২০১৬ সালের ২৩ জানুয়ারি প্রকাশ করা হবে।’

২৩ জানুয়ারি সুভাষ চন্দ্র বসুর জন্মবার্ষিকী। সেইদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার হাতে থাকা সুভাষ চন্দ্র বসু সংক্রান্ত অতি গোপনীয় একশটির বেশী নথি প্রকাশ করার কথা রয়েছে।

গবেষকরা রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র প্রভৃতি দেশের কাছেও সুভাষ বসুকে নিয়ে যেসব অনেক গোপন তথ্য রয়েছে সেগুলোও প্রকাশ করার জন্য ভারত সরকারের কাছে আরো দাবি করেছিলেন। নরেন্দ্র মোদি তাদের সেই দাবি পূরণেরও আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, তার সরকার ডিসেম্বর মাসে রাশিয়ার কাছে সুভাষচন্দ্রের ওপর তথ্যাবলী হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক অুনরোধ জানাবে। এর মাধ্যমে বিদেশে থাকা তথ্যাদি প্রকাশের কাজ শুরু হবে।

প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সুভাষ বসুর আত্মীয় সুগত বসু বিবিসিকে বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদির এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। কিন্তু কেন ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে–কেন এক সপ্তাহের মধ্যেই ফাইলগুলি প্রকাশ করা যাবে না, সেটা বুঝলাম না।’

তৃণমূল কংগ্রেস দলের সংসদ সদস্য সুগত বসু নিজেও অবশ্য একজন ঐতিহাসিক। তিনি বারবার বলে এসেছেন যে, তিনি এমন কোনও প্রমাণ বা নথি পাননি যা থেকে মনে করা যেতে পারে তাইহোকুর বিমান দুর্ঘটনার পরেও সুভাষ চন্দ্র বেঁচে ছিলেন।

তবে কয়েক সপ্তাহ আগে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে থাকা সুভাষ বসু সংক্রান্ত কিছু গোপন নথি প্রকাশের পরে বসু পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছিলেন, সুভাষ চন্দ্র ওই দুর্ঘটনায় মারা যাননি এবং তিনি ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। সেই প্রমাণ রাজ্য সরকারের নথিগুলিতে আছে বলেও তারা দাবি করেছিলেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৪৫ সালের ১৮ অগস্ট তাইওয়ানে একটি বিমান দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর এই দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর নিয়ে গড়ে ওঠেছে নানা রহস্য। নথিগুলো প্রকাশের পর তার অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।