মেইন ম্যেনু

জানেন, কলকাতাকে কেন ‘হৃদয়ের শহর’ বলে?

কথাতেই আছে যদি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন শহরে থাকতে হয় তাহলে সেটা হল দিল্লি। যদি, বড়লোক হতে চান তাহলে মুম্বই। যদি, প্রযুক্তির দুনিয়ার গা ভাসাতে চান তাহলে সেই শহরটা হল বেঙ্গালুরু। কিন্তু, এমন এক শহরের খোঁজ থাকে যেখানে হৃদয় আছে, তাহলে আপনাকে আসতেই হবে কলকাতায়। কেন? তাহলে জেনে নিন।

এমন ১০টি জিনিস আছে কলকাতার, যার আকর্ষণে শুধু দেশের নয় বিদেশের নাগরিকরাও ছুঁটে আসেন তিলোত্তমায়।

রসগোল্লার শহর কলকাতা— মিষ্টিপ্রেমীদের কাছে কলকাতা হল ‘রসগুল্লা’ শহর। নবীনচন্দ্র দাস যাঁকে ‘রসগোল্লার জন্মদাতা’বলে আখ্যায়িত করা হয়, সেই ব্যক্তি এই কলকাতা শহরের। তাঁর তৈরি রসগোল্লা একটা সময় মিষ্টির জগতে এতটাই বিষ্ময়ের উদ্রেগ করেছিল যে কলকাতার নামের সঙ্গে রসগোল্লা শব্দটি সমার্থক হয়ে গিয়েছে।

কলকাতার মানুষ— বিশ্বের একমাত্র শহর যেখানে মানুষ অন্যের সাহায্যের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ে। আকচার দেখা যায় কলকাতার রাস্তায় ঠিকানা খুঁজে বেরানো মানুষদের। কথিত আছে কোনও কলকাতাবাসীকে ঠিকানা জিজ্ঞেস করলে সে শুধু তাঁকে সঠিক রাস্তার হদিশ দিয়ে ক্ষান্ত হয় না, সেরকম হলেই নিজেই বেরিয়ে পড়বে ঠিকানা খুঁজে বেরনো মানুষটির সঙ্গে। ফি বছর কলকাতায় আসা বিদেশীরা এই কথা এক বাক্যে শিকার করেন।

রবীন্দ্র সরোবর মেট্রো স্টেশনের ভূতের দল— কলকাতা শহরের মধ্যে রবীন্দ্র সরোবর মেট্রো স্টেশনে সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। লোকের বিশ্বাস এই স্টেশনে মৃতদের আত্মারা ঘুরে বেড়ায়। রবীন্দ্র সরোবর মেট্রো স্টেশনে ভূতেদের দেখা গিয়েছে বলে ছবি সহ পোস্টে ছেয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়া। এই ছবি আসল না নকল সেই নিয়ে বিতর্ক তো আছেই, সেইসঙ্গে যেটা সবচেয়ে অবাক করা তথ্য এই ভূতেদের টানা রবীন্দ্র মেট্রো স্টেশনে বিদেশীরা ভীড়ও জমান।

কলকাতার ভদ্রতাবোধ— এক বয়স্ক ব্যক্তি মেট্রোয় আচমকাই আসন ছেড়ে উঠে পড়েন এবং গেটের সামনে চলে আসেন। ভিড় ট্রেন। স্বাভাবিকভাবেই গেটের সামনে ওই বয়স্ক ভদ্রলোক দাঁড়িয়ে থাকায় অন্যদের নামতে অসুবিধা হচ্ছিল। গেটের সামনে দাঁড়িয়েও স্টেশনে না নামার কারণ জিঞ্জেস করতেই বয়স্ক্ ভদ্রলোক আঙুলের ইশারায় দেখালেন এক গর্ভবর্তী তরুণী তাঁর ছেড়ে দেওয়া আসনে বসে আছেন। বোঝাই গেল বয়স্ক ব্যক্তি জায়গা না ছাড়লে ওই গর্ভবর্তী তরুণীর বসে যাওয়াটা ছিল অসম্ভব। আসলে কলকাতার মানুষ এমনই ভদ্রতাবোধে নিমজ্জিত।

কলকাতার ফুচকা— এমন লোক খুঁজে পাওয়া কঠিন যাঁর এই নিয়ে কোনও আগ্রহই নেই। দক্ষিণ হোক বা উত্তর কলকাতা ফুচকার স্বাদের আহ্বালাদে মেতেছে সকলেই।

দুর্গাপুজো— বাঙালির সেরা উৎসব। ফি বছরই এই উৎসবের টানে দেশ-বিদেশ থেকে বহু মানুষই কলকাতায় ভিড় জমান। বিশেষ করে দুর্গাপুজোকে ঘিরে যেভাবে কলকাতার মানুষ উৎসবে মাতেন তা ভিনদেশীদের অবাক করে দেয়। দুর্গাপুজোকে সামনে রেখে কলকাতাবাসীদের আনন্দ উৎসবে এক অন্য ধরনের আত্মিক বন্ধনের টান খুঁজে পাওয়া যায়। যা স্বাভাবিকভাবেই বিদেশির প্রলুদ্ধ করে।

ভিক্টোরিা মেমোরিয়াল— ব্রিটিশ এই স্থাপত্য সকলের কাছে এক বিষ্ময়। কলকাতাবাসীর এক অন্যতম পছন্দের স্থান এই ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল।

ছোট থেকে বড় ব্যবসার শহর কলকাতা— বড়বাজার থেকে নিউ মার্কেট বা গড়িয়াহাট থেকে হাতিবাগান, এখানকার বাজারগুলোও কলকাতার অন্যতম প্রাণ। যেখানে বিভিন্ন ভাষাভাষি মানুষের দেখা শুধু মেলে না, উৎসবের বৈচিত্র্যের সঙ্গে সঙ্গে যেভাবে বাজারগুলি মরসুমি উৎসবে মেতে উঠে তার সার্থক প্রতিফলন ঘটে এই বাজারে। আবার সেরকম বলে চলে যাওয়া যায় কলেজ স্ট্রিটে। যেখানে শুধুই বই-এর বাজার।

সংস্কৃতির শহর কলকাতা— নাটক থেকে শিল্পকলা চর্চা সবেতেই এই শহর বিশ্বকে উপহার দিয়েছে একের পর এক প্রোথিতযশা ব্যক্তিত্ব। সত্যজিৎ রায় থেকে শুরু করে কে নেই সেই দলে। সত্যজিৎ-এরও আগে কলকাতার নাম বিশ্ব মানচিত্রে উজ্জ্বল করেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রাম কিঙ্কর বেইজ, লন্দলাল বসু, গণেশ পাইন। বলতে গেলে তালিকাটা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হবে।

কলকাতার গর্ব নোবেলজয়ীদের দল— অমর্ত্য সেন থেকে মাদার টেরিজা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সি ভি রামন— কে নেই এই দলে। এই সব ব্যক্তিত্বের টানে আজও কলকাতায় ছুঁটে আসেন বহু মানুষ।