মেইন ম্যেনু

জাপানি নারীর মৃত্যু : ৫ জন ৪ দিনের রিমান্ডে

রাজধানী উত্তরায় জাপানি নারী হিরোয়ি মিয়েতার (৫৫) রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার ৫ জনকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। ওই আবেদনের শুনানি শেষে ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বিকেল ৩টার দিকে রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট স্নিগ্ধা রানীর আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার সিএমএম আদালতে আসামিদের হাজির করে ওই রিমান্ডের আবেদন করেছেন উত্তরা পূর্ব থানার ওসি (তদন্ত) আবু বকর মিয়া।

আদালতের সহ. পাবলিক প্রসিকিউটর তাসলিমা ইয়াসমিন দীপা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. মারুফুল ইসলাম, রাশেদুল হক বাপ্পি, ফখরুল ইসলাম, জাকির পাটোয়ারী ও ডা. বিমল চন্দ্র শীল।

গত রোববার ওই নারীর মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য আবেদন করা হয়েছে।

জানা গেছে, ওই জাপানি নারীকে হত্যার পর লাশ উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের খালপাড় কবরস্থানে মুসলমান পরিচয়ে দাফন করা হয়েছে। হত্যার ঘটনাটি এক প্রকার চাপা পড়েই গিয়েছিল। নিহতের মা এবং জাপান দূতাবাসের তৎপরতায় ওই নারীকে হত্যার পর গোপনে লাশ দাফন করার তথ্য বেরিয়ে আসছে।

হিরোয়ি মিয়েতা উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরে ১৩/বি নম্বর সড়কের ৮ নম্বর হোল্ডিংয়ে সিটি হোমস নামে একটি ডরমেটরিতে বসবাস করতেন। গত আগস্ট মাসে ওই নারীকে সেখান থেকে সরিয়ে ভাটারা থানা এলাকার একটি বাসায় রাখেন তার ব্যবসায়িক অংশীদাররা। হিরোয়ি প্রতিদিন জাপানে বসবাসরত তার মাকে টেলিফোনে নিজের খোঁজখবর জানাতেন।

২৬ অক্টোবর থেকে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পান তার মা। ফলে মেয়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে তার মা বিষয়টি ঢাকায় জাপান দূতাবাসকে অবহিত করেন।

জাপান দূতাবাসের পক্ষে ভাইস কাউন্সিলর কুসুকি মাৎসুনা প্রথমে বিষয়টি থানা পুলিশকে মৌখিকভাবে জানান। পরে ১৯ নভেম্বর উত্তরা পূর্ব থানায় হিরোয়ি নিখোঁজ থাকার বিষয়ে তিনি একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। যার নম্বর-৯৩৫। জাপান দূতাবাসের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরির পর ঘটনা অনুসন্ধানে তৎপর হয় পুলিশ।

পরে, এ ঘটনায় উত্তরা পূর্ব থানায় রবিবার রাতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন অপারেশন অফিসার মিজানুর রহমান। দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় তিনি ওই মামলাটি করেন। মামলার নম্বর ১১।

এরআগে আজ (মঙ্গলবার) সকালে ৫ জনকে আটকের পর পাঠানো ক্ষুদে বার্তায় ১১টায় প্রেস ব্রিফিংয়ের কথা জানানো হয়। তবে ‘অনিবার্য’ কারণবশত তা পরে বাতিল করা হয়।

ডিএমপির মিডিয়া উইংয়ের উপ-পুলিশ কমিশনার মুনতাসীরুল ইসলাম প্রেস ব্রিফিংয়ে আসা সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘অনিবার্য কারণবশত প্রেস ব্রিফিং করতে পারছি না। আমরা আদালতে আবেদন করবো লাশ উঠিয়ে ময়নাতদন্ত করার জন্য। ময়নাতদন্ত করার পর যদি দেখা যায় এটি হত্যাকাণ্ড, নাকি স্বাভাবিক মৃত্যু। হত্যাকাণ্ড হলে হত্যা মামলা হবে, আর স্বাভাবিক মৃত্যু হলে লাশ গুম কিংবা পুলিশকে না জানিয়ে দাফন দেয়ায় মামলা হবে।’

মুনতাসীরুল ইসলাম আরো বলেন, ‘গত ২৩ তারিখে (২৩ নভেম্বর) উত্তরা (পূর্ব) থানা পুলিশ এ ঘটনায় ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় একটি মামলা করে। মামলা নং ১১।’