মেইন ম্যেনু

জিয়া-এরশাদ-খালেদা ভারতের বড় দালাল : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জিয়াউর রহমান, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও খালেদা জিয়া ছিলেন ভারতের বড় দালাল। দালালির কারণে স্থল ও সমুদ্রসীমা চুক্তি, গঙ্গার পানিসহ বাংলাদেশের অধিকার আদায়ের কথা উচ্চারণই করেনি। তিনি বলেন, জাতির পিতা ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে সীমান্ত চুক্তি করে রেখে যান। আইন পাস করে রেখে যান। সংসদে সেই আইন পাস হয়। কই জিয়াউর রহমান, এরশাদ, খালেদা জিয়া যারাই ক্ষমতায় ছিলেন তারা কেউ তো কখনও একবারের জন্যও সীমানার দাবি করেনি। সীমানা নির্দিষ্ট করার পদক্ষেপও নেয়নি। তাদের দালালি এমনভাবে ছিল যে তারা সে কথা উচ্চারণই করেনি।

শনিবার দুপুরে খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে যুব মহিলা লীগের সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি শান্তির প্রতীক পায়রা অবমুক্ত করেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা, যুব মহিলা লীগ সভাপতি নাজমা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল প্রমুখ।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের উপস্থিত ছিলেন। বিকেল ৩টা থেকে সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয়। এ অধিবেশনে যুব মহিলা লীগের নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়। ২০০২ সালের ৬ জুলাই প্রতিষ্ঠার পর ২০০৪ সালের ৫ মার্চ যুব মহিলা লীগের প্রথম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। আজ দ্বিতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্রসীমা আইনও জাতির পিতা করে রেখে যান। জিয়া, খালেদা ও এরশাদ সরকার ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের সমুদ্রসীমা নিয়ে কোনো আলোচনা, মামলা বা পদক্ষেপ নিয়েছেন? নেননি। কেন নেননি? যদি এতই দেশপ্রেমিক হবেন দেশের এ সমস্যার কথা তোলেননি কেন?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে অনেকের মুখে শুনি খুব ভারতবিরোধী কথা। তিনি বলেন, যারা ভারতের কাছ থেকে কিছুই আদায় করতে পারেননি তারা এখন আবার খুব ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। এসব খেলা বহু তারা খেলেছেন। তাদের কোনো দেশপ্রেম নেই। ক্ষমতাটা তাদের কাছে ভোগের বস্তু মনে হয়। ২ ০০১ সালে খালেদা জিয়া মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন মন্তব্য করে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে যখন আমেরিকান কোম্পানি আমাদের গ্যাস বিক্রি করতে চাইল ভারতের কাছে, তথন ভারতের কাছে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। দিয়েই তো ক্ষমতায় এসেছিলেন। আমি তো দেইনি। আমি চেয়েছিলাম আগে দেশের মানুষের কাজে লাগবে, ৫০ বছরের রিজার্ভ থাকবে। তারপর আমরা ভেবে দেখব বিক্রি করব কি করব না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাদের বিরুদ্ধে এত কথা বলে, এখানে সেই ‘র’ (ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা) এর প্রতিনিধি, সে তো হাওয়া ভবনে বসেই থাকতো। আমেরিকান অ্যাম্বাসির লোক হাওয়া ভবনে বসেই থাকতো। ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে সম্পূর্ণভাবে হারাবে এবং এখান থেকে গ্যাস নেবে।

এ বিষয়ে খালেদা জিয়া কিন্তু মুচলেকা দিয়েছিলেন। তাদের মুখে আবার এত ভারতবিরোধী কথা। গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আরেকটা প্রশ্ন রাখি, ’৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসলো। ক্ষমতায় এসে ভারত গেল। ভারত গিয়ে উনি বেশ ঘুরে টুরে আসলেন। যখন এখানে সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করলেন, গঙ্গার পানির কি হলো। তিনি বললেন, ওহ হো ওটা বলতে আমি ভুলেই গিয়েছিলাম।

শেখ হাসিনা বলেন, (খালেদা জিয়া) ভারতবিরোধী কথা বললেন, তার আগে উনি গঙ্গার পানি আদায়ের জন্য ফারাক্কা পর্যন্ত লংমার্চও করেছিলেন। আন্দোলন করেছিলেন কিন্তু ভারত গিয়ে গঙ্গার পানির কথা ভুলেই গেলেন। দালালিটা করে কে? আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরপরই আমরা কিন্তু গঙ্গার পানি ন্যায্য হিস্যা আদায় করেছি।

আজকে তারা নির্বাচন নিয়ে কথা বলে। জিয়াউর রহমান তো অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছিলেন সংবিধান লঙ্ঘন করে। নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীর হাতে বিএনপির সৃষ্টি। তাদের হ্যাঁ-না ভোট, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, সংসদ নির্বাচন, ’৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন, মাগুরা উপ-নির্বাচন, মিরপুর উপ-নির্বাচনসহ বিভিন্ন নির্বাচনের তথ্য যদি দেখি। এদেশে কবে, কখন, অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন তারা করেছে বা করতে পেরেছে। তাদের ইতিহাসে আছে ভোট কারচুপি, অতিরিক্ত ব্যালট পেপার ছাপানো। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে ভোটের রেজাল্ট ছিনিয়ে নেয়া।

যুব মহিলা লীগকে সুসংগঠিত করার নির্দেশনা দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, যেকোনো অবস্থা মোকাবেলা করার মতো শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তুলতে হবে। নারীর ক্ষমতায়ন, নিরাপত্তা, কর্মসংস্থানসহ নারীর উন্নয়নে সরকারের নেয়া কাজগুলো ব্যাপকভাবে প্রচার করতে যুব মহিলা লীগ নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।