মেইন ম্যেনু

জানেন কি সানগ্লাস আবিষ্কার হয়েছে কিভাবে?

পোশাকের সাথে মিলিয়ে বিভিন্ন রঙের সানগ্লাস পরা এখন চলতি সময়ের জনপ্রিয় ফ্যাশন। নানান ডিজাইনের, রঙের সানগ্লাস পাওয়া যায় এখন বাজারে। সাদামাটা একটা পোশাকের সঙ্গে সানগ্লাস সহজেই এনে দেয় ফ্যাশনেবল লুক, যার ভক্ত কিশোর, তরুণ সবাই। আসুন জেনে নেই প্রিয় এই সানগ্লাস আবিষ্কারের গল্প।

সানগ্লাসের বাংলা নাম রোদচশমা, যদিও বাংলাটা আমাদের তেমন ব্যবহার করা হয় না। রোদচশমা নামটা শুনলে প্রথমেই মনে হবে যেন রোদে পরার জন্য যে চশমা ব্যবহার করা হয় তাকেই সানগ্লাস বা রোদচশমা বলা হয়। কিন্তু তা নয়। রোদকে আটকানোর জন্য রোদচশমার প্রচলন হয়নি। একটি বিশেষ কারণেই চৈনিক নির্মাতারা ধোঁয়াচ্ছন্ন লেন্সের চশমা প্রথম তৈরী করেন।

বিচারকদের চোখ ঢাকতে
১৩০০ সালের দিকে এই চশমা প্রথম তৈরী করা হয়। চোখের দৃষ্টির ত্রুটি অথবা রোদ প্রতিহত করতে নয় চীনের বিচারালয়ের জজ সাহেবদের চোখের দৃষ্টিকে আড়াল করতে এই চশমা ব্যবহার করা হয়।
বিচারকদের চোখ ঢাকার জন্য তারা ধোঁয়াচ্ছন্ন চশমা তৈরী করে ফেললেন। চীনাদের উদ্ভাবনী শক্তি সবসময়ই অসাধারণ। একশত বছর ধরে সানগ্লাসের ব্যবহার শুধু বিচারালয়ে হতে থাকলো। ১৪৩০ সালের দিকে রোদচশমা চীন থেকে ইতালীতে পাড়ি জমালো। তারাও বিচারিক কাজে রোদচশমা ব্যবহার করত।

নির্দিষ্ট দৃষ্টি ত্রুটি নিরাময় করতে
আঠারো শতকের মধ্যভাগে জেমস আয়ুসকফ চশমার অস্বচ্ছ লেন্স নিয়ে গবেষনা শুরু করলেন। আয়ুসকফ বিশ্বাস করতেন নীল অথবা সবুজ অস্বচ্ছ কাঁচ নির্দিষ্ট দৃষ্টি ত্রুটি নিরাময় করতে সক্ষম হবে। সূর্যালোককে প্রতিহত করার কোন চিন্তা ভাবনা তার মাথায় ছিলো না।

আমেরিকান মিলিটারিদের জন্য
বিংশ শতাব্দীতে এসে রোদচশমা রোদচশমা হিসেবে প্রাণ পায়। আমেরিকার মিলিটারি সানগ্লাস টেকনোলজির উন্নয়ন ও ব্যবহারে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। ১৯২৯ সালে আধুনিক ধরনের রোদচশমার আবির্ভাব ঘটে।

আধুনিক রোদচশমা
১৯৩০ সালে ফস্টার গ্রান্ট কোম্পানীর প্রতিষ্ঠাতা স্যাম ফস্টার আটলান্টিক সিটিতে ফস্টার গ্রান্ট সানগ্লাসের প্রথম জোড়া বিক্রি করেন। সত্তর দশকে হলিউড তারকারা রোদ- চশমা ব্যবহারের জন্য রীতিমত বিখ্যাত ছিলেন।
এখন রোদচশমা বা সানগ্লাস যা ই বলি না কেন তা পুরোপুরি একটি ফ্যাশনের উপকরন, দৈনন্দিন সাজসজ্জার উপকরন। রোদ না থাকলেও এমন কি রাতেও আমরা গ্লাস পরি নাইটগ্লাস নাম দিয়ে। যেভাবেই হোক প্রিয় চশমা থাকুক সাথে সবসময়।