মেইন ম্যেনু

জামায়াতের সাবেক সাংসদ সাখাওয়াতসহ ৮ জনের রায় ঘোষণা কাল

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সংসদ সদস্য সাখাওয়াত হোসেনসহ আট আসামির বিরুদ্ধে মামলার রায় জানা যাবে কাল। বিভিন্ন দল ঘুরে তিনি এখন জাতীয় পার্টির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক।

সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হকসহ তিন সদস্যের আদালত এ কথা জানায়। গত ১৪ জুলাই তাদের বিরুদ্ধে রায় অপেক্ষমান রাখে ট্রাইব্যুনাল। ২০১৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর আসামিদের বিচার শুরু হয় ট্রাইব্যুনালে।

এটা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ২৬ তম রায়। এরই মধ্যে জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, মুহাম্মদ কামারুজ্জা্মান, আবদুল কাদের মোল্লা, বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হয়েছে। আমৃত্যু কারাদণ্ড ভোগ করছেন আরেক জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। আর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আরেক জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর রিভিও আবেদনের ওপর শুনানি হবে আগামী ২৫ আগস্ট। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক জামায়াত নেতা আবুল কালাম আজাদ, আলবদর নেতা চৌধুরী মুইনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামান খান পলাতক। মৃত্যুদণ্ড ও অন্যান্য সাজা পাওয়া আসামিদের আপিল শুনানি এখনও চলছে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় অপহরণ, আটক, নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার মত মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগে বিচার হয়েছে তাদের। এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন বিল্লাল হোসেন, ইব্রাহিম হোসাইন, শেখ মো. মজিবুর রহমান, এম এ আজিজ সরদার, আব্দুল আজিজ সরদার, কাজী ওহিদুল ইসলাম এবং মো. আব্দুল খালেন। শেষ ছয় জনই পলাতক। এই মামলার আরেক আসামি লুৎফর মোড়ল বিচার চলাকালে মারা যান।

১৯৯১ সালে সাখাওয়াত যশোরের কেশবপুর থেকে জামায়াতে ইসলামীর টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে দলের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে তিনি জামায়াত ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ওই আসনে নির্বাচনে অংশ নেন। ওই ভোটে তিনি হেরে যান। এরপর তিনি জাতীয় পার্টি, চরমোনাইয়ের পীরের ইসলামী আন্দোলন, বিএনপিরই সাবেক নেতা অলি আহমেদের নেতৃত্বাধীন এলডিপি, এক এগারোর পর কিংস পার্টি হিসেবে পরিচিত ফেরদৌস আহমেদ কোরেশীর পিডিপি এবং পরে আবার জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। গত সংসদ নির্বাচনে তিনি যশোর-৬ আসনে এই দলের হয়ে অংশ নিয়েছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় যশোরে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে যে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে সেগুলো হলো: কেশবপুরের বোগা গ্রামে এক নারীকে অপহরণ করে নির্যাতন এবং ধর্ষণ, চিংড়া গ্রামের চাঁদতুল্য গাজী ও তার ছেলে আতিয়ারকে অপহরণের পর হত্যা, হিজলাডাঙ্গা গ্রামের আবদুল মালেককে হত্যা, চিংড়া গ্রামের নুরুদ্দিন মোড়লকে নির্যাতন, মহাদেরপুর গ্রামের মিরণ শেখকে নির্যাতন ও ওই গ্রামে অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠন।