মেইন ম্যেনু

জাহাঙ্গীরনগরের বৃষ্টিবিলাস

শাহাদত হোসাইন স্বাধীন: ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। আষাঢ়ের বারিধারা,শরতের কাশফুল,শীতের কুয়াশা কি নাই বাংলার রূপে। যেকোন ঋতুর চেয়ে বর্ষা তার স্নিগ্ধ রূপে টানে প্রকৃতি প্রেমীদের। বৃষ্টিস্নাত কদম ফুল,সন্ধ্যার শিউলি ফুল আর শ্রাবণের বারিধারা বর্ষাকে করে অনিন্দ্য অপরূপ।বর্ষা প্রেমীরা বৃষ্টিতে ভিজে বৃষ্টির প্রেম আলিঙ্গন করে। কেউবা বেলকনিতে বসে বসে পথিকের ভিজে যাওয়া দেখতে দেখতে নিজের ভাললাগা খুঁজে পায়।

এমন কাউকে হয়তো খুজেঁ পাওয়া যাবে না যে কিনা কৈশোরে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে ফুটবল খেলে জ্বর বাধায় নি।

ইট পাথরের শহুরে বৃষ্টি আর গ্রাম বাংলার বৃষ্টির রূপ ভিন্ন। গ্রামের টিনের ঘরে বৃষ্টির শব্দ শুনতে শুনতে মুড়ি মোয়া খায়নি সে বাংলা মায়ের মমতা কি বুঝবে!!!

পর্যটনের মৌসুমে কক্সবাজার -বান্দরবন বা খাগড়াছড়ি ঘুরার মাঝে বাংলা মায়ের প্রকৃতি চেনা যায় না। বাংলার রূপ তো শীতের শিশির বিন্দু,হেমন্তের পাকা ধান আর আষাঢ়ের বারিধারায়।

ঢাকায় যারা বসবাস করেন শুধু পথিকের ভিজে যাওয়া দেখতে দেখতে বর্ষা কাটান!! ভাবছেন কোথাও ঘুরে আসবেন, বৃষ্টি বিলাসে যাবেন!! তাদের বৃষ্টি দেখতে যেতে হবে জাহাঙ্গীরনগরে।

প্রকৃতি দেবী নিজ কন্যা জাহাঙ্গীরনগরকে নিজ হাতে গড়েছেন। বৃষ্টিতে তার রূপের মাধূর্যতা বেড়ে যায় বহুগুণ। সবুজের মাঝে লাল লাল বিল্ডিং হয়ে নেমে আসে বৃষ্টি। ভিজিয়ে দিয়ে যায় বৃষ্টি প্রেমীদের। বর্ষার বাহারী ফুলে সাজানো জাহাঙ্গীরনগরের মেঠোপথগুলো। শহীদ মিনার যেনবৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া যেন গ্রামের অবাধ্য কিশোরী প্রতিরুপ। বর্ষায় ভিজে যাওয়া অমর একুশে নতুন কোন এক বিপ্লবের ডাক দেয়। বৃষ্টি ধারা যখন মুক্তমঞ্চের সিড়ি বেয়ে নেমে আসে যেন মনে হয় খৈলাস ঝর্ণা আজ প্রাণ পেয়েছে। তার পাশেই কদম ফুলের গাছ। বৃষ্টি ভিজছে আর বাতাসে দুলছে কদমফুল। এই কদমের জন্য হয়তো কোন এক প্রেমীকার মন ও দুলছে। জাহাঙ্গীরনগরের লেকগুলোতে বৃষ্টির নৃত্য যে কারো মনে নাড়া দিবেই। নৌকা নিয়ে নেমে যেতে পারেন বৃষ্টিতে নৃত্যরত লেকে। ঘুরে আসুন লেকের ওপারে।

মাথার ছাতা ফেলে ভিজে নেন বৃষ্টিতে। হাত বাড়িয়ে দেন।কেউ হাত ধরলেও ভিজবেন না ধরলেও ভিজবেন। এটা জাহাঙ্গীরনগরের বৃষ্টি।

খানিক ভিজে টিএসসি বৃষ্টির আড়ালে দাড়াঁবেন? দেখবেন বাগানবিলাস গাছগুলো এখনো ভিজছে।

বৃষ্টির চায়ের কথা শুধু শুনেছেন,খান নি কখনো। মনে করেন এসব প্রেমিক-প্রেমিকাদের অসচেতন মনের খেয়ালিপনা। টারজানে চুমুক দিতে পারেন বৃষ্টির চায়ের কাপে।

সবুজের বৃষ্টি,লেকের বৃষ্টি,কদম ফুলের বৃষ্টির মিলনমেলা জাহাঙ্গীরনগর। ফুটবল নিয়ে নেমে যাবেন কি বৃষ্টিতে? সেন্ট্রাল ফিল্ডে ফুটবল নিয়ে খুঁজে নেন হারানো কৈশোরকে। মনের আকাশের সমস্ত মেঘ ঝেড়ে ফেলুন জাহাঙ্গীরনগরের বৃষ্টিতে। নতুন ভাবে গড়ে নিন মনের সৌন্দর্য্য। গুছিয়ে নিন এলোমেলো স্বপ্ন গুলো।
শত ব্যস্ততা আর স্বার্থের এই পৃথিবীতে কিছুটা সময় ব্যয় করতে আসুন জাহাঙ্গীরনগরের বৃষ্টি বিলাসে।
জীবনের অর্থগুলো নতুনভাবে খুজেঁ পাবেন নিশ্চিত।

অবস্হান ও কীভাবে যাবেন:
ঢাকা অদূরে ২৭ কি.মি দূরে সাভারে অবস্হিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
ওয়েলকাম,ইতিহাস,বিআরটিসির যেকোন বাস অথবা নিজ গাড়ি নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন জাহাঙ্গীরনগর।