মেইন ম্যেনু

‘জাসদকে আশ্রয় দেওয়া রক্তের সঙ্গে প্রতারণা’

জাসদের নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার পিতার ‘রক্তের সঙ্গে প্রতারণা’ করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট তৈরির জন্য তৎকালীন জাসদকে দায়ী করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বক্তব্যকে সমর্থন করে এই বক্তব্য দেন রিজভী।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।

গত সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে ছাত্রলীগের এক অনুষ্ঠানে সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের নামে ছাত্রলীগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে জাসদ গঠন করে। জাসদের নেতা-কর্মীরা এই সফল মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছিল। বঙ্গবন্ধু দেশে ফেরার আগেই দেশকে ছিন্নভিন্ন করার চেষ্টা করেছিল।’

জনপ্রশাসনমন্ত্রী বলেন, ‘তারা যদি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার সমস্ত পরিবেশ সৃষ্টি না করত, তবে বাংলাদেশ একটি ভিন্ন বাংলাদেশ হতো। বঙ্গবন্ধু জীবিত থাকলে দেশ আগেই অর্থনৈতিক অগ্রসরতা অর্জন করত। শুধু হঠকারীদের কারণে তা সম্ভব হয়নি। এদের একজনকে আবার মন্ত্রিত্বও দেওয়া হয়েছে, যার প্রায়শ্চিত্ত আওয়ামী লীগকে আজীবন করতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম জাসদ সম্পর্কে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা দলের নেতা-কর্মীদের মনের কথা।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা উত্তর সময়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার পেছনে জাসদের ভূমিকা ছিল। জাসদের মধ্যে কিছু ভালো লোকও ছিল। কিন্তু ইনুর (তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু) নেতৃত্বে দেশকে অস্থিতিশীল করা হয়েছিল। রাজনৈতিক আন্দোলন চলতেই পারে, কিন্তু ইনুর কর্মকাণ্ড ছিল সন্ত্রাসী।’

তৎকালীন সময়ে অন্তত তিনটি বিতর্কিত ভূমিকার জন্য হাসানুল হক ইনুর বিচার হওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।

তিনি বলেন, ‘৭২-৭৫ সালে সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বে গুলি করা হয়েছিল; দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লিফলেট বিতরণ করে সেনাবাহিনীকে অস্থির করে তোলা এবং বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেওয়া; ভারতের কূটনৈতিকের ওপর আক্রমণ করেছিল, এটা একটি ভয়ংকর অপরাধ। এই তিন কারণে ইনুর বিচার হওয়া উচিত।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. শাখাওয়াত হোসেন জীবন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।