মেইন ম্যেনু

জালিয়াতির কৌশল আবিষ্কার করে ইগ নোবেল

পরীক্ষাগারে বায়ুদূষণের পরিমাণ কম দেখাতে জালিয়াতির কৌশল আবিষ্কারের জন্য জার্মান গাড়ি প্রস্তুত ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান ফোক্সওয়াগেন রসায়নে ইগ নোবেল পুরস্কার পেয়েছে।

মানবকল্যাণে ভূমিকা রাখার জন্য বিজ্ঞান, অর্থনীতি, সাহিত্য, শান্তিসহ ছয়টি বিভাগে প্রতিবছর নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়ে থাকে। আর ইগ নোবেল দেওয়া হয় হাস্যকর আর আজব ‌‘আবিষ্কারের’ জন্য। ১৯৯১ সালে ইগ নোবেলের প্রচলন শুরু হয় ‘প্রথমে হাসাবে, তারপর ভাবাবে’ স্লোগান সামনে রেখে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানবিষয়ক দ্বিমাসিক ব্যঙ্গাত্মক ম্যাগাজিন অ্যানালস অব ইমপ্রোবাবল রিসার্চ (এআইআর) এ পুরস্কারের আয়োজন করে থাকে। প্রতিবছরের শরতে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যান্ডার্স থিয়েটারে পুরস্কারটি প্রদানের আয়োজন করা হয়। গত বৃহস্পতিবার এ বছরের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানীরাও।

রসায়ন: পরীক্ষাগারে বায়ুদূষণের পরিমাণ কম দেখাতে জালিয়াতির কৌশল আবিষ্কারের করেছে জার্মান গাড়ি প্রস্তুত

ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান ফোক্সওয়াগেন। বিশেষ এক সফটওয়্যার ইনস্টলের কারণে এই প্রতিষ্ঠানের গাড়ি রাস্তায় যতটা দূষণ ছড়ায়, গবেষণাগারে পরীক্ষায় তার পরিমাণ অনেক কম দেখায়। ২০১৫ সালে জালিয়াতি ধরা পড়ার পর বিশ্বজুড়ে সরবরাহ করা এক কোটির বেশি গাড়িতে ওই সফটওয়্যার ব্যবহারের কথা স্বীকার করে ফোক্সওয়াগেন।

যৌনজীবনে প্যান্টের প্রতিক্রিয়া গবেষণার জন্য প্রজনন বিভাগে এবার ইগ নোবেল জিতেছেন মিসরের প্রয়াত ইউরোলজিস্ট আহমেদ শফিক। তিনি ইঁদুরের যৌনজীবনে পলেস্টার, সুতি ও পশমি প্যান্টের প্রতিক্রিয়ার ওপর গবেষণা করেছেন। পরে তিনি একই গবেষণা করেন মানুষের ওপরও। এসব গবেষণা নিয়ে ১৯৯২ সালে কন্ট্রাসেপশন জার্নাল ও ১৯৯৩ সালে ইউরোপিয়ান ইউরোলোজি জার্নালে তাঁর দুটি গবেষণাপত্রও প্রকাশিত হয়।

চিকিৎসাশাস্ত্র: এ বিভাগে পুরস্কার জিতেছেন ক্রিটোফ হেমচেন, কারিনা পালজার, থমাস মুন্তে, সিলকে আন্দার্স ও আন্দ্রিয়াস স্প্রেঙ্গার। শরীরের ডান পাশে কোনো স্থানে যদি খুঁজলি হয়, তাহলে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তাতে বাঁদিকে চুলকালে উপকার পাওয়া যায় বলে তাঁরা আবিষ্কার করেন। তবে সে চুলকানো আসলেই কোনো কাজে আসবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বেশির ভাগ মানুষ।

জীববিজ্ঞান: দুটি ভিন্ন বিষয়ে গবেষণার জন্য দুজন বিজ্ঞানী যৌথভাবে এ শাখায় পুরস্কার জিতেছেন। এর মধ্যে চার্লস ফস্টার জঙ্গলে পশুর জীবন যাপন অনুকরণ করে পুরস্কারটি জিতেছেন। তিনি বিভিন্ন সময় শিয়াল, পাখি, হরিণসহ বেশ কয়েকটি প্রাণীর মতো করে জীবন যাপন করেছেন বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ইগ নোবেল কর্তৃপক্ষ। আর থমাস থয়াইটনস পুরস্কারটি জিতেছেন প্রযুক্তির ব্যবহারে চার-পেয়ে প্রাণীর মতো নিজের হাত-পা বাড়িয়ে। তিনিও জঙ্গলে বাস করেন। তিনি ‘ছাগল মানব’ বলে পরিচিতিও পান।

উপলব্ধি: আৎসুকি হিগাশিয়ামা এবং কোহেই আদাচি উপলব্ধিতে যৌথভাবে ইগ নোবেল জিতেছেন এবার। তাঁরা গবেষণা করে বের করেছেন, সোজা অবস্থায় মানুষ যা দেখে, নিজের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে দেখলে ভিন্নভাবে দেখা যায় সব। ভিশন রিসার্চ জার্নালে ২০০৬ সালে তাঁদের এ গবেষণা প্রকাশিতও হয়।-প্রথম আলো