মেইন ম্যেনু

মাদকের বিষাক্ত ছোবলে জড়িয়ে পড়ছে জাবি শিক্ষার্থীরা

শাহাদত হোসাইন স্বাধীন, জাবি প্রতিনিধি : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা মনে লালিত স্বপ্ন আর বুকভরা আশা নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে আসে কিন্তু সেই উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে উচ্চ শিখরে পৌঁছানোর যে আশা তা চোখের পলকে ধুলিসাৎ হয়ে যাচ্ছে মাদকের গ্রাসে।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা মহান শিক্ষা গ্রহণে ব্রত হাজারো মেধাবী মুখ মাদকাসক্ত হয়ে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছানোর আগে ঝড়ে পড়ছে। এতে একদিকে যেমন তাদের ভবিষ্যত অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছে অন্যদিকে মাদকের ভয়াল ছোবলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে

সাম্প্রতিক সময়ে এই ক্যাম্পাটি মাদকের ক্ষেত্র হিসেবে পরিণত হয়েছে। এর ফলে মাদকের করাল গ্রাসে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। ছেলে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি মেয়ে শিক্ষার্থীরাও মাদকাসক্ত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলগুলো ছাড়াও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে বাতাসে ভাসছে মাদকের ঘ্রাণ। প্রায় সবত্র হাত বাড়ালেই মিলছে গাজা, ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইনসহ বেশ কিছু উচ্চ দামের জীবননাশক মাদক। মাদক সেবকদের কু-প্রভাব সাধারণ শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধে আঘাত হানছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আবাসিক হলগুলোর রুম ও ছাদের মধ্যে, শহীদ সালাম বরকত হল,নির্মাণরত রবীন্দ্রনাথ হল, আল বেরুনি হল, শহীদ রফিক-জব্বার হল, মওলানা ভাসানী হল, আ.ফ.ম কামাল উদ্দিন হল, জাহানারা ইমাম হল, প্রীতিলতা হল, ফজিলাতুন্নেছা হলসহ ক্যাম্পাসের পুরাতন, নতুন কলা এবং বিভিন্ন স্থানগুলো মাদকাসক্তদের মাদক সেবনের প্রধান স্থানে পরিণত হয়েছে। এসকল মাদক সরবরাহের মূলহোতা বহিরাগত মাদক ব্যবসায়ী, অসাধু অর্থলোভী কর্মচারী, ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের বিভিন্ন নেতা-কর্মীরা।

ক্যাম্পাসের পাশ্ববর্তী সিআরপি, কলমা, গেরুয়া, আমবাগান, ইসলামনগর এবং বিশমাইল এলাকার মাদকব্যবসায়ীরা মাদকের যোগান দিচ্ছে। ছাত্রত্ব শেষ হওয়া অসংখ্য শিক্ষার্থীরাও এধরনের অসৎ ব্যবসায়ের সাথে জড়িয়ে পড়েছে। এসব মাদক দ্রব্য আসছে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে আসছে বলে ধারনা করা হয়।

সদ্য মাদকে আসক্ত এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের আগে হাতে কখনো সিগারেট নেন নি, কিন্তু আজ ফাঁদে পড়ে গাজার নেশায় আসক্ত। কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়,ক্যাম্পাসে এসে তারা সঙ্গদোষে মাদক সেবনে জড়িয়ে পড়ে।শুধু সহপাঠী নয় কারো কারো মাদকের হাতেখড়ি সিনিয়র ভাইদের কাছ থেকে। এ যেন বাংলা সিনেমার গল্প।”বড় ভাইদের তোষামোদ করে যদি একটু মাদক মিলে”।তাই তোষামোদ করার জন্য মাদক নেশা ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় মাদক বিরোধী জোটের যগ্ম সাধারণ সম্পাদক ৪৪তম ব্যাচের দেলোয়ার হোসেন বলেন, গুটিকয়েক ছাত্র নাম ধারী অছাত্রের জন্য ক্যাম্পাসের পরিবেশ নষ্ট হতে দিতে পারি না। মাদক বিরুদ্ধে আমাদের আরও অধিক সোচ্ছার হতে হবে। আমরা শীঘ্রই এর প্রতিবাদে কর্মসূচি পালন করবো।

এদিকে মাদকাসক্তদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা জীবনে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়াও মাদক দ্রব্য ক্রয়ে অর্থ যোগাতে বিভিন্ন হলের ল্যাপটপ, মোবাইল, মানিব্যাগ, ক্যামেরা ও দামি পোশাক চুরির মতো ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি আ.ফ.ম কামাল উদ্দিন হলে ডিয়েসেলার ক্যামেরা, মানিব্যাগসহ মওলানা ভাসানী হল , শহীদ রফিক-জব্বার হল এবং সর্বশেষ আল- বেরুনি হলেও চুরির ঘটনা ঘটেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,“ মাদকের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন সদা কঠোর অবস্থানে। মাদক ব্যবসায় জড়িত এমন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ এবং মাদকাসক্ত ব্যক্তির প্রমাণ পেলে প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নিবে। এজন্য রাতে বিভিন্ন স্পটে টহল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেটে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।”

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ওসি মহসিন কাদেরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মসচেতনা বৃদ্ধি করতে সক্ষম হলে এসব ঘৃণ্য অপরাধ প্রতিরোধ করা সম্ভব। পুলিশ প্রশাসন এসব বিষয় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সদা তৎপর রয়েছে।