মেইন ম্যেনু

জামায়াতকে ছাড়তে চান না খালেদা জিয়া!

জাতীয় ঐক্য ইস্যুতে জামায়াতে ইসলামী যেন বিএনপির মিত্রহীন না হয় তার উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে দল এবং জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের একদিন পর বৃহস্পতিবার রাতে বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

সম্প্রতি জাতীয় ঐক্যের যে ডাক দিছেন তা স্বাগত জানিয়েছেন বুদ্ধিজীবী এবং পেশাজীবীরা। এ সময় জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে এই মুহূর্তে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই বলেও মনে করেন বিএনপি প্রধান।

জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ না করলে বিএনপির সঙ্গে কোনো ঐক্য নেই, ক্ষমতাসীন দলের এমন মনোভাব নিয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকে অংশ নেয়ার আগে প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক উল হক জামায়াত ইসলামীর সঙ্গ বিএনপিকে ত্যাগের পরামর্শ দেবেন বললেও বৈঠক শেষে বলেন, ‘আমি কিছুই বলব না। তবে গণআন্দোলন হবে… এইটুকুই।’

জামায়াত প্রসঙ্গে ড. জাফর উল্লাহ বলেন, ‘দেশের ইসলামিক দল আরও দশটা আছে। ১৯৭১ সালে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল বলাৎকারকে শরিয়তসম্মত বলেছে। তারা যদি থাকে, জামায়াত কী দোষ করেছে?’

একাত্তরের দেশবিরোধী ভূমিকার জন্য দল হিসেবে জামায়াত ইসলামকে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দিয়ে জাফর উল্লাহ আরও বলেন, ‘দলটির পূর্বপুরুষেরা যে অন্যায় করেছে, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে; তাদের আবার ক্ষমা চাইতে হবে। যদিও গোলাম আযম সাহেব একবার ক্ষমা চেয়েছে।

‘তবে প্রশ্ন উঠেছে, জামায়াত দলীয়ভাবে চায়নি। আমার সাজেশন হলো, দলে বর্তমানে যারা আছে তাদের পূর্বপুরুষের জন্য দলীয়ভাবে ক্ষমা চাইবে। তাদের কার্যকলাপের জন্য। তারা যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ও আদর্শে বিশ্বাস করে তা উল্লেখ করবে। মুক্তিযোদ্ধাদের কবর জিয়ারত করবে।’

জাতীয় ঐক্যের বিষয়ে জনমত গড়ে তুলতে চেয়ারপারসনের জেলা সফরের পরিকল্পনা জানিয়ে জাফর উল্লাহ চৌধুরী বলে, ‘জনগণের গণআন্দোলন গড়ে উঠবে। উনি (খালেদা জিয়া) বলেছেন, একটু সময় দেন। তিনি বিভিন্ন জেলা সফর করবেন, যাতে দেশবাসীকে বুঝিয়ে বলা যায়।’

রাত সাড়ে ৮টায় শুরু হওয়া বৈঠক চলে প্রায় আড়াই ঘণ্টা। বৈঠক থেকে বেরিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

জাফরুল্লাহ বলেন, ‘৯১ সালে পাশাপাশি থেকে যেভাবে আন্দোলন হয়েছিল, সেটাও হতে পারে। কিন্তু এভাবে জঙ্গির নাম করে জনগণকে ভাওতাবাজি করা যাবে না। আর বিচার বিভাগীয় তদন্ত হতে হবে।’

বাংলাদেশে সৃষ্ট সার্বিক সংকটের ভারতকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আজকে আমার সমস্যা আমার প্রতিবেশী। আজকে আমার ওপর দিয়ে লাইন যাবে অথচ আমি বিদ্যুৎ পাব না। যমুনা ক্রস করতে আমাকে ৭’শ টাকা দিতে হয়, অথচ ভারত ট্রানজিটের বিনিময়ে প্রতি কিলোমিটারে মাত্র ১৯ পয়সা দেবে; এটার অবসান হতে হবে।’

গুলশান ও কিশোরগঞ্জে জঙ্গি হামলা প্রতিবেশী দেশ ভারতের সম্পৃক্ততায় হয়েছে কি না, সেই বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন জাফরুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘প্রতিবেশি দেশটির এন্টারফেয়ারে এসব হয়েছে। আমরা নিশ্চিত নই, এদের ট্রেনিং কোথায় হয়েছে।’

দেশের এই ক্রান্তিকালে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র চুক্তি হওয়াকে অযৌক্তিক বলে এক প্রশ্নের জবাবে মন্তব্য করেন তিনি।

বৈঠকে অংশ নেয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এটি জাতীয় পর্যায়ের ব্যাপার। সেজন্য গোটা জাতি মিলেই জাতীয় ঐক্য গঠন করা হবে। সব দল-মতের ব্যক্তিবর্গ একসাথে মিলে এই যে মস্ত বড় উপদ্রব বা সংকট, এ থেকে উত্তরণে ঐকমত্য গড়তে আলোচনা হয়েছে।’

বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ উপস্থিত ছিলেন রুহুল আলম চৌধুরী, রাজিয়া আক্তার বানু, মোস্তাহিদুর রহমান, আমজাদ হোসেন, গাজী মাযহারুর আনোয়ার, মহিউদ্দিন আলমগীর (সম্পাদক দৈনিক নয়াদিগন্ত), এ জেড এম তাহমিনা, আমির খসরু, আবুল আসাদ (সম্পাদক দৈনিক সংগ্রাম), ড. সদরুল আমিন, ড. আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী, ড. বোরহান উদ্দিন খান, আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, আ ন হ আকতার হোসেন, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া, আনোয়ারুন-নবী বাবলা, কৃষিবিদ হাসান জাফরি তুহিন, শওকত মাহমুদ, গাজী রুহুল আমিন, এ এস এম আবদুল হালিম, সুজাউদ্দিন আহমেদ, আবদুল কাইয়ুম, খন্দকার মাহবুব হোসেন, সানাউল্লাহ মিয়া, বোরহান উদ্দিন, ড. মামুন আহমেদ, ড. ওবায়েদ, আবদুল আউয়াল মিন্টু, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, আমির খসরুর মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ।খবর বাংলামেইলের।