মেইন ম্যেনু

জামায়াতের পরবর্তী আমির কে?

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির রায় কার্যকর হলে দলটির পরবর্তী আমির হবেন কে? ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে সব রাজনীতি সচেতন মানুষের মনে এখন এ প্রশ্ন ঘুরছে।

পুলিশের ভয়ে দলটির নেতাকর্মীরা এখন গাঢাকা দিয়েছেন। অন্যদিকে দলের আইনজীবী নেতারাও এ বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ।

তাই দলের ওয়েব সাইট ঘেটে খুঁজে পাওয়া গঠনতন্ত্র হতে জানা যায়, জামায়াত ইসলামীর গঠনতন্ত্রের ১৫ ধারা অনুসারে প্রতি তিন বছর পর পর সারাদেশের নেতাদের (রোকন) ভোটে দলটির আমির নির্বাচিত হন। ভোটের আগে দলের শীর্ষ কর্মকর্তারা আমির নির্বাচনের লক্ষ্যে তিন সদস্যের একটি প্যানেল তৈরি করে দেন। সারাদেশের ভোটাররা নির্দিষ্ট দিনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে নেতা নির্বাচন করতেন। তবে রোকনরা চাইলে প্যানেলের বাইরেও পছন্দসই অন্য কাউকে ভোট দিতে পারবেন।

১৫ ধারার বিভিন্ন উপধারায় কোন কারণে আমিরের থাকা কিংবা না থাকা সম্পর্কে নির্দেশনায় বলা হয়, ‘আমিরে জামায়াত যদি অনূর্ধ্ব ছয় মাসের জন্য দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন, তাহা হইলে তিনি কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সহিত পরামর্শ করিয়া নায়েবে আমিরগণের মধ্য হইতে কোনো একজনকে উক্ত সময়ের জন্য ভারপ্রাপ্ত আমির নিয়োগ করিবেন।

আমিরে জামায়াতের অক্ষমতাকাল ছয় মাসের বেশি হইলে অথবা আকস্মিকভাবে আমিরে জামায়াতের পদ শূন্য হইলে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার অনুমোদন সাপেক্ষে নায়েবে আমিরগণের মধ্য হইতে কোনো একজনকে ভারপ্রাপ্ত আমির নিযুক্ত করিবেন। এইরূপ নিযুক্ত আমির অনূর্ধ্ব ছয় মাসের মধ্যে অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য নতুন আমির নির্বাচনের ব্যবস্থা করিবেন।

বিশেষ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ যুক্তিযুক্ত মনে করিলে কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার অনুমোদন সাপেক্ষে এইরূপ নির্বাচন যুক্তিসঙ্গত সময়সীমা পর্যন্ত স্থগিত করিয়া ভারপ্রাপ্ত আমিরের কার্যক্রম বর্ধিত করিতে পারিবে, তবে এইরূপ স্থগিতকরণ ও কার্যকাল বর্ধিতকরণ গঠনতন্ত্রের স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী অনুষ্ঠিতব্য আমিরে জামায়াত নির্বাচনের সময়সীমা অতিক্রম করিতে পারিবে না।

কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের বিবেচনায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আমিরে জামায়াতের নির্বাচন অনুষ্ঠান যদি কিছুতেই সম্ভব না হয়, তাহা হইলে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ কর্তৃক নিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত আমির কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার অনুমোদন সাপেক্ষে স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন।

আমিরে জামায়াত কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করিবেন। কিন্তু দৈনন্দিন কার্য সম্পাদন এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সিদ্ধান্ত নাই এমন কোনো বিষয়ে তিনি কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার পরবর্তী প্রথম অধিবেশনের অনুমোদন সাপেক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের পরামর্শক্রমে জরুরি ও সাময়িক পদক্ষেপ গ্রহণ করিবেন।’

কিন্তু বর্তমানে প্রেক্ষাপট ভিন্ন। গত সাত বছর যাবত দলটি বৈরী পরিবেশে দলীয় অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে। বর্তমান ক্ষমতাসীন মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে’ বিচারের মাধ্যমে জামায়াতে চার নেতার ফাঁসি কার্যকর করেছে।

সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে জ্বালাও পোড়াও কর্মসূচির মাধ্যমে সারাদেশ অস্থিতিশীল ও ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টির অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর ছোট-বড় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের ও গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।

বর্তমানে দলটির ভারপ্রাপ্ত আমির হিসেবে মকবুল আহমাদ ও ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে ডা. শফিকুর রহমান দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারের জামায়াত বিরোধী অবস্থানের কারণে এই দুই ভারপ্রাপ্ত নেতা কিছুতেই দলকে সাংগঠনিকভাবে চাঙ্গা করতে পারছেন না। তারা যেমন প্রকাশ্যে জনসভা ও মিছিল করতে পারছেন না তেমনি আত্মগোপনে থেকেও দলকে গতিশীল করতে পারছেন না। ফলে নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে না।

নিজামীর ফাঁসি হলে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে থাকা এই দলটির ভবিষ্যত নেতৃত্বে কে আসবেন এ সম্পর্কে জানতে জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতাদের কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

জামায়াতের রাজনীতিকে দীর্ঘদিন যাবত পর্যবেক্ষণ করছেন এমন একাধিক গণমাধ্যমকর্মী সঙ্গে আলাপকালে জানান, তিন সদস্যের প্যানেলে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত আমির ও সেক্রেটারি জেনারেল ছাড়া ডা. শফিকুর রহমান থাকতে পারেন। কেউ কেউ বলছেন, এ তিনজনের মধ্যে মকবুল আহমাদ এগিয়ে আছেন। তবে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাবে না।

ভিন্ন একটি সূত্র জানায়, জামায়েতের অঙ্গ সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকার কারণে দল ও দলের নেতাকর্মীরা আরো ভোগান্তি পোহাক তা চান না। তারা প্রবীণ নেতাদের বাদ দিয়ে নতুন প্রজন্মের নেতাদের ফ্রটলাইনে দেখতে চান। নিজামীর ফাঁসির রায় কার্যকর হলে কে হচ্ছেন জামায়াতের পরবর্তী আমির তা জানতে হলে অপেক্ষা করতে হবে।জাগো নিউজ