মেইন ম্যেনু

জাবি ছাত্রলীগ নেতার রুমে শিবিরের লোগো!

শাহাদত হোসাইন স্বাধীন: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মীর মশাররফ হোসেন হলটির ‘বি’ ব্লকের দোতলার ২০১ থেকে ২৬৪ পর্যন্ত সর্বমোট ৬৪ টি রুমে থাকেন ছাত্রলীগ প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী। এ কারণে ‘বি’ ব্লকের দোতলা ‘ছাত্রলীগের পলিটিক্যাল ব্লক’ হিসেবে পরিচিত। সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় উঠলেই চোখে পড়বে দেয়ালে ছাত্রশিবিরের লোগো আঁকা রয়েছে। একটু ডানে তাকালে দেখা যাবে বড় অক্ষরে লেখা তিনটি শব্দ ‘শিবির’।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৮৯ সালে শিবিরের হাতে খুন হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ছাত্র হাবিবুর রহমান হাবিব। এরপর থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ রয়েছে। অথচ ওই হলের ছাত্রলীগের পলিটিক্যাল ব্লকের দেয়ালে এখনো শিবিবের লোগো আঁকা দেখে বিষ্মিত ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হলটিতে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ৪ নেতা রয়েছেন। তারা হলেন, শাখা ছাত্রলীগের উপ-সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক বশিরুল হক, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মহিতোষ রায় টিটো, সহ-সম্পাদক জি এম ইকরামউদ্দিন অমি ও উপ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহিম জুয়েল।
এদের মধ্যে সাংবাদিক মারধরের ঘটনায় ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মহিতোষ রায় টিটোকে সম্প্রতি ছাত্রলীগ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

এছাড়া সহ-সম্পাদক জি এম ইকরামউদ্দিন অমিকেও সম্প্রতি একই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

এর আগে ২০১৪ সালের ৩ মার্চ ছাত্রলীগের দু’ গ্র্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক বশিরুল হককে সাময়িক বহিষ্কার কেন্দ্রিয় ছাত্রলীগ।

২০১৪ সালের ১ জুন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে চাঁদাবাজির অভিযোগে উপ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহিম জুয়েল সংগঠন থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।

এছাড়া সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলের ২ সদস্য (সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক) বিশিষ্ট হল কমিটিও বিলুপ্ত করেছে শাখা ছাত্রলীগ। বর্তমানে ওই হলটিতে ছাত্রলীগের ২টি গ্রুপ রয়েছে। গ্রুপিংয়ের কারণে ওই হলের নেতাকর্মীরা নিজেদেরকেই একে অপরের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন। বর্তমানে তারা নিজেদের মধ্যে মারামারি, একে অপরের রুম-ভাংচুর ও রুম দখলেই অধিক ব্যস্ত সময় পার করছেন। ওই হলের ছাত্রলীগ কর্মীরা ক্যাম্পাসে ছিনতাইয়ের মত ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছেন বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। হলটির একাধিক ছাত্রলীগ কর্মী সম্প্রতি ছিনতাই করতে গিয়ে হাতে-নাতে ধরাও পড়েছেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এ হলটির ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সংগঠনের ‘চেইন অব কমান্ড’ না মানার মত গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।’

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুর রহমান জনি বলেন, ‘ওই হলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলে লোগোটি মুছে দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টা আমাদের নজরে ছিলো না। জানার পর আমরা গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি দেখছি।’