মেইন ম্যেনু

জাবি ছাত্রলীগের ৫ নেতাকর্মী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার

এক শিক্ষার্থী ও এক সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রলীগের পাঁচ নেতা-কর্মীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

সোমবার বিকেলে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিন্ডিকেট সভা শেষে সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জাবি প্রতিনিধি হিসেবে কর্তব্যরত সাংবাদিক শফিকুল ইসলামকে মারধরের ঘটনায় বহিষ্কার করা হয় শাখা ছাত্রলীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মহিতোষ রায় টিটো (ইতিহাস-৪০ ব্যাচ), সহসম্পাদক জি এম ইকরামউদ্দিন অমি (মার্কেটিং-৪০ব্যাচ) ও ছাত্রলীগকর্মী ইকরাম নাহিদ (পরিসংখ্যান-৪৩ ব্যাচ)।

এ ছাড়া নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৪১ ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু রায়হানকে মারধরের ঘটনায় বহিষ্কার করা হয়েছে শরিফ হোসেন লস্কর (নৃ-বিজ্ঞান-৪২ ব্যাচ) ও রিয়াজুল ইসলামকে (বাংলা-৪৪ ব্যাচ)।

দুটি ঘটনায় অধিকতর তদন্তের জন্য পৃথক পৃথক দুটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। সাংবাদিক শফিকুল ইসলামকে মারধরের ঘটনা তদন্তে প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি অধ্যাপক হাফিজুর রহমানকে প্রধান করে গঠন করা হয়েছে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি। অপরদিকে শিক্ষার্থী আবু রায়হানকে মারধরের ঘটনায় প্রীতিলতা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আনোয়ার খসরু পারভেজকে প্রধান করে চার সদস্যবিশিষ্ট আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উভয় কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

গত ৮ জুন রাতে এক অপহরণকারীকে রক্ষার চেষ্টায় বাধা দিলে বহিষ্কৃতদের নেতৃতে ১০-১২ জন ছাত্রলীগকর্মী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি শফিকুল ইসলামকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মাথা ও পিঠে আঘাত করে জখম করে। এর আগে ৫ জুন নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী আবু রায়হানকে ব্যক্তিগত বাদানুবাদের জেরে ছাত্রলীগকর্মী শরিফ হোসেন লস্করের নেতৃত্বে মারধর করেন কয়েকজন ছাত্রলীগকর্মী।

এদিকে সাংবাদিক মারধরের ঘটনায় ১২-১৪ জন অংশ নিলেও মাত্র তিনজনকে বহিষ্কার করায় ক্ষোভ বিরাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে।

দৈনিক ইত্তেফাকের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি নিলয় মামুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার সামনেই ১২-১৪ জন ছাত্রলীগকর্মী সাংবাদিক শফিকুলকে মারধর করল। কারা কারা মেরেছে তা অত্যন্ত স্পষ্ট।

মারধরকারীদের নামসহ আমরা সাক্ষ্যও দিয়েছি। তারপরও বহিষ্কার করা হলো মাত্র তিনজনকে। আশা করছি তদন্ত কমিটি জড়িত প্রত্যেককে শাস্তির আওতায় আনবে।’