মেইন ম্যেনু

জিয়ার বগুড়ার দলীয় কমিটি হচ্ছে লন্ডনে!

বগুড়া জেলা বিএনপির বর্তমান কমিটি ভেঙে দিয়ে লন্ডন থেকে নতুন কমিটি গঠন করা হচ্ছে বলে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তবে নতুন কমিটির শীর্ষপদে কে কে আসছেন তা নিয়ে তৈরি হয়েছে কৌতুহল। নিজের পদ রক্ষায় ইতোমধ্যে লন্ডনে ছুটে গেছেন বর্তমান কমিটির সভাপতি ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত ভিপি সাইফুল ইসলাম।

দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, বিগত সময়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনে জেলা কমিটির অনেক নেতার নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় ক্ষুব্ধ হয়েই তারেক রহমান বগুড়া জেলা কমিটি পুনর্গঠনে হাত দিয়েছেন। কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী সম্মেলনের মাধ্যমে গেল ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তৃণমূল থেকে জেলা কমিটি গঠনের নির্দেশনা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা কমিটি করতে ব্যর্থ হওয়ায় ক্ষুব্ধ হন তারেক রহমান। এ কারণে আগের মতোই বগুড়ার কমিটি নিজ হাতে করার উদ্যোগ নিয়েছেন দলের ভবিষ্যৎ এ নেতা। তবে কমিটি নতুন হলেও সভাপতি পদে কোনো পরিবর্তন আসছে না বলে ধারনা করছে অনেক নেতাকর্মী।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর চোখ ও পায়ের চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। লন্ডনে অবস্থানরত ছেলে তারেক রহমানসহ স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করে সেখানেই অবস্থান করছেন দলীয় প্রধান।

একাধিক সূত্রমতে, লন্ডনে বসেই মা ছেলে মিলে সারাদেশের মতো বগুড়া জেলা বিএনপির কমিটিও পুনর্গঠন করছেন-এমন খবর পেয়েই সেখানে ছুটে গেছে জেলা সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম। তারেক রহমানের আস্থাভাজন এ নেতা আগেও বেশ কবার লন্ডনে গিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তবে এবারের লন্ডনযাত্রার গুরুত্ব আগের চেয়ে অনেক বেশি বলেই মনে করছেন নেতাকর্মীরা।

সরকারবিরোধী আন্দোলনে অনেক নেতার নিষ্ক্রিয়তা, চরম সঙ্কট মুহূর্তে মেধা ও কৌশলে নেতাকর্মীদের ধরে রাখা আর রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছে জেলার শীর্ষ নেতাদের। এর মধ্যে অনেকেই প্রশ্নের মুখে পড়েছেন। সেসব নেতাকে সরিয়ে দিয়ে নতুন ও উদ্যোমীদের কমিটিতে আনা হচ্ছে। সাধারণ সম্পাদক পদে জেলার ধনাঢ্য এক ব্যবসায়ীর নাম আলোচনায় উঠে এসেছে। এছাড়া সাংগঠনিক পদেও পরিবর্তন আনা হতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে। সূত্রমতে, কমিটি পুনর্গঠনে নিষ্ক্রিয়দের বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতাদেরই অগ্রাধিকার দেয়া হতে পারে।

শুধু জেলা কমিটিই নয়, শহর কমিটিতেও বড়ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। শহর কমিটির সভাপতি মাহবুবুর রহমান বকুলকে জেলা কমিটিতে স্থান দিয়ে জেলা যুবদল সভাপতি সিপার আল বখতিয়ারকে শহর কমিটির সভাপতি করা হতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সাংগঠনকি সম্পাদক মীর শাহে আলম বলেন, ‘লন্ডনে বসে কমিটি হচ্ছে এটা ঠিক না। কমিটির অনুমোদন দিয়ে থাকেন দলের মহাসচিব। লন্ডনে বসে কমিটির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হতে পারে।

অপরদিকে ৩৮টি মামলার আসামি হয়ে আত্মগোপনে থাকা জেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সদর থানা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেল জানান, খুব শিগগিরই জেলা বিএনপির কমিটি ঘোষণা হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান বগুড়া। সারাদেশের মধ্যে এ জেলা থেকেই বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন বিএনপি প্রার্থীরা। এ কারণে বগুড়া বিএনপি ঘাঁটি হিসেবে চিহ্নিত।

বিগত ২০১১ সালে ভিপি সাইফুল ইসলামকে সভাপতি, জয়নাল আবেদীন চাঁনকে সাধারণ সম্পাদক ও মীর শাহে আলমকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে বগুড়া জেলা বিএনপির কমিটি ঘোষণা করা হয়। ১৮৭ সদস্য বিশিষ্ট ওই কমিটির সহ-সভাপতি পদে ২০ জন আর যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক করা হয় ১০ জনকে। এছাড়াও উপদেষ্টা রয়েছেন ২০জন। এ কমিটির অধিকাংশ নেতাই ছিলেন বিগত আন্দোলন কর্মসূচিত নিষ্ক্রিয়।

অভিযোগ রয়েছে, জেলা বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার পাশাপাশি বিগত সময়ে সরকার দলীয় নেতাদের সঙ্গে লিঁয়াজো করে আন্দোলনে মাঠে নামেনি সরকারের সুবিধাভোগী অনেক নেতা। এসব নেতার ওপর চরম ক্ষুব্ধ মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। বাংলামেইল