মেইন ম্যেনু

জানেন কি, জোনাকির আলো কীভাবে জ্বলে?

সাহিত্যে অসাধারণ একটি উপমা হিসেবে কাজ করে জোনাকি পোকা। রাতের আঁধারে এই জোনাকি পোকা দেখতে কার না ভালো লাগে। অন্ধকারে মিটমিট করে জ্বলা জোনাকি পোকার আলোতে যে কেউ খানিক সময়ের জন্য হলেও কাব্যিক হয়ে উঠেন।

তবে, কখনও ভেবে দেখেছেন বিদ্যুৎ ছাড়া এই আলো কিভাবে জ্বলে? ভাবতেই আজব মনে হয় না? আসলে জোনাকি পোকার এই আলো জ্বলার ব্যপারটি একটি কেমিক্যাল রিঅ্যাকশন ছাড়া কিছু না, যা তাদের দেহের অভ্যন্তরে ঘটে।

জোনাকি পোকা তার দেহে এক ধরনের কেমিক্যাল বহন করে যার নাম লুসিফেরিন(Luciferin)। এই লুসিফেরিন এর সাথে অক্সিজেন এর রিঅ্যাকশন হওয়ার ফলেই আলো জ্বলে উঠে। আর দেহের মাঝে এভাবে আলো উৎপন্ন করার প্রক্রিয়াকে বলা হয় বায়োলুমিনেন্স। আর কি পরিমান আলো জোনাকি উৎপন্ন করবে তা নির্ভর করে কি পরিমান অক্সিজেন জোনাকি সাপ্লাই দিবে তার উপর। জোনাকি কম অক্সিজেন সাপ্লাই দিলে কম আলো উৎপন্ন হবে বেশী দিলে বেশী।

জোনাকি পোকার আলোতে কিন্তু তাপ উৎপন্ন হয়না। কেন ভাবুন তো? আসলে আমাদের বাতিতে আলোক শক্তি কনভার্ট হয় তড়িত শক্তি থেকে। কিন্তু পুরো তড়িত শক্তির অল্প পরিমানই আলোক শক্তিতে কনভার্ট হয়। বাকীটা তাপশক্তি উৎপন্ন করে।

খেয়াল করলে দেখা যাবে, জোনাকি পোকার আলোকশক্তি উৎপন্ন হয় রাসায়নিক শক্তি থেকে আর প্রায় পুরো রাসায়নিক শক্তিই আলোক শক্তি তৈরি করে। তাই এক্ষেত্রে তাপ উৎপন্ন হয় না। তাই জোনাকির আলো কে বলা হয় “ঠান্ডা আলো”।

জোনাকি কিন্তু রাতকানা না। এই আলোর খেলা জোনাকির প্রজননে সাহায্য করে । কিছু প্রজাতির পুরুষ জোনাকি রাতের বেলা তার নিজস্ব স্টাইলে আলো জ্বেলে নারী জোনাকিদের প্রলুব্ধ করে।